ঢাকা ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

পুলিশের সহায়তায় ইয়াবা দিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পটুয়াখালী
প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:৩৬:৪৪
পুলিশের সহায়তায় ইয়াবা দিয়ে টাকা হাতানোর অভিযোগ

পটুয়াখালীতে পুলিশে সহযোগিতায় এক অটোরিকশার চালককে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলার মির্জাগঞ্জ থানার সুবিদখালী লঞ্চঘাট সিনেমাহল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে স্থানীয়রা।

রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) পটুয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী অটোচালক স্বপন ফরাজী।

অভিযোগ পত্রে উল্লেখসহ ভুক্তভোগী জানান, ওই দিন অটো থামিয়ে মনিরুল ইসলাম (কালা মনির),পল্লব ও তারিকুল ইসলাম সুজন নামে তিন জন যাত্রী ওঠেন। পরে তাকে সুবিদখালী লঞ্চঘাট সিনেমাহল এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নিয়ে তারা অটোচালককে বলেন, আমাদের কাছে খবর আছে তুই ইয়াবার ব্যবসা করিস। তোর কাছে মাদক আছে।  

এমন অভিযোগ অস্বীকার করলে কালা মনির বলেন, তোকে সার্চ করবো, তোকে কিন্তু পুলিশ দিয়ে আটক করাবো। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে আসেন ওই চক্রের আরেক সদস্য মেহেদি হাসান মুবিন। 

স্বপনের অভিযোগ, এ সময়ে মনির তার পকেট থেকে তিন পিস ইয়াবা বের করে অটোর সামনে থাকা ক্যাশ বাক্সের মধ্যে রাখেন। এরপর তারা ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেন। 

কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকার করায় তিনজন স্বপনকে মারধর শুরু করেন। পরে সুজন সিকদার নামে এক অটোচালককে দিয়ে ইয়াবার ভিডিও করান। 

তারপরও টাকা দিতে না চাইলে তারা মির্জাগঞ্জ থানায় ফোন দেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে এসআই জালাল আহম্মেদ নামে এক পুলিশ কর্মকর্তা আসেন। 

স্বপন জানান, পুলিশের এসআই জালাল এসে আমার হাতে হাতকড়া পড়িয়ে হাসপাতাল চত্বরের একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যান। গিয়ে বলেন, তুমি কি করো বা না করো এটি দেখার বিষয় না। মাল (ইয়াবা) যেহেতু পেয়েছে তুমি এদের সাথে টাকা পয়সা দিয়ে মিটমাট করো। 

এরপর পুলিশ জালাল ওই তিন ব্যক্তির কাছে তাকে রেখেই চলে যান। যেতে যেতে বলেন আপনাদের (ওই তিন জন) সঙ্গে পরে দেখা করবো।

স্বপন বলেন, পরে আমি বাধ্য হয়ে পরিবারে জানাই। বড়ো ভাই আমিনুল ইসলাম ও স্ত্রী মুক্তা বেগম ১২ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে আসে। সেই টাকা কালা মনিরের হাতে দিলে তারা আমাকে ছেড়ে দেয় এবং আবারও পুলিশের ভয় দেখায়।

অটোচালক আরও জানান, শুক্রবার বিষয়টি জানাজানি হলে ওইদিন রাতে ওই চক্রের সদস্য মুবিন আমার স্ত্রীর ফোন করে ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে দেওয়াসহ নানাভাবে হুমকি দেন। 

তিনি জানান, পরে আমি কোনো কূল না পেয়ে এসপি অফিসে যাই এবং আইনি সহায়তা ও নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে আসি।

এ ব্যাপারে সদস্য মুবিন ও মনির মুঠোফোনে জানান, এসআই জালাল যাওয়ার পরে আমরা গিয়েছি, কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়েছি কিনা আমাদের জানা নাই।

আরও পড়ুন: অবশেষে মুখ খুললেন রহিমা, বললেন অপহরণের শিকার

মির্জাগঞ্জ থানার এসআই মো. জালাল আহম্মেদ বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছি সত্য। তবে ওই অটোচালকের কাছে কোনো মাদক ছিলো না। পরে আমি তাদের সাথে মিটমাট করতে বলে চলে এসেছি। তবে কী মিটমাট করতে বলেছেন এসেছেন এমন কোনো কথা বলেননি এসআই জালাল। তার দাবি, ওই তিন ব্যক্তি বাঁচার জন্য তার নাম ব্যবহার করছে।

এ ব্যাপারে পটুয়াখালী পুলিশ সুপার মো.সাইদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে আজ একটি  লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৯ দিন আগে