ঢাকা ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

নাপিতের কাছে চাঁদা চেয়ে বরখাস্ত হলো পুলিশ

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ আগষ্ট ২০২২ ২১:৫২:৫১ আপডেট: ০৫ আগষ্ট ২০২২ ২২:১৭:৫৯
নাপিতের কাছে চাঁদা চেয়ে বরখাস্ত হলো পুলিশ

তরুণ শীল নামে এক নাপিতের বাড়িতে গিয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগে বগুড়া সদর থানার এসআই মাসুদ রানাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় তাকে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।

জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরে শহরের নাটাইপাড়ার ওই নাপিতের বাড়িতে জুয়া খেলার বিষয়ে খোঁজ করতে যান এসআই পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা। এ সময় ওই নাপিতকে মারধর করা হয়। এতে স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে এসআই ও তার সোর্স ইকবাল হোসেনকে অবরুদ্ধ করে। পরে স্থানীয়দের জরুরী সেবা ৯৯৯ এ ফোনে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসেন।

ইকবাল পুলিশের কাছে আটক রয়েছেন। ইকবাল সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বাসিন্দা। তবে বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলায় তিনি ভাড়াবাড়িতে বসবাস করেন।

তরুণ শীল শহরের সাতমাথার শাপলা হেয়ার কাটিং নামে একটি সেলুনে কাজ করেন। পাশাপাশি তিনি একটি সমিতিও পরিচালনা করতেন। মারধরে আহত হওয়ায় তরুণ শীলকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়,  শুক্রবার দুপুরে জুয়া খেলার ওপর খোঁজ নিতে শহরের নাটাইপাড়া এলাকার তরুণের বাড়িতে যান এসআই মাসুদ ও তার সোর্স ইকবাল। ওই বাড়িতে গেলে এসআই মাসুদের সঙ্গে স্থানীয়দের ঝামেলা তৈরি হয়। এতে স্থানীয়রা এসআই ও তার সোর্সকে বাড়ির ভিতর অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তরুণ সেলুনের কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত। শুক্রবার দুপুরে এসআই মাসুদ ও তার সোর্স ইকবাল নাটাইপাড়ায় তরুণের বাড়িতে এ জুয়া খেলার বিষয়ে খোঁজ নিতে যান। কিন্তু তারা সেখানে গিয়ে তরুণের পরিবারের কাছে চাঁদা দাবি করেন। এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তখন এসআই মাসুদ ও সোর্স ইকবালকে বাড়ির ভিতর অবরুদ্ধ করে। এর কিছুক্ষণ পর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে এসআই মাসুদকে উদ্ধার করে। আর ইকবালকে আটক করে। 

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে তরুণের স্ত্রী সুবর্না রানী বলেন, দুপুরে ইকবাল ও এসআই মাসুদ বাড়িতে আসে। এসে জিজ্ঞেস করে তরুণ কে? তরুণ নিজের পরিচয় দিলে ঘরের ভিতর তার সাথে কথা বলতে শুরু করেন ওই পুলিশ। কিন্তু আমাদের কাউকে ওখানে আসতে দিচ্ছিল না। গেলেও ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হচ্ছিল। আমি পরে জোর করে ভিতরে ঢুকি। এ সময় আমার স্বামী তরুণকে তারা বলে ২০ লাখ টাকা দে। এ সময় আমার দেবরের হাতে থাকা মোবাইল কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে। তার হাত মুচড়ে দেয়। তখন চিৎকার দিলে আশেপাশের সবাই ছুটে আসে। 

সুবর্না জানান, তার স্বামীকেও ওই পুলিশ মারধর করে। তরুণের মাথা ও হাতে আঘাত লেগেছে। এ জন্য  বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

এসব বিষয় নিশ্চিত করে সদর থানার ওসি সেলিম রেজা বলেন, এসআই মাসুদ থানায় কোনো কিছু না জানিয়ে সাদা পোশাকে নাটাইপাড়া ওই বাড়িতে গিয়েছিলেন। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। আর ইকবাল নামে ওই সোর্স থানায় আটক রয়েছে। 


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৯ দিন ২১ ঘন্টা আগে