ঢাকা ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ৯ আশ্বিন ১৪২৯

ছাত্র জীবন থেকেই শিবির অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার করছে: তন্ময়

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২২ ১২:০৭:১৯ আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২২ ১২:১৮:০১
ছাত্র জীবন থেকেই শিবির অব্যাহতভাবে মিথ্যাচার করছে: তন্ময়

২০১৩ সালে শিবিরের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন বর্তমানে আওয়ামী লীগের ওয়েব টিমের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করা তন্ময় আহমেদ। তার অভিযোগ, যাকে হত্যার জন্য শিবিরের এতো প্রচেষ্টা, তাকেই এখন শিবির বলে প্রচারের চেষ্টা করছে খোদ জামায়াত নেতা।

তন্ময় জানান, ১৩০টি সেলাই নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি অবস্থায় মারা গেছি নাকি বেঁচে আছি হাসপাতালে খোঁজ নিতে গিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের এক শিবিরকর্মী পুলিশের কাছে ধরাও পড়ে। 

তন্ময় আহমেদ জানান, ২০১১ সালে বুয়েট ছাত্রলীগের সেক্রেটারি হওয়ার আগ থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। বিশেষত যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে শাহবাগে যখন তীব্র আন্দোলন চলে তখন তন্ময় আহমেদ ও আরিফ রায়হান দীপ বুয়েটকে সংগঠিত করে এবং বুয়েট কেন্দ্রিক জামায়াত-শিবিরের অপপ্রচারকে রুখে দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমাকে কাফনের কাপড় পাঠানো হয়। হত্যা করা হয় আরিফ রায়হান দীপকে। আমাকেও আক্রমণের পর মারা গেছি ভেবে ফেলে যাওয়া হয়। 


তিনি বলেন, আসলে আমার ওপর হামলার পর থেকে নিজেদের বক্তব্যগুলো পরিবর্তন করা শুরু করে জামায়াত-শিবির। নিজেদের আইনি ঝামেলা থেকে রক্ষার জন্য এই হামলার পর আমাকেই শিবির হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করে তারা। আসলে এটি এক ধরনের ডাইভারশন। জামায়াতের স্বপক্ষে কাজ করে যাওয়া প্লাটফর্মগুলো থেকে সে সময় এ ধরণের অভিযোগ করা হলেও তা ধোপে টেকেনি। কেননা আমি যাদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জামায়াত শিবিরের অপপ্রচারকে রুখে দিয়েছিলাম, তারা সর্বদা আমার পাশে ছিলো।

তিনি জানান, গেলো বছর এ বিষয়টি নিয়ে আবারও আওয়াজ তোলেন বাংলাদেশ বিরোধী তথ্য প্রচার করা নেত্র নিউজের সম্পাদক তাসনিম খলিল। তিনি আমাকে ‘শিবির’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করলেও এর স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ দিতে পারেননি। 

তন্ময়ের দাবি, মূলত নেত্র নিউজের বাংলাদেশ বিরোধী মুখোশ উন্মোচন কার্যক্রমকে রুখে দিতেই তাসনিম খলিল এ ধরণের মন্তব্য করেন। 

নেত্র নিউজের প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে অবস্থানের জন্য তন্ময় আহমেদ স্বেচ্ছায় ত্যাগ করেন জার্মানের কাসিব ফেলোশিপ থেকে। এই ফেলোশিপের পক্ষ থেকে বলা হয়, তন্ময় আহমেদ যে কাজ করছেন তা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু তন্ময় আহমেদ মিথ্যাকে প্রশ্রয় দিতে চাননি। আর এ কারণেই তিনি তার অবস্থানে অনড় থাকেন নেত্র নিউজ ও তাসনিম খলিলদের নিয়ে।

সম্প্রতি গাইবান্ধা পলাশবাড়ী পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম মিলন এক ভিডিও বার্তায় জানান, শৈশবে তন্ময় আহমেদ শিবির করতেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়লে এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।


এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপকমিটির সদস্য সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর তার ফেসবুক পোস্টে লেখেন, তন্ময় মুচলেকা দেয়নি, ফেলোশিপ ফিরিয়ে দিয়েছে, মাথা নত করেনি। এটা আমাদের জন্য গর্বের। পার্টির জন্য এমন ত্যাগ করার লোক কই আজ? গুজব, অপপ্রচার আর অনলাইন সন্ত্রাস রুখতে তুমি যে কাজ করছো, এটা তার স্বীকৃতি।

এদিকে তন্ময় আহমেদকে নিয়ে ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে ছাত্রলীগের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ তার ফেসবুকে লেখেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর কোর্ডিনেটর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক স্নেহের প্রকৌ. তন্ময় আহমেদ তার সিআরআই টিমকে সাথে নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতা ও মেধার সাথে বিএনপি-জামাত তথা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি দের অনলাইনে অপপ্রচার গুজবকে মোকাবেলা করছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিরা তন্ময়ের মেধা ও প্রজ্ঞার সাথে না পেরে তার ব্যক্তিগত চরিত্র হননের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি হামলায় মৃত্যুর হাত থেকে ফিরে আসা তন্ময় আহমেদের জন্য শুভকামনা রইল। অপশক্তিদের এসব অপচেষ্টা করে কোন কিছুই হবে না। স্বাধীনতা বিরোধী শক্তিদের গুজব ও তথ্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অনলাইনে সক্রিয় আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। সত্যের জয় কেউ ঠেকাতে পারে না।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৩ দিন ২ ঘন্টা আগে