ঢাকা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

সাময়িক স্থগিত চা শ্রমিকদের ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিনিধি, মৌলভীবাজার
প্রকাশ: ১৩ আগষ্ট ২০২২ ১৮:৫৩:১৫
সাময়িক স্থগিত চা শ্রমিকদের ধর্মঘট

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে চলমান ধর্মঘট দুইদিনের জন্য সাময়িক স্থগিত করেছে চা-শ্রমিকেরা। রোববার (১৪ আগস্ট) সাপ্তাহিক ছুটি এবং সোমবার ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এই সময়ের মধ্যে মালিকেরা দাবি না মানলে ১৬ তারিখ থেকে কঠোর ধর্মঘট শুরু হবে বলে জানিয়েছে চা-শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

শনিবার মৌলভীবাজারের ৯২টিসহ দেশের ১৬৭টি চা বাগানের শ্রমিকেরা অংশ নেন এ ধর্মঘটে। এ সময় তারা আশপাশে প্রতিটি হাটবাজার ও প্রধান সড়ক অবরোধ করে দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সমাবেশ করে।

চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সহসভাপতি পংকজ কন্দ জানান, মালিক পক্ষের টালবাহানায় চা শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দ্বিবার্ষিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১৯ মাস হলো। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার জেলার ৯২টি চা বাগান, সারাদেশের ১৬৭টি চা বাগান ও ফাঁড়ি বাগান সহ মোট ২৪১টি চা বাগানে ২ ঘণ্টা করে ৪ দিনের কর্মবিরতি শেষে শনিবার পূর্ণ দিবস কর্ম বিরতি পালন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৪ আগস্ট রোববার সাপ্তাহিক ছুটি ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস এ জন্য এ দুদিন কর্মসূচি শিথিল করা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মালিকপক্ষ দাবি না মানলে ১৬ আগস্ট থেকে লাগাতার কঠোর ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।

এদিকে, সকাল থেকে জেলার প্রতিটি চা বাগানে দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে আন্দোলনরত চা-শ্রমিক ইউনিয়নের লাগাতার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। চা-শ্রমিকেরা বাগানের সব কাজ বন্ধ করে দাবি আদায়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশসহ চা বাগানের বিভিন্ন জায়গার রাস্তাঘাটে অবস্থান নেন তারা।

চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলমান থাকা অবস্থায় আন্দোলনে যাওয়া শ্রমিকদের উচিত হয়নি। এটি শ্রম আইনেরও পরিপন্থী। চায়ের এই ভরা মৌসুমে কাজ বন্ধ থাকলে মালিক-শ্রমিক উভয়েরই ক্ষতি হবে। আমরা আশা করব শ্রমিকেরা দ্রুত কাজে ফিরবেন।

জানা গেছে, চলমান এই সমস্যা সমাধানের জন্য গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের মৌলভীবাজারের কার্যালয়ে বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপপরিচালকের আমন্ত্রণে মালিকপক্ষ ও চা শ্রমিক পক্ষকে নিয়ে সমঝোতা বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কিন্তু সেই বৈঠকে চা বাগানের মালিকপক্ষের কেউ আসেননি।

বিভাগীয় শ্রম দপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাহিদুল ইসলাম বলেন, কাজ বন্ধ করে শ্রমিকরা আন্দোলনে গেলে মালিক ও শ্রমিক দুই পক্ষেরই ক্ষতি হবে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একটা সমঝোতা বৈঠক করেছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ২৮ আগস্ট তাদের সঙ্গে বসতে চেয়েছেন। আপাতত আন্দোলন স্থগিত রাখতে বলেছেন। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন সেটা মানেনি।

আরও পড়ুন: বেহেশতের সঙ্গে তুলনা মানুষের সঙ্গে উপহাস-তামাশা: ফখরুল

এদিকে চলমান এই অচলাবস্থা নিরসনে উভয়পক্ষকে চিঠি দিয়েছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের শ্রম অধিদপ্তর। শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদ মামুন চৌধুরী স্বাক্ষরিত চিঠিতে চা শ্রমিকদের চলমান আন্দোলনকে শ্রম আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি চা বাগানের মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ ও চা শ্রমিক ইউনিয়নকে আলোচনার টেবিলে বসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, চা শিল্পের ভরা মৌসুমে উৎপাদন অব্যাহত রাখতে এবং চা শিল্পের শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রচলিত প্রথা মেনে উভয়পক্ষকে বৈঠকে বসে মজুরি নির্ধারণ করার বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়।

তবে শ্রম অধিদপ্তরের দেওয়া এই চিঠির তীব্র বিরোধিতা করেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নিপেন পাল। তিনি বলেন, আমরা শ্রমিকরা দুর্বল, তাই আমাদের এভাবে একটার পর একটা চিঠি দিয়ে চাপে রাখা হচ্ছে। অথচ বাগান মালিকদের ব্যাপারে তারা কোনো ধরনের সিদ্ধান্তই নিতে পারেননি। গত বৃহস্পতিবারও বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরে সমঝোতা বৈঠক হয়েছিলো সেখানেও বাগান মালিকরা ছিলেন না।

শ্রম আইন লঙ্ঘন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শ্রম আইন যদি কেউ ভঙ্গ করে তাহলে সেটা মালিকপক্ষ করেছে। শ্রম আইন অনুযায়ী মালিকপক্ষ চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার একমাসের মধ্যে নতুন করে চুক্তি করতে হবে। অথচ আজ ১৯ মাস পেরুনোর পরও মালিকপক্ষ নতুন করে চুক্তি করেনি। তাই শনিবার সকাল থেকে দেশের সকল চা বাগানে ধর্মঘট শুরু করেছি।


একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৬ দিন ২৩ ঘন্টা আগে