ঢাকা ০১ অক্টোবর ২০২২, ১৬ আশ্বিন ১৪২৯

কমে গেছে জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগ

কাবেরী মৈত্রেয়, একাত্তর
প্রকাশ: ১৩ আগষ্ট ২০২২ ২১:০২:৫৮
কমে গেছে জনগণের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগ

প্রান্তিক পর্যায়ে সঙ্কট এবং অগ্রাধিকার চিহ্নিত না করে নির্বাচনী ইশতেহার দেয় রাজনৈতিক দলগুলো। পরে তারা ক্ষমতায় গেলে পিছিয়ে পড়া মানুষ থেকে যায় উন্নয়নের বাইরে।

সে সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগের সুযোগ কমে গেছে। আর এসব কারণে বহুমুখি সংকট বাড়ছে বলে মনে করছে নাগরিক সমাজ।

তবে প্রশাসন ও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহার কমাতে পারলে সঙ্কট উত্তরণ সম্ভব বলে মনে করেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

দু’বছর ধরে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনের আগে দেয়া প্রতিশ্রুতি আর পরবর্তীতে তা বাস্তবায়নে জনগনের সম্পৃক্ততা কেমন তা যাচাই করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা- সিপিডি।

দেশের ১৫টি জেলায় ৯০টি মুক্ত আলোচনা ও তিনটি বিশেষজ্ঞ আলোচনার মাধ্যমে যে ফলাফল এসেছে তা তুলে ধরতে শনিবার রাজধানীতে এক নাগরিক সংলাপের আয়োজন করে সিপিডি।

রাজধানীর একটি হোটেলে নাগরিক সম্মেলনে বক্তারা বলেন, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিদের কাছে জনগণ তাদের দাবিদাওয়া তুলে ধরতে পারলেও নির্বাচনের পর সে সুযোগ কমে গেছে।

তারা বলছেন, জাতীয় উন্নয়নে শিক্ষা, শোভন কর্মসংস্থান কিংবা লিঙ্গ সমতার মতো সূচকে এখনও পিছিয়ে দেশ, প্রান্তিক পযার্য়ের সাথেও নেই কোন সংযোগ।

সিপিডি জানায়, বেশিরভাগ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের চাহিদা বা দাবি সরাসরি বা লিখিত আকারে প্রার্থীদের জানাতে পারেননি। তবে কেউ কেউ সরাসরি সংসদ সদস্যদের কাছে স্থানীয় সমস্যা নিয়ে কথা বলতে পেরেছেন।

পাশাপাশি মানুষ শিক্ষা খাতকে দুর্নীতি ও রাজনীতিমুক্ত, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও জনগণকে উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে ঋণসংক্রান্ত জটিলতা দূরীকরণ, নারী-পুরুষের মজুরিবৈষম্য দূর করে নারীদের কাজের সুযোগ বাড়ানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতামত জানিয়েছেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান তাঁর এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, তৃণমূলের মানুষের চাহিদার সঙ্গে সংলাপে উঠে আসা মতামতের মিল খুঁজে পাননি তিনি।

তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিরা দলের নির্বাচনী ইশতেহারের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে এক ধরনের মৌখিক অঙ্গীকার করেন। জনগণ সবচেয়ে বেশি চান সামাজিক ভাতা কার্ড, খাবার পানির ব্যবস্থা, স্যানিটেশন, এলাকায় রাস্তা, কালভার্ট ও একটি ভালো কাজ পাওয়ার সুযোগ। আগে বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও এখন সেটি নেই।

বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ব্যয় সংকোচনের কথা বলা হচ্ছে না। যথাযথ ব্যয় করতে বলা হচ্ছে। বিশ্বে যে ঢেউ উঠেছে, তাতে আমাদের তরিও কাঁপছে। এতে লজ্জার কিছু নেই।

তিনি আরও বলেন, পুরোপুরি নিশ্চিত হয়নি শোভন রাজনৈতিক চর্চাও। ভোটাররা এখন শান্তি আর স্থিতিশীলতা চায়। এই বাস্তবতা বুঝে রাজনৈতিক দলকে রাজনৈতিক চর্চা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহার যদি কথার কথা হয়, তাহলে সেটি করা নাকরা একই। দেখা গেছে নির্বাচনের তিন দিন আগেও ইশতেহার করা হচ্ছে।

অথচ ইশতেহার নির্বাচনের আগে আলোচনার মাধ্যমে এক বছর ধরে তৈরি হওয়া উচিত। ওই সব প্রক্রিয়া এ দেশে নেই। কারণ, এখানে নির্বাচনী ইশতেহার কথার কথা। সত্যিকারের নির্বাচন হলে ইশতেহারের গুরুত্ব থাকত। দলের গঠনতন্ত্রও কথার কথা। অথচ দলই দেশ চালাচ্ছে।

জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ প্রসঙ্গে তোফায়েল বলেন, এখন নির্বাচনের আগেও যোগাযোগ হয় না, পরেও হয় না। এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জনসংযোগের প্রয়োজন হয় না। নতুন সংস্কৃতি চালু হয়েছে, সংসদ সদস্যরা মুখের চেয়ে হাত-পা বেশি চালান।

বেসরকারি সংস্থা ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়ক খুশী কবির বলেন, সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে হবে, জনপ্রতিনিধিরা তাঁদের কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য। সবকিছু সহ্য করার মানসিকতায় পরিবর্তন ঘটাতে হবে।

অনুষ্ঠানের সভাপতি সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ইশতেহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের প্রতি তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারের একটি ধারণা দেয়।

ইশতেহার আইনগত দলিল না হলেও এর গুরুত্ব রয়েছে। ২০২৩ সালে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সিপিডির এ তথ্যগুলো নির্দেশনামূলক হতে পারে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম।



একাত্তর/এসএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৯ দিন ২১ ঘন্টা আগে