ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

বাংলাদেশি পরিচয় পেয়ে ফুচকা খাইয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২২ ২২:২১:৩৯
বাংলাদেশি পরিচয় পেয়ে ফুচকা খাইয়ে দিলেন মমতা ব্যানার্জি

নিজের হাতে ফুচকা বানিয়ে বাংলাদেশি পর্যটককে খাইয়ে দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিন দিনের উত্তরবঙ্গ সফরে সোমবার দার্জিলিং যান তিনি।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) সকালে ‘গোর্খা টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (জিটিএ) -এর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মমতা। সেই অনুষ্ঠান শেষে তিনি বেরিয়ে পড়েন পাহাড়ি রাস্তায়। আর তখনই অন্য মুডে দেখা গেল মা-মাটি-মানুষের নেত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে।

শপথ অনুষ্ঠান শেষে এরিচমন্ড হিল থেকে চিড়িয়াখানার দিকে যাচ্ছিলেন মমতা। সেখানেই তার চোখে পড়ে নারী সদস্য দ্বারা পরিচালিত ‘অঞ্জলি সেলফ হেল্প গ্রুপ’ নামক একটি ফুচকা স্টল। সোজা ঢুকে পড়েন ওই ফুচকার স্টলে। সেখানেই নারী কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন মমতা।

একসময় পাশেই দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশি নাগরিক বলে পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমি বাংলাদেশ থেকে এখানে ঘুরতে এসেছি।’

তখন মমতাকে বলতে শোনা যায় ‘উনি বাংলাদেশ থেকে এসেছেন। আমাদের অতিথি। ওনাকে ফুচকা দিন। আমি ফুচকার পয়সা দিয়ে দিচ্ছি।’ -এ সময় পাশে থাকা ছোট বাচ্চাসহ অন্যদেরও ফুচকা পরিবেশনের কথা বলেন মমতা।

এক পর্যায়ে মমতা নিজেই ফুচকা বানাতে লেগে পড়েন। আর মমতার ফুচকা বানানো দেখে ওই স্টালটির চারপাশে ভিড় জমে যায়।

এরপর একটি সাদা প্লাস্টিকের চামচ দিয়ে ফুচকাটি ফুটো করেন তিনি। তার মধ্যে মশলা সহকারে আলু-ছোলা-মটরের পুর, তেঁতুল গোলা পানি ঢুকিয়ে কাগজের প্লেটে করে পাশে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকসহ সকলকে পরিবেশন করেন মমতা।

তবে এবারই নয়, এর আগে গত মার্চ মাসেই দার্জিলিং সফরে এসে এই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর নারীদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেসময় তাদের সাথে হাত লাগিয়ে মোমো তৈরি করতে দেখা যায় মমতাকে। পরে সেই মোমো সকলের মধ্যে পরিবেশন করেন তিনি।

এছাড়াও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সফরে গিয়ে কখনো রান্না করতে, কখনো চা তৈরি করতে দেখা গেছে মমতাকে। 

এদিকে মঙ্গলবারই দার্জিলিংয়ের মল রোডে একটি কফি হাউজের উদ্বোধন করেন মমতা। যার পোশাকি নাম ক্যাফে হাউস।


তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, মুখ্য সচিব এইচ.কে দ্বিবেদী, গায়ক ও অভিনেতা সাহেব চট্টোপাধ্যায়, কফি হাউজের কর্ণধার সত্যম রায় চৌধুরী প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন সাহেব চট্টোপাধ্যায়। তার সাথে গলা মেলান মুখ্যমন্ত্রী মমতা।

আরও পড়ুন: ভারতের নতুন পার্লামেন্ট ভবনের ভাস্কর্য নিয়ে বিতর্ক

বেসরকারি উদ্যোগে এই কফি হাউস তৈরি হলেও এর পরিকল্পনা মমতা ব্যানার্জির। তিনি বলেন, বাংলা, ভারত কিংবা ‘কফি হাউজের সেই আড্ডাটা’- মান্না দের বিখ্যাত সেই গানর ছোঁয়া পেতে গেলে এখানে একবার হলেও আসতেই হবে। পাহাড়ের সাথে নাম মিলিয়ে এর নাম রাখা হয়েছে ক্যাফে হাউস।’

নতুন এই কফি হাউজের অন্যতম আকর্ষণ চা বা কফি পান করতে করতেই কাঞ্চনজঙ্ঘার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন পর্যটকরা।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৪ দিন ৯ ঘন্টা আগে