ঢাকা ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

রহিমার নিখোঁজ নাটকের পুরোটাই সাজানো?

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:২০:৩০ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৭:১৩:০০
রহিমার নিখোঁজ নাটকের পুরোটাই সাজানো?

নিখোঁজের ২৮ দিন পর ফরিদপুর থেকে রহিমা বেগমকে জীবিত উদ্ধারের পর নিয়ে আসা হয়েছে খুলনার দৌলতপুর থানায়। উদ্ধারের পর থেকে নির্বাক ভূমিকায় আছেন তিনি। কোন কথা বলতে চাইছেন না রহিমা বেগম। এতে রহস্যের সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নানা ধরনের গল্প ও অভিযোগ।

খুলনা পুলিশ জানায়, রহিমা বেগম ফরিদপুরে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে কী কারণে তিনি এ আত্মগোপন করেছিলেন তা তারা জানতে পারেননি। কারণ জিজ্ঞাসাবাদেও তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। অথচ উদ্ধারের সময় তাকে দুই নারীর সঙ্গে কথা বলতে দেখা গেছে।

রহিমা বেগমকে দেখতে দৌলতপুর থানায় ছুটে এসেছিলেন তার সন্তানরা। প্রথমে রহিমা তাদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানান। পরে পুলিশ কর্মকর্তাদের অনুরোধে তিনি সন্তানদের সঙ্গে দেখা করলেও কোন কথা বলেননি। এমনকি স্বামীর সঙ্গেও দেখা করতে চান না তিনি।

শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে ফরিদপুরে বোয়ালমারীর সৈয়দপুর গ্রামের কুদ্দুসের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়।

ওই বাড়ির বাসিন্দারা পুলিশকে জানিয়েছে, রহিমা বেশ ক’দিন চট্টগ্রাম ও মোকসেদপুরে ছিলেন। এরপর ১৭ আগস্ট বোয়ালমারীতে কুদ্দুসের বাড়িতে যান।

পুলিশ যখন কুদ্দুসের বাড়িতে পৌঁছায়, তখন রহিমা বেগম সেখানে কুদ্দুসের স্ত্রী ও ভাইয়ের বউয়ের সঙ্গে গল্প, হাসি-আড্ডায় মেতে ছিলেন। কিন্তু পুলিশ দেখার পর থেকেই তিনি নির্বাক হয়ে যান। হেফাজতে নেওয়ার পর রাতেও আর কিছু খেতে চাননি।

রহিমা বেগমের এমন নির্বাক হয়ে যাবার ঘটনায় কিছুটা ধন্ধের মধ্যে পড়েছে খুলনা পুলিশ। তাদের ধারণা, কথা বলতে গিয়ে আসল ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকে রহিমা বেগম নিশ্চুপ থাকার কৌশল গ্রহণ করে থাকতে পারেন। 

এদিকে, রহিমা বেগমের নিখোঁজের ঘটনায় তার মেয়ের দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তারদের পরিবার সদস্যরা দাবি করেছেন, সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণেই মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের ফাঁসানো হয়েছে। তাদের দাবি, নিখোঁজের বিষয়টি পুরোই সাজানো।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে খুলনার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের ঘটনায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে পরিকল্পিতভাবে এই নিখোঁজের নাটক সাজানো হয়েছে বলে মনে করছেন তারা। এতে তার মেয়ে মরিয়মসহ অন্য মেয়েরাও জড়িত থাকতে পারে।

এই কর্মকর্তা আরো জানান, পরিকল্পনা মতো তারা যে কোনো নারীর মৃতদেহকে তার মায়ের মৃতদেহ বলে দাবি করার ঘটনাও রহস্যজনক। তবে আত্মগোপনে থাকা সম্পর্কে রহিমা বেগম পুলিশকে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

রহিমা বেগম যে বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছেন, সেই বাড়ির মালিক কুদ্দুসের ভাগনে জয়নাল স্থানীয় সংবাদিকদের জানান, রহিমা বেগম তাদের বাড়িতে আসার পর মারিয়ম মান্নানের ফেসবুক একাউন্টে দেয়া মোবাইলে ফোন করেছিলেন।

তবে সেই ফোন মরিয়মের এক ভাইয়ের বৌ রিসিভ করে জয়নালকে আর ফোন না করতে অনুরোধ করেন। এই কথায় জয়নাল অবাক হন বলেও জানান। নিখোঁজ ব্যক্তির খোঁজ দিয়ে ফোন করার পরও তার স্বজনদের এমন আচরণ অবাক করেছে জয়নালকে।


বোয়ালমারী সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোশারফ হোসেন জানান, রহিমা অবস্থান জানতে পেরে তিনি সঙ্গে সঙ্গে পূর্বপরিচিত খুলনা মহানগরের ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলামকে বিষয়টি জানান। এ সময় সাইফুল দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানান।

তারপর শনিবার রাতে খুলনা ও বোয়ালমারী থানা পুলিশের উপস্থিতিতে রহিমা বেগমকে খুলনা নিয়ে যাওয়া হয়। সবমিলিয়ে রহিমা নিখোঁজের ঘটনা ‘সাজানো নাটক’ বলে মনে করছেন এই জনপ্রতিনিধি। তার মতে পিবিআই তদন্তে আসল ঘটনা দ্রুতই বেরিয়ে আসবে।

বোয়ালমারী থেকে রহিমা বেগমকে উদ্ধারের সময় কুদ্দুস বিশ্বাস বাড়িতে ছিলেন না। সে সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেই বাড়ির তিন জনকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন: রহিমা নিখোঁজের মামলায় গ্রেপ্তারদের কি হবে?

তারা হলেন- বাড়ির মালিক কুদ্দুস বিশ্বাসের স্ত্রী হিরা বেগম, ছেলে আল আমিন বিশ্বাস ও কুদ্দুস বিশ্বাসের ছোট ভাই আবুল কালামের স্ত্রী রাহেলা বেগম।

তারা এখন খুলনা পুলিশের জিম্মায় রয়েছেন। কুদ্দুস বর্তমান বোয়ালমারীর ডোবরা জনতা জুট মিলে কর্মরত।

দৌলতপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার আব্দুর রহমান জানান, মূলত পারিবারিক কলহের কারণে রহিমা আত্মগোপন করেন। পুরো বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এরপর আদালতে তোলা হবে। কারণ তাকে উদ্ধারের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা আছে।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ১২ দিন আগে