ঢাকা ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১ আশ্বিন ১৪২৯

নিজ শরীরে আগুন দিয়ে দগ্ধ পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী'র মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১০:২৫:৪৪ আপডেট: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১২:৪৬:০৩
নিজ শরীরে আগুন দিয়ে দগ্ধ পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রী'র মৃত্যু

পটুয়াখালীর দশমিনায় নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়া পুলিশের এএসআই শহিদুল আলমের স্ত্রী সুমি আক্তার দগ্ধ হবার ২১ ঘন্টা পরে মারা গেছেন।  বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১ টায় ঢাকায় শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মেহেদী হাসান। 

সুমি আক্তার দশমিনা থানারসহকারী-উপ-পরিদর্শক (এএসআই) শহিদুল আলমের স্ত্রী। 

এলাকাবাসী,  নিহতের স্বামী ও দশমিনা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত দুইটার দিকে থানা সংলগ্ন ওই পুলিশ কর্তার ভাড়া বাসায় নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদগ্ধদের এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন সন্তান না হওয়ায় মানসিক অবসাদ ও হতাশার কারণে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। 

দশমিনা থানা সংলগ্ন বাড়ির মালিক ফরেস্টার হারুন জানান, তার তৃতীয় তলা ভবনের নিচ তলায় স্ত্রী নিয়ে ভাড়া থাকেন দশমিনা থানার এএসআই শহিদুল আলম। বিয়ের পর দীর্ঘদিন ধরে বাচ্চা না হওয়ার কারণে প্রায়শই দুশ্চিন্তা ও পাগলামি করতেন সুমি। এ নিয়ে অনেক চিকিৎসক ও কবিরাজ দেখিয়েও কোন লাভ হয়নি। তবে শহিদুল তার স্ত্রীর প্রতি সব সময় সন্তুষ্ট ছিলেন ও পারিবারিক কোন কলহ ছিলো না বলে বাড়ির মালিকের দাবি। 

তিনি বলেন, ঘটনার দিন মঙ্গলবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে এএসআই সহিদুল আলমের স্ত্রী মোসাম্মৎ সুমি আক্তার নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। পরে তিনিসহ সুমির স্বামী ও থানার পুলিশরা তাকে উদ্ধার করে দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

দশমিনা হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার মিঠুন চন্দ্র হাওলাদার জানিয়েছেন, ওই পুলিশ কর্তার স্ত্রী সুমির অবস্থা ছিল আশঙ্কাজনক। তার শরীরের অর্ধেকের বেশি  আগুনে পুড়ে যায়। তাকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকে বুধবার সকালে  ঢাকায় পাঠানো হয়। 

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান,  বিয়ের ১২ বছর পরও সন্তান না হওয়ায় মানসিক বিপর্যস্তের কারণে মোসাম্মৎ সুমি নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন। আগুন নেভাতে গিয়ে স্বামী শহিদুল আলমেরও বাম হাত, ও চুলের কিছু অংশ দগ্ধ হয়েছে। সুমিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অগ্নিদগ্ধদের ২১ ঘন্টা পর বুধবার রাত ১১ টায় তার মৃত্যু হয়। নিহত সুমি আক্তারের বাড়ি পিরোজপুর মঠবাড়িয়া উপজেলায়।


একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

৫ দিন ২ ঘন্টা আগে