ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

শ্রীলংকাকে কঠিন কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে: ড. মোস্তাফিজ

কাবেরী মৈত্রেয়, একাত্তর
প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২২ ১৯:৫৫:৫১ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২২ ২০:১৫:৩২
শ্রীলংকাকে কঠিন কৃচ্ছতা সাধন করতে হবে: ড. মোস্তাফিজ

নিজেদের ঋণ খেলাপি হিসাবে ঘোষণা করেছে শ্রীলংকা। কেন এই ঘোষণা? এই ঘোষণার কি কোন পূর্বাভাস ছিলো? আইএমএফ কি শ্রীলংকাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসবে? একাত্তরকে এরকম নানা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। 

একাত্তর: শ্রীলংকা নিজেকে ঋণ খেলাপি হিসাবে ঘোষণা দিলো কেন?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: ঋণের যেই অর্থ তাদের ফেরত দেওয়ার কথা ছিল সেটা এখন তারা ফেরত দিতে পারছে না এবং ঋণের অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য তারা রি-শিডিউলিং-এর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু এখন সেটাও তারা দিতে পারছে না। ফলে তাদের নিজেদের খেলাপি ঘোষণা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। 

ঋণের ফাঁদে আটকা শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকটের কারণ ...একাত্তর: এই পরিস্থিতে আমরা আগে লেবাবন, ভেনিজুয়েলার মত দেশকে পড়তে দেখেছি। শ্রীলংকার জন্য এখন করণীয় কি হতে পারে বলে মনে করেন? 

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: শ্রীলংকা ইতিমধ্যে নিগোশিয়েট করা শুরু করেছে। তারা আইএমএফ এর কাছে গেছে। কিন্তু আইএমএফ থেকে ঋণ পেতে হলে তাদেরকে প্রথমে নিজেদের অর্থনীতিকে স্টেবিলাইজড করতে হবে। এই ঋণের সাথে আসবে নানান শর্ত। ইতোমধ্যে তারা চায়নার সাথে লোন ডেফার করেছে। কারেন্সি সোয়াপ করেছে। ভারত তাদের ইমারজেন্সি লোন দিয়েছে বন্দর করার জন্য। এগুলো করেও তারা সামাল দিতে পারে নাই। তারা চেষ্টা করছিল এই ঋণগুলো আইএমএফ থেকে টাকা নিয়ে শোধ করতে। কিন্তু আইএমএফ তো একদুই দিনের ভেতর ঋণ দিয়ে দেবেনা।  আইএমএফ এর কাছ থেকে ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি অনেক দীর্ঘ। পাশাপাশি এই ঋণের সাথে অনেক শর্তজুড়ে দেবে আইএমএফ। 

একাত্তর: তারা কি এই পরিস্থিতির কোন পূর্বাভাস পায়নি?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: শ্রীলংকা এখন এমন এক জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে যেখানে কোন পূর্বাভাসে কাজ হবে না। তাদের অর্থনীতিতে চরম অব্যবস্থাপনা চলছে অনেকদিন থেকেই। কারণ এই ধরনের সমস্যা যখন চলতে থাকে তখন কিন্তু আগে থেকেই টের পাওয়া যায়। অব্যাবস্থাপনা না থাকলে আইএমএফ এর সাথে এই নেগসিয়েশনগুলো আগেই শুরু করা যেতো। তারা সময়মত স্টেপগুলো নিতে পারে নেই। ফলে শ্রীলংকায় এখন যেটা চলছে সেটাকে এক কথায় বলা যায় ফাইনেন্সিয়াল মিস ম্যানেজমেন্ট এন্ড ম্যাক্রো ইকোনমিক মিস ম্যানেজমেন্ট।

অভ্যুত্থানের ঠিক আগে মিয়ানমারকে বিপুল অঙ্কের সহায়তা দেয় আইএমএফ | প্রথম  আলো

একাত্তর: আইএমএফ এর সাথে কি তাদের দ্রুত নেগশিয়েসন হবার সম্ভাবনা রয়েছে?

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: আমার সেরকম মনে হয় না। আমার ধারণা আইএমএফ এর সাথে শ্রীলংকার দ্রুত নেগশিয়েসন হবার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এখন দেখতে হবে তাদেরকে চীন বা ভারত উদ্ধার করে কি-না। যেসব দেশ তাদের কাছে টাকা পেতো তাদের সাথে এখন শ্রীলংকাকে রি-নেগসিয়েশন করতে হবে এবং রি-নেগসিয়েশনে তাদের অনেক শর্ত মেনে নিতে হবে। চলমান ঋণগুলোর ওপর বাড়তে পারে সুদের হারও। 

এমনিতেই অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের ঋণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলোর সূচক এখন আরও খারাপ হবে। ফলে ঋণের শর্ত এবং সুদের হার বাড়বে। এভাবে একটা ঋণের দুষ্টচক্রে পড়ে গেছে শ্রীলংকা।
শ্রীলংকার অর্থনীতি যেসব কারণে বিপর্যস্ত

একাত্তর: তাহলে শ্রীলংকায় বসবাসরত মানুষগুলো কি তাহলে ঋণের ফাঁদে বন্দী হয়ে পড়লো? 

ড. মোস্তাফিজুর রহমান: তা তো বটেই। ফাইনেন্সিয়াল সেক্টরে এরকম একটা সমস্যা তো মূল অর্থনীতিতে পড়বেই। শ্রীলংকাকে এখন কড়া কৃচ্ছতা সাধনের দিকে যেতে হবে। যাতে করে ব্যালেন্স  অব পেমেন্টগুলোকে তারা আরেকটু ভালো করতে পারে।

এবং এই কৃচ্ছতা সাধনের দিকে যেতে গেলে তাদের ট্যাক্স বাড়ানো থেকে শুরু করে কমাতে হবে ভর্তুকি। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান কমবে এবং ব্যায় বাড়বে। নাগরিকদের একটা কষ্টকর জীবনযাপন করতে হবে।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৪ দিন ৮ ঘন্টা আগে