ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯

এলপি গ্যাস নিয়ে ভোক্তার সভায় দোষারোপ আর নালিশ

মুজাহিরুল হক রুমেন, একাত্তর
প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৫৬:০১
এলপি গ্যাস নিয়ে ভোক্তার সভায় দোষারোপ আর নালিশ

বাজারে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রির জন্য এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকেই দায়ী করছে এলপি গ্যাস কোম্পানিগুলো। বলছে, ডলারের দাম বাড়ায় বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন তারা। 

তবে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, দোষারোপের আগুনে জ্বলছে দেশের এলপি গ্যাস। তাই বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করলেই শাস্তি।

গেল বছরের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে এলপি গ্যাসের দাম ঠিক করে আসছে এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। চলতি মাসে দাম ঠিক করার আগে মালিক প্রতিনিধিদের সাথে দফায় দফায় বৈঠকের পর গেলো ৪ সেপ্টেম্বর গ্যাসের দাম বেঁধে দেয় কমিশন।

কিন্তু সেই দামও মানেনি কোম্পানিগুলো। বাজারে সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কমিশনের নির্ধারিত দামের চেয়ে কমপক্ষে দেড়শ’ টাকা বেশিতে।

গেলো দেড় বছর ধরে এভাবেই কমিশনের ঠিক করে দাম উপেক্ষা করে আসছে কোম্পানিগুলো। তাই এবার তাদের বৈঠকে ডাকলো ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

সেই মোতাবেক মঙ্গলবার সকালে এলপি গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা হাজরি হন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে।

এ সময় খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা বলেন, কোম্পানিগুলোর বাড়তি দামের কারণে তারাও বেশি দামে বিক্রিতে বাধ্য হন। অথচ তাদেরকেই ভোক্তার শাস্তি পেতে হচ্ছে।

দাম বাড়ানোর সব দায় সরকারের কাঁধে চাপিয়ে এলপিজি আমদানিকারকরা বলেন, ব্যবসায়িক কোনো যুক্তি না মেনে দাম ঠিক করে দিয়ে গ্যাসের বাজারকে মগের মুল্লুক বানানো হয়েছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বলছে, গ্যাসের বাজারে চলছে অসুস্থ প্রতিযোগিতা। একে অপরের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। ভুগছে ক্রেতা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অযৌক্তিকভাবে দাম নির্ধারণ করে দিচ্ছে এমন দাবি উড়িয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, সব কিছু বিবেচনা করেই দাম ঠিক করা হচ্ছে।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এসব অনিয়মের বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, কাউকেই ‘ব্ল্যাঙ্ক চেক’ দেওয়া হবে না।

বাড়তি দামসহ মেয়াদোত্তীর্ণ এবং অবৈধভাবে বড় থেকে ছোট সিলিন্ডারে গ্যাস ভরে বিক্রির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে অভিযান চালাবে বলেও জানান তিনি।

সফিকুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে সিলিন্ডার বা বোতলজাত গ্যাস বাজারে বিক্রি হচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়া যায় যাচ্ছে নিয়মিত।

আরও পড়ুন: ইভ্যালি থেকে পদত্যাগ করলো মানিকের বোর্ড

নিরাপত্তার বিষয়ও এখন ‘বার্নিং ইস্যু’ হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিলিন্ডার বিস্ফোরণ কেন হবে? লাইফটাইম আছে। প্রস্তুতকারকদের এই জায়গায় মনোযোগ দিতে হবে।

মতবিনিময় সভায় এলপিজি সিলিন্ডারের খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতা, ডিলার, ডিস্ট্রিবিউটর, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৫ দিন ২ ঘন্টা আগে