ঢাকা ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

শিশু বলাৎকারের অভিযোগে দুই মাদরাসা শিক্ষককে গণপিটুনি

ইশতিয়াক ইমন, একাত্তর
প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৩৪:২৫ আপডেট: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২৩:২৩:৪৩
শিশু বলাৎকারের অভিযোগে দুই মাদরাসা শিক্ষককে গণপিটুনি

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসায় দুই ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে দুই শিক্ষককে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছেন অভিভাবকরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এর আগে একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটলেও তারা ভয়ে জানাতে পারেনি।

যাদের বিরুদ্ধে বলাৎকারের অভিযোগ তারা হলেন- ওই মাদরাসার আরবি শিক্ষক আবু বকর ও আল আমীন।

শুক্রবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এই ঘটনার পর ওই মাদরাসার সাড়ে ৪০০ বেশি শিক্ষার্থীকে বাড়ি নিয়ে গেছেন অভিভাবকরা। 

 

নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রদের অভিভাবকরা জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে সন্তানদের হাফেজ বানাতে যাত্রাবাড়ীর মারকাজুত তাহফিজ মাদরাসায় ভর্তি করান। কিন্তু আবাসিক এই মাদরাসায় বছরের পর বছর শিক্ষার্থী বলাৎকারের অভিযোগ ছিলো। হাতে নাতে যার প্রমাণ মেলে শুক্রবার। হেফজ শাখার আট ও দশ বছরের দুই শিক্ষার্থী বহুদিন ধরে বলাৎকারের শিকার হয়ে আসছিল। শুক্রবার তারা বাড়ি গিয়ে পরিবারে ঘটনা জানালে অভিভাবকরা এসে দুই  শিক্ষক আবু বকর ও আল আমীনকে গণপিটুনি দেয়।


এদিকে মাদরাসার বাকি শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও বলৎকারের অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তবে ঠিক কত দিন ধরে এমন ঘটনা ঘটে আসছে সেই তথ্য দিতে রাজি হয়নি।

মাদরাসাটির শিশুরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষকরা বলাৎকার করে আসছিলেন। তারা মাদরাসাটির চতুর্থ ও পঞ্চম তলা নিয়ে শিশুদের বলাৎকার করতেন।


মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা হাফেজ নেসার আহমদ আন নাছিরী একজন ধর্মীয় বক্তা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার লাখ লাখ ফলোয়ার। তিনি নিজেও এই ঘটনায় গণপিটুনীর শিকার হয়েছেন। ২০০৯ সালে চালু হওয়া এই মাদরাসায় এখন নারী-পুরুষ তিন শাখায় এক হাজারের বেশি  আবাসিক শিক্ষার্থী রয়েছে।

জানা গেছে, মাদরাসাটির খরচও ব্যয়বহুল। ভিআইপি হলে প্রতিমাসে খরচ ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা। আর সাধারণ হলে ১২ থেকে ১৪ হাজার টাকা। মাদরাসাটির আয় মাসে কয়েক কোটি টাকা ।   

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে স্কুলছাত্রী হত্যার দায় স্বীকার প্রাইভেট শিক্ষকের

তবে ঘটনা জানাজানি হলে অভিভাবকরা বেশিরভাগ শিক্ষার্থীকে বাড়ি নিয়ে গেছে । 

অভিযোগ আছে, মাদরাসা মালিক নেছারী এবং স্থানীয় কিছু অসাধু কিছু ব্যক্তির ভয়ভীতির মুখে ভুক্তভোগীরা মামলা করার সাহস পাচ্ছে না।


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

আশা

দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মানসিক বিকলাঙ্গ হওয়া থেকে বাঁচাতে হবে এসব লম্পট স্বার্থান্বেষী ধর্মের ষাঁড়দের থেকে।

আমিনা

এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ করে দেয়া উচিত। এরা ধর্মীয় শিক্ষাদানের নামে স্রেপ ব্যবসা করছে আর অন্ধ অভিভাবকদের কারণে অবুঝ শিশুদের চরম সর্বনাশ করছে যা থেকে একজন শিশু মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে বেড়ে ওঠছে। প্রতিনিয়ত এসব জঘন্য ঘটনা ঘটছে অথচ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রশাসন কেউই সঠিক পদক্ষেপ নিচ্ছেনা।

হাফিজ

ষড়যন্ত্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

আশরাফ

সত্যি সত্যিই দুঃখজনক ব্যাপার হলো এমন, এদের পঁচা গান্দা মস্তিষ্কের কুমন্ত্রণায় কোমলমতি শিশুদের প্রতি দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করার মনমানসিকতা তৈরী করেদেয়।
তাছাড়া আমি ডেমরা স্টাফ-কোয়ার্টারের, সারুলিয়া (সাওতুল হেরা তাহফিজুল কোরআন) মাদ্রাসায় দেখেছি এমন ঘটনা ঘটেছে এবং শুনেছি অনেক অতীতও হয়েছে তাছাড়া একজন বলৎকার বিদায় দিতে গিয়ে যাদের সাক্ষ্য নেওয়া হয় তাদের মধ্যে আমি একজন কিন্তু আদৌ ঐ সন্তানের গার্ডিয়ান জানেনা ঐ মাদ্রাসায় প্রতিনিয়ত কি ঘটে চলছে.....

আব্দুল আহাদ নদীম

আমরা চাই, এইসমস্ত অপরাধীদের কে,আইয়নের আয়তায় এনে দৃষ্টান্ত মুলুক শাস্তি দেওয়া হউক।
★ এদেরকে চিরস্থায়ী ভাবে মাদ্রাসায় পড়নো/মাদ্রাসা প্রতিষ্টিত করা বন্ধ করা হউক।

ছাত্রদের কে স্বাধিন ভাবে তার মত প্রকাশ করার জন্য, মাসে দু এক বার মতবিনিময় করার ব্যবস্থা করা হোক

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৫ দিন আগে