ঢাকা ৩০ নভেম্বর ২০২২, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

স্বর্ণ কেনা-বেচায় নিয়ম বেঁধে দিলো বাজুস

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৬:৪২:৫২
স্বর্ণ কেনা-বেচায় নিয়ম বেঁধে দিলো বাজুস

দেশে জুয়েলারি ব্যবসায়ী এবং সাধারণ ক্রেতাদের স্বর্ণ কেনা-বেচার ক্ষেত্রে বেশকিছু নিয়ম বেঁধে দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জুয়েলারি শিল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, শৃঙ্খলা ও ব্যবসার মানন্নোয়ন এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সতর্কীকরণের উদ্যোগ হিসেবে এসব নিয়ম করা হয়েছে। 

বাজুস জানায়, গত তিন সেপ্টেম্বর সারাদেশে বাজুস সদস্যদের মধ্যে ‘স্বর্ণ ক্রয় সতর্কীকরণ নোটিশ’ জারি করা হয়েছে। 

সোমবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বাজুস এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সব ধরনের স্বর্ণ ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। 

এতে বলা হয়েছে, বাজুস সদস্যরা প্রয়োজনের তাগিদে দেশি-বিদেশি বা পুরাতন- নতুন স্বর্ণালঙ্কার কেনেন। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে নানাবিধ আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। একাধিকবার সতর্ক করা সত্ত্বেও কোনো কোনো ব্যবসায়ী পুরাতন বা ব্যাগেজ রুলের স্বর্ণ ক্রয় করে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ ধরনের সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে পুরাতন স্বর্ণ বা ব্যাগেজ রুলের স্বর্ণ ক্রয় করার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে বাজুস।

পুরাতন স্বর্ণ ক্রয়ে ব্যবসায়ীরা যা করবেন

১. বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি থেকে নিজ দায়িত্বে উভয় পাশের ফটোকপি রাখতে হবে।

২. বিক্রেতার বিক্রয় করা স্বর্ণালংকারের উৎস সম্পর্কে জানতে হবে।

৩. বিক্রেতার স্বর্ণালংকারের ক্রয় রশিদের কপি থাকতে হবে।

৪. মূল মালিক ব্যতীত কোনো প্রতিনিধির নিকট থেকে অলংকার ক্রয় করা যাবে না। ব্যাগেজ রুলের আওতায় আনা স্বর্ণ ক্রয়ের যেসব সতর্কতা অবলম্বন করবেন ব্যবসায়ীরা

৫.  বিক্রেতার পাসপোর্টের মূল কপি থেকে নিজ দায়িত্বে ফটোকপি করে রাখতে হবে।

৬. বিক্রেতা যে দেশ থেকে স্বর্ণ নিয়ে এসেছেন, সেই দেশের ভিসার কপি এবং এক্সিট ও এন্ট্রি সিলের কপি রাখতে হবে (মূল কপি থেকে নিজ দায়িত্বে ফটোকপি করে রাখতে হবে, এক্ষেত্রে বিক্রেতার নিকট থেকে উল্লেখিত ডকুমেন্টের কোনো ফটোকপি গ্রহণ করা যাবে না)।

৭.  বিক্রেতার জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি থেকে নিজ দায়িত্বে উভয় পাশের ফটোকপি রাখতে হবে।

৮. প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে স্বর্ণ ক্রয় করতে হবে।

৯.  এয়ারপোর্টে ডিক্লিয়ারেশন বা ট্যাক্সের আওতায় থাকলে ট্যাক্স প্রদানের ডকুমেন্ট (মূল কপি সংরক্ষণ করতে হবে)

১০. প্রয়োজনে বিক্রেতার পরিচয় যাচাই-বাছাই করতে হবে।

১১. পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং ট্যাক্স পে (পিওর গোল্ড ক্রয়ের ক্ষেত্রে) একই নাম, ঠিকানা আছে কিনা, তা যাচাই করে নিতে হবে।

আরও পড়ুন: ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১০০ কোটি ডলারের বেশি

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, একজন যাত্রী বিদেশ থেকে দেশে আগমনকালে ব্যাগেজ রুলের আওতায় পণ্য আনার যে সুবিধা পান তা তার ব্যক্তিগত বা পরিবারের সদস্যদের ব্যবহারের জন্য। তবে অর্থের প্রয়োজনে পণ্যটি বিক্রি করার ইচ্ছা পোষণ করলে উল্লেখিত তথ্যাদি বা ডকুমেন্ট প্রাপ্তি সাপেক্ষে ক্রয় করা যাবে।

‘সব ক্ষেত্রে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে এবং বিক্রেতার সই যুক্ত ক্রয় রশিদের কপি নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে তিন বছর সংরক্ষণ করতে হবে’। 

বাজুসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, বিক্রেতা যদি এসব তথ্য দিতে না পারেন, তাহলে বুঝতে হবে সেটা অবৈধ স্বর্ণ। তাই এ ধরনের বিক্রেতার কাছ থেকে স্বর্ণ ক্রয় করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বার বার সতর্ক করার পরও কোনো জুয়েলারি ব্যবসায়ী যদি অবৈধ স্বর্ণ ক্রয় করে আইনি ঝামেলার সম্মুখীন হন, তাহলে বাজুস তাকে কোনো সহযোগিতা করবে না।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৮ দিন আগে