ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১০ আশ্বিন ১৪২৯

টেলিটকের ফাইভ-জি প্রকল্প স্থগিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ০২ আগষ্ট ২০২২ ১৪:৪৭:৩২ আপডেট: ০২ আগষ্ট ২০২২ ১৯:৩৬:২৫
টেলিটকের ফাইভ-জি প্রকল্প স্থগিতের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার লক্ষ্যে টেলিটকের ৫জি প্রকল্প স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একইসাথে ফাইভ-জির আগে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সারা দেশে সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেছেন, এ মুহূর্তে হাওড়, গ্রাম ও দুর্গম এলাকা ফোর-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ করতে হবে। এ ছাড়া ডলার বাঁচাতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্কে বাণিজ্যিকভাবে ফাইভ-জি প্রযুক্তি চালুকরণ শীর্ষক প্রকল্পটি ফেরত দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। গণভবন থেকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনা। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা সচিব মামুন-আল রশীদ, ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য সত্যজিৎ কর্মকার, তথ্য ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব ড. শাহনাজ আরেফিন এবং আইএমইডির সচিব আবু হেনা মোরশেদ প্রমুখ।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, তিনি (প্রধানমন্ত্রী) মনে করেন আগে ফোর-জি সেবা উন্নতি করা উচিত। সেই সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করার লক্ষ্যে এ প্রকল্প স্থগিতের নির্দেশ দেন একনেক সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, যেহেতু সরকার কৃচ্ছসাধন করছে এবং টেলিটকের ফাইভ-জি প্রকল্পের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। তাই ডলার ব্যবহারের ওপর চাপ কমাতেই প্রকল্পটি বাদ দেওয়া হয়েছে। আর আপাতত দেশে ফাইভ-জি কাভারেজের চেয়ে ফোর-জির পরিধি বাড়ানো জরুরি। সেই আঙ্গিকে মোবাইল অপারেটরদের কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তবে সার্বিকভাবে বিদেশি ঋণ প্রকল্পের পরিধি কমবে কিনা সে বিষয়ে আলোচনা হয়নি।

এছাড়া কক্সবাজারে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা উন্নত করতে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর পুনর্বাসন প্রকল্প সংশোধনসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, আজকের সভায় মোট ৭টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোতে সরকারি অর্থায়নে ব্যয় করা হবে ১ হাজার ৮৩১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৫৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সাহায্য ১২২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হচ্ছে-

‘কক্সবাজার জেলার বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তা উন্নত করতে উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদী বরাবর পোল্ডারগুলোর (৬৭/এ, ৬৭, ৬৭/বি এবং ৬৮) পুনর্বাসন (১ম সংশোধিত)’; ‘বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ’; ‘নির্বাচিত পৌরসভা এবং সিটি কর্পোরেশনগুলোর জন্য বেলারুশ থেকে যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম সংগ্রহ’।

আরও রয়েছে- ‘উত্তরা লেক উন্নয়ন (১ম সংশোধিত)’; ‘ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সদর দপ্তর স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ভূমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান ও পুনর্বাসন’; ‘ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ’; ‘কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রাজশাহী (১ম সংশোধিত)’।



একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৪ দিন ৯ ঘন্টা আগে