ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

'বাংলাদেশ কেন শ্রীলঙ্কার মতো সংকটে পড়বে না'

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৩ আগষ্ট ২০২২ ১২:৫৫:৪৯ আপডেট: ০৩ আগষ্ট ২০২২ ১৩:৫৪:৫৯
'বাংলাদেশ কেন শ্রীলঙ্কার মতো সংকটে পড়বে না'

শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের অর্থনীতির মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে এবং বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যেই উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করায়- অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে শ্রীলঙ্কার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের বিশিষ্ট গবেষক ও বিশ্লেষক জন রোজারিও। 

সোমবার ব্যাংকক পোস্টের এশিয়ান ফোকাসে প্রকাশিত 'বাংলাদেশ কেন শ্রীলঙ্কার মতো সংকটে পড়বে না' শীর্ষক নিবন্ধে এসব কথা বলেন তিনি। 

বাংলাদেশের কৌশল, নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ব্যাপারে আগ্রহী কর্নাটক ভিত্তিক এই গবেষকের নিবন্ধে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সামনে এই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখতে ইতোমধ্যেই খুব সতর্কতার সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা হট টপিকে পরিণত হয়েছে এবং বিশ্লেষকরা অন্যান্য উদীয়মান বাজারের অর্থনীতির দেশগুলোতেও একই ধরণের সংকটের লক্ষণ অনুসন্ধান করছেন।

তিনি আরও বলেন, ঋণ সংকটের মুখে বা আরো গভীর সংকটে পড়ার আশংকা রয়েছে- এমন দেশগুলোর সাথে বাংলাদেশকে একই কাতারে সামিল করাটা অন্যায্য হবে।

ব্লুমবার্গের তথ্যের ভিত্তিতে ভিজুয়্যাল ক্যাপিটালিস্ট ওয়েবসাইটে সম্প্রতি ঋণের ঝুঁকিতে থাকা ২৫টি দেশের যে তালিকা দিয়েছে- তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাশিয়া, জাম্বিয়া, লেবানন ও অন্যান্য দেশগুলো বর্তমানে এই কাতারেই রয়েছে।

বেলারুশ দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আরও বারটি দেশ- আর্জেন্টিনা, ইউক্রেন, তিউনিসিয়া, ঘানা, মিশর, কেনিয়া, ইথিওপিয়া, এল সালভাদর, পাকিস্তান, ও ইকুয়েডোর ক্রমবর্ধমান মুদ্রাস্ফিতী ও উচ্চ ঋণের চাপের কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বাংলাদেশ এই তালিকায় নেই।

তিনি বলেন, হ্যাঁ, বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে- তবে কর্তৃপক্ষ খুব সতর্কতার সাথে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নানা ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যহ্রাস পেয়েছে, নগদ অর্থের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রেরণকারীদের নানাভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে এবং বিলাসজাত দ্রব্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানো হয়েছে। সরকারের এই অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী করতে সহায়তা করছে- যাতে করে বৈদেশিক চাহিদা সহজেই মেটানো সম্ভব হয়।  

এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের রপ্তানী বৃদ্ধি ও আমদানি হ্রাসের নীতিও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অবদান রাখছে বলে জানান তিনি।

তার মতে, অর্থনীতির ওপর কোভিড-১৯ মহামারির বিরূপ প্রভাব- যা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আরও ঘণীভূত হয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। এই যুদ্ধ বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি গোটা বিশ্বের সংকট আরো বাড়িয়ে দিয়েছে।

তিনি নিবন্ধে বলেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে, দেশটিকে আমদানি-রপ্তানীর মাঝে বিদ্যমান ঘাটতি লাঘবের পাশাপাশি অবশ্যই মূল্যস্ফীতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। যদিও অন্তত তিন মাসের আমদানি খরচ মেটানোর মতো ঢাকার যথেষ্ট রিজার্ভ রয়েছে। কিন্তু যদি দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আরো দুর্বল হয়ে পড়ে- তবে রিজার্ভ নিঃশেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জন রোজারিও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যয় সঙ্কোচনের ওপর জোর দিয়েছেন এবং ব্যয় হ্রাস করে সাশ্রয়ী উপায়ে উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করতে মন্ত্রী ও বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো সম্পন্ন করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং অর্থনীতির ওপর থেকে চাপ কমাতে কম-গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো স্থগিত রাখতে বলেছেন।

আরও পড়ুন: ‘তাইওয়ানের স্বাধীনতাকামী’দের আইনানুগ শাস্তি দেবে চীন

তিনি বলেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোও বারবার জানাচ্ছে যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতির সাথে শ্রীলঙ্কার তুলনা করার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই।

প্রসঙ্গত, শ্রীলঙ্কার অর্থনীতি ব্যাপকভাবে পর্যটনের ওপর নির্ভরশীল- মহামারীকালে এই শিল্পে ধস নেমেছিল। এর ফলে, দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ খুব দ্রুত কমতে থাকে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল ভিত হচ্ছে এর তৈরি পোশাক শিল্প ও বিদেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের পাঠানো রেমিটেন্স।

  

একাত্তর/আরবিএস   

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ১০ ঘন্টা আগে