ঢাকা ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

পদ্মা সেতু নিয়ে কে কি বলেছিলেন, মনে করিয়ে দিলেন হাসিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২২ জুন ২০২২ ২৩:১৯:৩৯ আপডেট: ২২ জুন ২০২২ ২৩:৩২:০৮
পদ্মা সেতু নিয়ে কে কি বলেছিলেন, মনে করিয়ে দিলেন হাসিনা

পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক অযৌক্তিভাবে সরে দাঁড়ানোর পর, বাংলার মানুষের এই বহুল প্রত্যাশার অবকাঠামো নিয়ে দেশে কারা কারা নেতিবাচক কথা বলেছিলেন, তাদের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

প্রধানমন্ত্রী বুধবার তাঁর কার্যালয়ের শাপলা হলে চলমান বন্যা পরিস্থিতি এবং ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সেসব কথা জানান। সেই সঙ্গে তিনি জানান, যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদেরও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে দাওয়াত দেয়া হচ্ছে।

দুর্নীতির মিথ্যা অভিযোগে পদ্মা সেতুর প্রধান ঋণদাতা বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের জন্য ঋণ প্যাকেজ বাতিল করলে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণে হাত দেয় সরকার। তখন থেকেই বিরোধী দল বিএনপিসহ কিছু অর্থনীতিবিদ ও সুশীল নাগরিক প্রকল্প নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। ।

২০১১ সালের ১৭ অক্টোবর বিএনপির চেয়ারপার্সর বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের কোন উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অর্থায়ন বাতিল করলো। প্রধানমন্ত্রী এ সময় মনে করিয়ে দেন, বিএনপি-জামায়াত আমলেও দুইটি বড় প্রকল্পের অর্থায়ন থেকে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়িয়েছিলো দুর্নীতির অভিযোগ এনেই। 


বিএনপি নেত্রী ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি ছাত্রদলের এক আলোচনায় বলেন, পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। অনেক রিস্ক আছে।

২০১২ সালের ১ জুলাই ড. আকবর আলি খান বলেছিলেন, বিশ্ব ব্যাংকের এমন সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশের পক্ষে পরবর্তীতে ঋণ সহায়তা পাওয়া খুব দুষ্কর হয়ে পড়বে। যখনই কোন দাতা সংস্থা কোন নতুন প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী হবে, তারা দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশকে ভিন্ন চোখে দেখবে। সরকার যদি বিকল্প অর্থায়নে পদ্মা সেতু কাজ শুরু করে, তাহলে খরচ অনেক বেড়ে যাবে, কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাবে।

এই কথার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি পদ্মা সেতুর কাজের মান নিয়ে কেউ কখনও প্রশ্ন তুলতে পারবে না। তাই এই কথার কোনও ভিত্তি নেই।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছিলেন যে, দুর্নীতি যে আমাদের পেছনে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এবং দেশের উন্নয়নের ধারাকে নষ্ট করছে, এই ঘটনা তারই আরেকটি উদাহরণ।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ আলী আহসান মনসুর বিশ্ব ব্যাংকের অভিযোগকে ‘দুঃখজনক ঘটনা’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেছিলেন, সুশাসনের অভাবে দেশের সর্ববৃহৎ প্রকল্প আজ অনিশ্চয়তার মুখে।

এ কথার প্রতিক্রিয়া আওয়ামী লীগের সভানেত্রী বলেন, দুর্নীতিটা কোথায় দেখলেন? কানাডার আদালতই প্রমাণ করতে পারলো না, কিন্তু উনারা দুর্নীতি দেখেন।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, বিকল্প উৎস হতে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন করতে সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা দৃষ্টি সরানোর উপায় বলে মনে হতে পারে। যদি এই সিদ্ধান্ত সফলও হয় তাতেও সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে না।


এ কথার জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গ্রহণযোগ্যতা আন্তর্জাতিকভাবে আছে কিনা, আপনারাই বিচার করবেন। বাংলাদেশের জনগণ বিচার করবে।

২০১২ সালের ১০ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, বিশ্বব্যাংক সুনির্দিষ্টভাবে তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে- প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী এবং সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী। আর দলটির প্রয়াত নেতা এম কে আনোয়ার বলেছিলেন, নিজস্ব অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করার মতো ক্ষমতা বাংলাদেশের নাই।

২০১২ সালের ২৩ জুলাই বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার ১০ মাস পর যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগ এটাই প্রমাণ করে যে এই প্রকল্পে আসলেই দুর্নীতি হয়েছে।

২০১২ সালের ২৪ জুলাই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, আবুল হোসেনের পদত্যাগ এটাই প্রমাণ করে যে দুর্নীতির সকল অভিযোগ সত্য। তিনি যদি আরও আগেই পদত্যাগ করতেন তাহলে (বিশ্বব্যাংক) ঋণচুক্তি বাতিল করতো না।

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছিলেন, এখন অনেক দেরি হয়ে গেলো। কয়েক মাস আগে বিশ্বব্যাংক যখন দুর্নীতির অভিযোগ আনলো তখনই (পদত্যাগ) হওয়া উচিত ছিল। আর ড. আকবর আলি খান বলেন, অনেক দেরিতে আসলো এই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত, আরও আগেই হওয়া উচিত ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ বলেছিলেন, আবুল হোসেন যদি দেশপ্রেমিক হয় তাহলে দেশপ্রেমিক নয় কে? তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সমর্থন এটাই প্রমাণ করে যে জনগণের অর্থ আত্মসাৎকারীদের রাজনৈতিক দলে থাকার অধিকার রয়েছে।


২০১৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আলি ইমাম মজুমদার বলেন, পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে দুদক নিজেদের দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। দুদক যদি নিজেদের দায়িত্ব পালন করতো তাহলে বিশ্ব ব্যাংক অর্থায়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতো না। উন্নয়ন সহযোগীদের পাশাপাশি দেশের জনগণও দুদকের কাছ থেকে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ ভূমিকা আশা করে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রাক্তন গভর্নর ড. সালেহ উদ্দীন বলেন, নিজ অর্থায়নে সরকার পদ্মা সেতু করার যে পরিকল্পনা করেছে তা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তবে সরকার ইচ্ছা করলে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করতে পারবে; কিন্তু শেষ করতে পারবে না।

এমন বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চাই তাকে দাওয়াত দিতে। এটা যে শেষ হয়েছে, তিনি যেন পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে একটু যান। আমরা দাওয়াত দিচ্ছি। সবাইকে দাওয়াত দেবো, যারা এ কথা বলেছেন, সবাইকে দাওয়াত দেবো।

আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, পদ্মা সেতু দেশি অর্থায়নে হবে না, সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে টিপ্পনি কেটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বলেন, শাহদীন মালিক স্বাধীন কথা বলেন। তিনি বলেছিলেন, পদ্মা সেতু দেশীয় অর্থায়নে সম্ভব নয়। কিন্তু সম্ভব হয়েছে। তাকে দাওয়াত দিচ্ছি, তিনি যেন পদ্মা সেতুতে আসেন।’

২০১২ সালের ১ জুলাই পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পারলেও শেষ করার গ্যারান্টি থাকবে না। এই মুহূর্তে সরকার নিজস্ব অর্থে করতে গেলে ডলারের দাম আরও বেড়ে যাবে এবং টাকার মান ব্যাপকভাবে কমে যাবে। বাড়বে অযাচিত মুদ্রাস্ফীতি।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কিন্তু শেষ করেছি। তাকেও দাওয়াত দিচ্ছি, পদ্মা সেতুটা গাড়িতে পাড়ি দিতে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ডক্টর দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে অনেক বৈদেশিক মুদ্রা প্রয়োজন, যা জোগান দিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পড়বে। এর দায় সরকার এড়াতে পারবে না। তবে এজন্য তাদেরও ভয়ঙ্কর নতুন সমস্যায় পড়তে হবে।

মন বক্তব্যের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের রিজার্ভ কিন্তু এখনও ৪২ বিলিয়ন। বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ পড়েনি। সঙ্গে অন্য প্রকল্পগুলোও করে যাচ্ছি।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এই মুহূর্তে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু শুরু করা হলে দেশের অন্যসব অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে কাজগুলো করা যেত সেগুলো আর হবে না। তার এমন বক্তব্যের জবাবে সরকার প্রধান বলেন, সব কাজ কিন্তু চলছে। কোনোটা কিন্তু থেমে যায়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, আমি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের মেয়ে। আমি যেটা পারবো, সেটাই বলবো। যেটা বলবো, করবো। করে দেখাতে পারি, সেটা করেছি। এজন্য দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞ।

বিশ্বব্যাংক সরে যাওয়ার পরে অধ্যাপক জামিলুর রেজাসহ যেসব বিশেষজ্ঞ প্যানেল সরকারকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। এই উপদেষ্টা প্যানেল সরকারের পাশে না দাঁড়ালে হয়তো পদ্মা সেতু সম্ভব হতো না বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী।

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৯ দিন ২২ ঘন্টা আগে
শাকিব-বুবলীর বিয়ে নিয়ে জানা গেলো

শাকিব-বুবলীর বিয়ে নিয়ে জানা গেলো

১ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে
আড়াই বছর গোপন থাকলো কিভাবে?

আড়াই বছর গোপন থাকলো কিভাবে?

৩ ঘন্টা ১৫ মিনিট আগে
ভাই পেলো আব্রাম খান জয়

ভাই পেলো আব্রাম খান জয়

১ দিন ৪ ঘন্টা আগে