ঢাকা ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৩ আশ্বিন ১৪২৯

শ্যামনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ি বাঁধ, আতঙ্কে উপকূলের মানুষ

নিজস্ব প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ১৫ আগষ্ট ২০২২ ১২:০৪:২৬ আপডেট: ১৫ আগষ্ট ২০২২ ১২:০৫:২১
শ্যামনগরে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ি বাঁধ, আতঙ্কে উপকূলের মানুষ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় প্রবল বৃষ্টি ও জোয়ারে নাজুক বেড়ি বাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। আতঙ্কিত মানুষগুলোর অভিযোগ, প্রতিনিয়ত প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে যুদ্ধের পর অনেক আন্দোলন করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। প্রতি বছরই লোকালয়ে পানি ঢুকে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ। অন্যদিকে এক ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার আগে আগেই আবারও তারা পড়ছেন নদী ভাঙনের কবলে। এর জন্য তার বাঁধগুলো সংস্কার না করাকেই দায়ি করেন। 

উপকূলের মানুষ জানান, ইয়াসের পরে কিছু ঝুঁকি পূর্ণ পয়েন্টে কাজ করলেও শুভঙ্করের ফাঁকি দিয়েছে ঠিকাদাররা। কিন্তু ইয়াসের পরে উপকূলের ১৪৯ কিলোমিটার এলাকায় বেড়ি বাঁধের ২৯টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান রয়েছে। ইয়াসের আগে বুলবুল ঝড়ের পরে ৪৩টি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান ছিলো। ইয়াসের পরে ১৪টি পয়েন্টের কাজ হলেও এখনও ভালোভাবে কাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। খুব দ্রুত যদি ঝুঁকিপূর্ণ স্থান গুলো কাজ না করা যায় তাহলে অতিরিক্ত নদীর জোয়ারের পানিতে উপকূলের মানুষ তাদের সর্বস্ব হারাবে।

তারা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের মধ্যে মুন্সীগঞ্জ তিনটি, বুড়িগোয়ালিনীতে পাঁচটি, গাবুরায় সাতটি, পদ্মপুকুরে আটটি, কাশিমাড়ীতে একটি, আটুলিয়ায় একটি পয়েন্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ।

মুন্সীগঞ্জ বড় ভেটখালী গ্রামের সাইফুল ও রবি সরদার বলেন, আম্পানের সময় বড় ভেটখালির গোড়া ভাঙন দেখা দেয়। তারপরেও সেটা ঠিক করা হয়নি। এখনই এই বাঁধ সংস্কার করা না হলে এলাকার হাজার হাজার বিঘা জমির মৎস্য সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

হরিনগর সিংহড়তলী গ্রামের বিশ্বজিত রায় বলেন, ইয়াসের পরে সিংহড়তলীর ভাঙন দেখা দেয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকদের বলার পরেও তারা কাজ করেনি। 

বুড়িগোয়ালীনির দুর্গাবাটি গ্রামের দিনেশ মণ্ডল ও রীতা রাণী বলেন, ইয়াসের সময় বাঁধ ভেঙে ঘর বাড়ি সব পানি উঠে গাছ পালা নষ্ট হয়ে গেছে। আবার শুনছি নতুন করে ঝড় আসবে। আমাদের ওয়াবদার রাস্তা গুলো ঠিক করে দিলে আর পানিতে ভাসতাম না। এবার যদি পানি ঢোকে তাহলে কোথায় যাবো।

মুন্সীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান অসীম মৃধা বলেন, মুন্সীগঞ্জে তিনটি পয়েন্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ। আমি বার পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলার পরেও তারা কাজ করছে না। অতিরিক্ত জোয়ার আর বৃষ্টির কারণে নাজুক বাঁধ ভাঙার সম্ভাবনা আছে। 


সাবেক জেলা পরিষদের সদস্য ডালিম কুমার ঘরামী বলেন, উপকূলীয় এলাকা নদী বেষ্টিত। এখানে ঝুঁকিপূর্ণ বেড়ি বাঁধের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্যোগের সম্মুখীন হতে হয়। সরকারি মহল থেকে বার বার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করতে দেখা যায় না। যে কারণে প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে আতঙ্কে থাকে এলাকাবাসী।

বুড়িগোয়ালীনি ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম বলেন, আমার ইউনিয়নে পাঁচটি ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্ট আছে। 

পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আমজাদুল ইসলাম বলেন, আমাদের ইউনিয়নটা দ্বীপ ইউনিয়ন। ২৮ কিলোমিটারের মধ্যে আটটি পয়েন্ট খুব ঝুঁকিপূর্ণ। তাড়াতাড়ি কাজ না করলে আবারও ভেঙে প্লাবিত হবে। এছাড়া আমাদের বড় সমস্যা হলো বেড়ি বাঁধের অংশ আশাশুনির মধ্যে। যে কারণে আমাদের দাবি পূরণ হয় না।

আরও পড়ুন: গাজীপুরে ট্রেন লাইনচ্যুত: মিটারগেজ লাইন চালু, বন্ধ ব্রডগেজ

এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের শ্যামনগর উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মাসুদ রানা বলেন, অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি। পর্যপ্ত জিআইও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্র রেডি আছে। অনেক জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কাজ চলমান রয়েছে এবং অনেক কাজ হয়ে গেছে।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৬ দিন ২২ ঘন্টা আগে