ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

স্বর্ণ চোরাচালানে সদস্যরা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেবে বাজুস

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২৪ নভেম্বর ২০২২ ২০:১০:২০
স্বর্ণ চোরাচালানে সদস্যরা জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেবে বাজুস

জুয়েলারি সমিতির কোনো সদস্য সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করেছে বাজুস। তারা বলছেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগের সত্যতা মিললে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ও বাজুসের সাথে অনুষ্ঠিত সভা শেষে বৃহস্পতিবার (২৪ নভেম্বর) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বাজুস প্রতিনিধিরা এ তথ্য জানান। 

বিএফআইইউ’র প্রধান কর্মকর্তা মো. মাসুদ বিশ্বাস সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বাজুসের প্রেসিডেন্ট সায়েম সোবহান আনভীরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সভায় অংশ নেন।

বাজুস সভাপতি সায়েম সোবহান আনভীর বলেন, অর্থ পাচার ও ডলার সংকটের নেপথ্যে রয়েছে সোনা চোরাচালান। অনেকে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। আইন থাকলেও যথাযথ প্রয়োগ নেই। প্রয়োজনে আইন সংশোধন করে জামিন অযোগ্য মামলা দিতে হবে।

এসময় স্বর্ণ চোরাকারবারিদের ধরতে বাজুস নেতারা বিএফআইইউকে কোন তালিকা দিয়েছে কিনা তা জানতে চাওয়া হলে বাজুস সভাপতি বলেন, এটা খতিয়ে দেখা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দায়িত্ব।

বাজুস প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংককে আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি বর্তমানে রিজার্ভ ও ডলারের যে সংকট সোনার বার যদি বন্ধ হয় তাহলে আমাদের দেশে মানি লন্ডারিং কমবে।

বৈঠকে বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুয়েলারি শিল্পে চোরাচালান বড় ধরনের সংকট ও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন বিভিন্ন বন্দর দিয়ে ২০০ কোটি টাকার স্বর্ণ চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আসছে যা বছরে ৭৩ হাজার কোটি টাকা দাঁড়ায়। এ অবস্থায় এসব স্বর্ণ চোরাচালান কারবারিদের ধরাসহ সমিতির অধীনে থাকা ৪০ হাজার সদস্যকে সচেতন করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস দেয়া হবে।

বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ আগরওয়াল বলেন, এখন থেকে চোরাচালান ও অর্থ পাচার বন্ধে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিলিজেন্স ইউনিট -বিএফআইইউ ও বাংলাদেশ জুয়েলারি সমিতি একসাথে কাজ করবে। একই সাথে স্বর্ণ চোরাচালানে যদি বাজুসের কোন সদস্য জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে বাজুস।

আরও পড়ুন: ভাইরাল হতে ‘ব্যাংকে টাকা নেই’ গুজব ছড়ান সাইফুল

বিএফআইইউ’র প্রধান মাসুদ বিশ্বাস বলেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং, সন্ত্রাস ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে। 

সভায় বাজুসের প্রেসিডেন্ট জুয়েলারি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো যেন মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসী কার্যে অর্থায়নের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত না হতে পারে সে লক্ষ্যে 

সব জুয়েলারি ব্যবসায়ী সম্মিলিতভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করবেন বলেও অঙ্গীকার করেন।

তিনি মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ -এর আওতায় তাদের দায়-দায়িত্ব ও নির্দেশনা পালনে বাজুস/সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বিএফআইইউ’র সহযোগিতার কথা বলেন।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৮ দিন আগে