ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

আড়াই কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ালো বার্ন ইনিস্টিটিউট

পারভেজ রেজা, একাত্তর
প্রকাশ: ১০ আগষ্ট ২০২২ ২১:৫৮:৫৭ আপডেট: ১০ আগষ্ট ২০২২ ২২:১২:২৫
আড়াই কোটি টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পোড়ালো বার্ন ইনিস্টিটিউট

মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ায় শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিটিউটে দুই কোটি ৫১ লাখ টাকার ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। 

ইন্সটিটিউটের পরিচালকের দাবি, করোনার সময় রোগী কমায় ওষুধগুলোর মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে। তিনি বলছেন, মেয়াদ শেষের আগে ওষুধগুলো অন্য হাসপাতালে দিতে চাইলেও কেউ তা নিতে রাজি হননি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। 

শেখ হাসিনা বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনিস্টিটিউটের বেসমেন্ট দুইয়ে অনেকটা গোপনেই চলছিলো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পুড়িয়ে ফেলার কাজ। বুধবার সকালে সেখানে যেতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন এই প্রতিবেদক।

টানা তিন দিন ধরে ছদ্মবেশে এই কার্যক্রমের ওপর নজর রাখছিলো একাত্তর। হাসপাতালের ৬, ১১ ও ১৩ তলা থেকে বেসমেন্টের দুইয়ের বিভিন্ন জায়গায় ওষুধগুলো স্তুপ করে রাখা হয়। 

একজনকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি জানান, যা নামানো হয়েছে তার চেয়েও আরও ২৫ গুন বেশি ওষুধ গুদামে আছে। যার সবই মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে।  

এর মধ্যে সাধারণ স্যালাইন থেকে শুরু করে, দামী অ্যান্টিবায়োটিকও আছে। যা হাসাপতালের বর্জ্য পোড়ানোর মেশিনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে। 

বার্ন ইনিস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের দাম অন্তত ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। 

তার দাবি, এগুলো তার সময়ে নয়; বরং হাসপাতাল চালুর আগে ২০১৮ সালে কেনা হয়। বিপুল পরিমান ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হবার জন্য করোনাকে দায়ী করছেন এই পরিচালক।

কিন্তু রোগ নিয়ন্ত্রণ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. বে-নজীর আহমেদ এই যুক্তি মানতে নারাজ। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের একজন নার্স জানিয়েছেন, ২০২০ সালের দিকে ওয়ার্ডে কাজ করার সময় চাহিদা না দেওয়া সত্বেও সিকোম্যাক্স নামের একটি অ্যান্টিবায়োটিক স্টোর কিপার তাদের কাছে পাঠিয়ে দিতেন। যা নিয়ে বিভিন্ন মিটিংয়েও কথা হয়েছে। শেষে ঝামেলা এড়াতে বাধ্য হয়ে সেই ওষুধ তারা কমোডে ফেলে দিতেন। 

এই বিষয়ে ব্যপক অনুসন্ধান চালনোর কথা বলছেন দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান টিআবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। 

আর হাসপাতাল পরিচালক জানিয়েছেন, বছরে তাদের ৭ থেকে ১০ কোটি টাকার ওষুধ দরকার। হাসপাতালটি শুরু করার সময় তারা ১৭ কোটি টাকার ওষুধ কিনেছিলেন। 


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৮ দিন আগে