ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

দৌলতদিয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যৌনপল্লীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, রাজবাড়ী
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:১৩:৪৩ আপডেট: ১৫ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:৫৫:৫১
দৌলতদিয়ায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যৌনপল্লীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ

দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডলসহ তার লোকজনের বিরুদ্ধে মহান বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেছেন দৌলতদিয়া যৌনপল্লীর শত শত বাসিন্দা।

এই অভিযোগে প্রতিকার চেয়ে মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে ও বুধবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে দৌলতদিয়া পুর্বপাড়ায় রেলস্টেশনে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে অসহায় নারী ঐক্য সংগঠন। এ সময় দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করার অনুরোধ করলে তারা তা মেনে নেন। 

এদিকে, বুধবার দুপুরে অভিযোগটি অস্বীকার করে এটিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল। 

এ ব্যাপারে দৌলতদিয়া যৌনপল্লী কেন্দ্রিক সংগঠন 'অসহায় নারী ঐক্যে'র সভানেত্রী ঝুমুর বেগম বলেন, বিজয় দিবস পালন উপলক্ষে দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডলসহ তার লোকজন যৌনপল্লীর বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করেন। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে এই কর্মসূচী পালন করেছেন। 

তিনি আরও বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল একজন চাঁদাবাজ। তিনি ও তার লোকজন প্রায়ই চাঁদাবাজি করে থাকেন। যে আওয়ামী লীগের সভাপতি বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়েছেন আমরা তা মেনে নিয়েছি। তার কাছেও অনুরোধ করেছি আপনারা দৌলতদিয়ার অসহায় এই মেয়েদের পেটে লাথি মারবেন না। ওরা যাতে বেচে থাকতে পারে সেজন্য সহযোগিতা কামনা করেছি। 

আরও পড়ুন: বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে সুন্দরবনে ১০০ কুমির অবমুক্ত

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, চেয়ারম্যান একজন সম্মানিত ব্যক্তি তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আমরা আশা করি না। যেহেতু অভিযোগ উঠেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখে দু'পক্ষকে নিয়ে একটি সুন্দর মীমাংসার আশ্বাস দিয়েছি। সেই সাথে দৌলতদিয়ায় যাতে কেউ চাঁদাবাজি করতে না পারে সে ব্যাপারেও লক্ষ্য রাখা হবে। প্রয়োজনে প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।

এ প্রসঙ্গে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মণ্ডল সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, 'নির্বাচিত হয়ে গত দুই বছর আমি দৌলতদিয়া ঘাটকে চাঁদাবাজি মুক্ত করার লক্ষ্যে সামর্থ্য অনুযায়ী চেষ্টা করেছি। যৌনপল্লী এবং এর আশপাশে মাদকের অবাধ বেচাকেনা চলে। এটি বন্ধের জন্য আমি তৎপর হওয়াতে একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র করছে।' 

এ ব্যাপারে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল তায়াবীর বলেন, দৌলতদিয়া যৌনপল্লির বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য ২৪ ঘন্টা পুলিশ মোতায়েন থাকে। সেই সাথে বিশেষ নজরদারি আছে। ওইখানে কেউ চাদাবাজির ব্যাপারে লিখিত আবেদন করলে আমরা তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। বুধবারের মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিলের কথা শুনেছি। তবে এখনও কোন লিখিত আবেদন পাইনি। 


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ৪ ঘন্টা আগে