ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

'দেশের ৪০-৪৫ শতাংশ মানুষ এখনও দরিদ্র'

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:০১:৫৯ আপডেট: ২০ ডিসেম্বর ২০২১ ১৮:০৩:৩৩
'দেশের ৪০-৪৫ শতাংশ মানুষ এখনও দরিদ্র'

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় দেশে দারিদ্র্যের হার এখনও ৪০-৪৫ শতাংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা আকবর আলী খান। 

সোমবার (২০ ডিসেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে সেন্টার পর গভর্ন্যান্স স্ট্যাডিজ আয়োজিত ‘বাংলাদেশের ৫০ বছর’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত ৫০ বছরে অন্য অনেক দেশেও দারিদ্র্যের হার কমেছে, শুধু বাংলাদেশে কমেছে এমনটি নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনায় নিলে এখনও এদেশের দারিদ্রের হার ৪০-৪৫ শতাংশ। দেশে উন্নয়ন হচ্ছে, এটা ঠিক। কিন্তু সাম্য প্রতিষ্ঠিত হয়নি, বৈষম্য বেড়েছে। সবক্ষেত্রে সমান উন্নতি হয়নি।’

আকবর আলী খান বলেন, ‘স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্জন অনেক। ১৯৭১ সালে যেখানে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ, এখন তা ২০ শতাংশে নেমেছে। এটা অকল্পনীয় অর্জন। তবে যে চার নীতির ওপর মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তার অন্যতম ছিল গণতন্ত্র। এক্ষেত্রে কতটা অর্জন হয়েছে, তা প্রশ্নসাপেক্ষ।’

আকবর আলি খান বলেন, ‘অবশ্যই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভে ভারতের অবদান রয়েছে। সে জন্য আমাদের ভারতের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকা উচিত নয়। এ কথা কিন্তু ১৯৭১ সালে শোনা যেত না, সম্প্রতি উঠেছে। আমি এর সোজা জবাব দিতে চাই। ভারতও জানে, বাংলাদেশও জানে যে চিরন্তন কৃতজ্ঞতাবোধ পৃথিবীর কোথাও নেই, এটা ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব নয়। এটা জাতির সঙ্গে জাতির, রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব। রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের বন্ধুত্ব তখনই হবে যখন আমাদের স্বার্থ অভিন্ন হবে। আর যদি আমাদের স্বার্থের ক্ষেত্রে সংঘাত থাকে, তাহলে চিরন্তন কৃতজ্ঞতাবোধ কোনো দিনই হবে না।’

আরও পড়ুন: সশস্ত্র বাহিনীর উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার

 ‘১৯৭১ সালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা হয়েছিল। তাঁরা স্পষ্টভাবে বলেছেন, তোমরা স্বাধীনভাবে বাঁচো সেটাই আমরা চাই। তাঁরা কখনো এ কথা কল্পনা করেননি যে বাংলাদেশ কারও কাছে চিরপদানত হয়ে থাকবে। এটা কোনো দিনই সম্ভব নয়’, বলেন তিনি। 

আকবর আলি খান বলেন, ‘বাংলাদেশে জাতীয়তাবাদ চূড়ান্তভাবে অর্জিত হয়েছে, এটা নিয়ে চিন্তার কারণ নেই। চিন্তার কারণ হলো গণতন্ত্র নিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমরা বিশ্বাস করি উদারনৈতিক গণতন্ত্রে। এই গণতন্ত্রে শুধু নির্বাচন হলেই চলবে না, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে, সেখানে নাগরিক সমাজের ভূমিকা থাকতে হবে, আইনের শাসন থাকতে হবে—এ ধরনের বিষয়গুলো বাংলাদেশে এখনো দুর্বল।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে হবে। সে জন্য সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্রে বিশ্বাস করতে হবে। বাংলাদেশে অনেক রাজনৈতিক দল রয়েছে, তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, আসলে তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না। গণতন্ত্রে বিশ্বাস না করা হলে এর অগ্রগতি হবে না। দেশে গণতন্ত্র না থাকলে ধর্মনিরপেক্ষতা টেকসই হবে না বলেও মনে করেন তিনি।’


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ৪ ঘন্টা আগে