ঢাকা ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

কুশিয়ারার ১৫৩ কিউসেক পানি পাবে বাংলাদেশ ও ভারত

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:০৯:৪৯
কুশিয়ারার ১৫৩ কিউসেক পানি পাবে বাংলাদেশ ও ভারত

ভারত-বাংলাদেশের অভিন্ন সীমান্ত নদী কুশিয়ারা থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলন করতে পারবে ভারত ও বাংলাদেশ।

বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দিল্লিতে মন্ত্রিসভার বৈঠকে এর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

ফলে এক নভেম্বর থেকে ৩১ মে- এই শুষ্ক মৌসুমে ভারত এবং বাংলাদেশ উভয় দেশই কুশিয়ারা নদী থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলন করতে পারবে। 

ভারত সরকারের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে হওয়া এই সমঝোতা স্মারকটি আসাম সরকারকে শুষ্ক মৌসুমে কুশিয়ারা নদীর সাধারণ প্রবাহ থেকে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনে সক্ষম করবে। 

বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে উভয় পক্ষের পানি উত্তোলনের ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণের জন্য উভয় দেশের তরফেই একটি যৌথ মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। 

গত ছয় সেপ্টেম্বরের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে যে সাতটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে, তার একটি হলো কুশিয়ারা নদীর পানি উত্তোলন সম্পর্কিত। দিল্লীতে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ-ভারতের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। 

ভারতের বরাক নদী সিলেটের জকিগঞ্জের অমলসীদ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে সুরমা ও কুশিয়ারায় ভাগ হয়েছে। কুশিয়ারার উৎসমুখ থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে শরীফগঞ্জ বাজার। এই বাজারের কাছেই কুশিয়ারা নদী থেকে উৎপত্তি রহিমপুর খাল। প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রাকৃতিক খাল থেকেই উৎপত্তি হয়েছে আরও অসংখ্য খালের। ওই এলাকার কৃষকদের সেচের প্রধান উৎস এই খালগুলো। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে সেই খাল একেবারেই শুকিয়ে যায়। আবার বর্ষাকলেও পানি থাকে না এই খালগুলোতে। 

এর কারণ রহিমপুর পয়েন্ট। এই পয়েন্টটি অনেকটা উঁচু হওয়ার কারণে বর্ষার মৌসুম বাদে উচ্চতার কারণে শীতকালে বা শুষ্ক মৌসুমে আমন ধান চাষের সময় এমনকি বর্ষার মৌসুমেও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হলে পানির লেভেল যখন কমতে থাকে তখন কুশিয়ারা থেকে রহিমপুর খালে আর পানি প্রবেশ করতে পারে না। 

ফলে পানির অভাবে শুষ্ক মৌসুমে পুরো অঞ্চলটিতে কোন কৃষি কাজ করা সম্ভব হয় না। ওই অঞ্চলে মাটির নিচেও পানির স্তর অনেক নিচে। 

আরও পড়ুন: ইউক্রেনের চার অঞ্চলকে রাশিয়ার বলে ঘোষণা করলেন পুতিন

রহিমপুর খালটি যেহেতু ভারত সীমান্তের খুব কাছে, সেই কারণেই যৌথ নদীটি থেকে পানি উত্তোলন বা খাল খননে এই সমঝোতা দরকার ছিল।  

সুরমা-কুশিয়ারা প্রকল্পের আওতায় মূলত শুষ্ক মৌসুমে এই পানি উত্তোলন করে তা কৃষি জমিতে সেচের কাজে ব্যবহার করা হবে। 

এই বিষয়টি সুরাহা করতে ২০১৬ সাল থেকে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। গত ২১ আগস্ট যৌথ নদী কমিশনের বৈঠকে কুশিয়ারি নদী থেকে রহিমপুর খাল দিয়ে ১৫৩ কিউসেক পানি উত্তোলনের বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। তারপর যুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়। আর সেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করে দুই দেশের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads