ঢাকা ০২ অক্টোবর ২০২২, ১৭ আশ্বিন ১৪২৯

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ভালোবাসা ছড়ালো একটি দেশের জন্য গান

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২২ ১১:৪৪:০৫ আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২২ ১৯:৩০:৪৩
মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে ভালোবাসা ছড়ালো একটি দেশের জন্য গান

ঢাকার মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে সেদিনের সন্ধ্যাটা ছিল অন্যরকম। মিলনায়তন ভর্তি দর্শকে ভরা আর পিনপতন নিরবতা তাদের মধ্যে। তবে বিপুল ভালোবাসা, হর্ষধ্বনি ও আবেগ নেমে আসে প্রামাণ্যচিত্রটি শেষ হওয়া মাত্রই। অতিথিদের সবাই মুগ্ধ, প্রশংসায় ভাসে ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ অবলম্বনে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘একটি দেশের জন্য গান’। অসাধারণ একটি অভিজ্ঞতা আর দেশের জন্য আরও একবার প্রবল মমতার অনুভূতি নিয়ে শুক্রবার (২২ জুলাই) বাড়ি ফিরে যান দর্শকরা।

কয়েকদিন পরই, ১ আগস্ট ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর ৫১ বছর পূর্তি। সে উপলক্ষ্যকে ধরে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক সেই কনসার্ট অবলম্বনে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘একটি দেশের জন্য গান’ এর প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঢাকায়। আগারগাঁও এর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে এই প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।

প্রামাণ্যচিত্রটির প্রদর্শনী উপলক্ষ্যে একটি আলোচনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়। ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ ও মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুদের অবদান’ শীর্ষক এই আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান অভিনেতা, সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও জাতীয় জাদুঘরের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইজাহার খান, একাত্তর টিভির প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল বাবু। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) এর মহাপরিচালক স. ম. গোলাম কিবরিয়া, খ্যাতিমান লেখক ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মোহিত কামাল, লেখক, গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব সুভাষ সিংহ রায় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ বকুল। লেখক, সাংবাদিক ও প্রামাণ্যচিত্রটির নির্মাতা শামীম আল আমিন অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। 

একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি নাজনীন মুন্নীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী নাসির আলী মামুন, শহীদ আলতাফ মাহমুদের মেয়ে ও কলামিস্ট শাওন মাহমুদ, অবসকিউর ব্যান্ডের প্রধান ও বিশিষ্ট শিল্পী সাঈদ হাসান টিপু, যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদ, সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব মিথিলা ফারজানাসহ অনেকে।

অনুষ্ঠানে ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম এর প্রধান সমন্বয়ক ও প্রামাণ্যচিত্রটির পরিচালক শামীম আল আমিনসহ অন্য কলাকূশলীদের বিশেষ সম্মাননা জানানো হয়। যারা সম্মাননা পেয়েছেন তারা হলেন নেপথ্য কণ্ঠের জন্য খ্যাতিমান অভিনেতা ও রাজনীতিবিদ আসাদুজ্জামান নূর, প্রামাণ্যচিত্রের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর, কবি ও ইয়োগা আর্টিস্ট আশরাফুন নাহার লিউজা, ইংরেজি সাবটাইটেলের জন্য ড. মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, টাইটেল ও পোস্টারের জন্য মামুন হোসাইন, গ্রাফিক্সে রিজু মোহাম্মদ, ক্যামেরায় নূর হোসেন জুয়েল ও কায়েস খন্দকার, সম্পাদনায় তানজির ইসলাম রানা। সার্বিক সহায়তার জন্য নিউইয়র্কের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. প্রতাপ দাস, একাত্তর টিভির বিশেষ প্রতিনিধি পারভেজ রেজা, এরিক কমিউনিকেশন্সের সিইও মঈনুল ইসলাম তুন এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সাজ্জাদ বকুল এই সম্মাননা পান।  

মুক্তিযুদ্ধের সময় বিদেশী বন্ধুদের পাশে এসে দাঁড়ানোর অসাধারণ একটি অধ্যায় ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবদন্তি সেতারবাদক পণ্ডিত রবিশঙ্করের অনুরোধে ঐতিহাসিক সেই কনসার্টের আয়োজন করেছিলেন দুনিয়াজোড়া সাড়া জাগানো ব্যান্ডদল দ্য বিটলসখ্যাত জর্জ হ্যারিসন। ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট, রবিবার, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের বিশ্বখ্যাত ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে সেই কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সাড়া জাগানো সেই কনসার্টের উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শরনার্থী হওয়া মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। এ ছাড়া কনসার্টের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমতও তৈরি করতে চেয়েছিলেন আয়োজকরা। 


বিশ্বের ইতিহাসে প্রথম বড় কোন চ্যারিটি সেই আয়োজনকে ঘিরে একটি প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেছেন লেখক ও সাংবাদিক শামীম আল আমিন। ‘ফ্রেন্ডস অব ফ্রিডম’ এর ব্যানারে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রটি এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্টেটে প্রদর্শিত হলেও, এই প্রথম ঢাকার দর্শকরা এটি দেখার সুযোগ পেলেন। ‘দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর ৫১ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এমন আয়োজন। 

জাতীয় সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানটি। এরপর দেখানো হয় প্রামাণ্যচিত্র ‘একটি দেশের জন্য গান’। পরে আলোচনা পর্বে বক্তারা বলেন, দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক ঘটনা। এর মধ্য দিয়েই মূলত পৃথিবীর মানুষ আরও বেশি করে বাংলাদেশের নাম জেনেছিল। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে সেই কনসার্ট রেখেছিল যুগান্তকারী ঘটনা। বক্তারা এই প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়ায় লেখক ও সাংবাদিক শামীম আল আমিনকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, “এমন কাজ আরও বেশি বেশি হওয়া প্রয়োজন এবং এ কাজে তরুণদেরই বিশেষভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তিনি প্রবাসীদের ভূয়সি প্রশংসা করেন”। ড. মোমেন বলেন, চমৎকার এই কাজটির জন্য শামীম আল আমিনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে পুরস্কৃত করা দরকার। বিটিভিসহ অন্যান্য টেলিভিশন, দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রামাণ্যচিত্রটি বেশি করে দেখানোর উপর গুরুত্ব দেন তিনি।  

অনুষ্ঠানটি শেষ হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “ও আমার দেশের মাটি, তোমার 'পরে ঠেকাই মাথা” গানটি গেয়ে শোনান শিল্পী বাবু সরকার। তার সঙ্গে কণ্ঠ মেলান সমবেত সুধীজন।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

১০ দিন ১০ ঘন্টা আগে