ঢাকা ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনে মহাশুন্যে যাচ্ছে নাসার মহাকাশযান

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:২০:২৬ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:২২:২৭
গ্রহাণুর গতিপথ পরিবর্তনে মহাশুন্যে যাচ্ছে নাসার মহাকাশযান

আর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে একটি গ্রহাণুর সাথে মহাশূন্যে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার পাঠানো একটি মহাকাশযান। এর মাধ্যমে গ্রহাণুটির গতিপথ পরিবর্তন করার আশা করছে সংস্থাটি। 

বাংলাদেশ সময় সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা ১৪ মিনিটে এ সংঘর্ষ ঘটবে। পুরো ঘটনাটি বিভিন্ন টেলিস্কোপের সাহায্যে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করা হবে, যার মধ্যে রয়েছে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপও। 

নাসার এই ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট বা সংক্ষেপে ডার্ট মিশনের লক্ষ্য হলো, বড় আকারের একটি পাথরখণ্ডকে পৃথিবীতে আঘাত হানা থেকে থামানো ঠিক কতটা কঠিন হবে সে সম্পর্কে ধারণা করা। পৃথিবী থেকে এক লাখ ১০ হাজার কিলোমিটার দূরে ডাইমরফোস নামের একটি গ্রহাণুতে আঘাত হানবে মহাকাশযানটি। 

নাসা জানিয়েছে, গ্রহাণুটির পৃথিবীতে দিকে আসছে না। এই পরীক্ষার মাধ্যমে সেটিকে পৃথিবীর দিকে ধাক্কা দিয়ে পাঠানোর কোনো সম্ভাবনাও নেই। 


হলিউড সিনেমায় এ ধরনের ঘটনা হরহামেশাই ঘটতে দেখা যায়। তবে আদৌ কী পৃথিবীকে বিধ্বংসী গ্রহাণুর আঘাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব? 

সেটিই জানতে চায় নাসা। তাদের পরিকল্পনা হলো, ধাক্কা দিয়ে গ্রহাণুটির গতিপথ সামান্য বদলে দেয়া যাতে সেটি আর পৃথিবীর দিকে ধেয়ে না আসে। তবে এটি করতে হবে যথেষ্ট সময় হাতে রেখে। 

ডার্ট মিশন এই তত্ত্বকেই পরীক্ষা করে দেখবে। ১৬০ মিটার চওড়া ডাইমরফোসে ঘণ্টায় ২০ হাজার কিলোমিটার বেগে আঘাত হানবে মহাকাশযানটি। 

এর ফলে ডাইমরফোসের গতিপথ সামান্য পরিবর্তিত হয়ে ডিডিমোস নামের আরেকটি বড় গ্রহাণুর চারদিকে আবর্তিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। 


তবে ডাইমরফোসে আঘাত হানা খুব একটা সহজ হবে না। ৭৮০ মিটার চওড়া ডিডিমোস থেকে ডাইমরফোসকে আলাদাভাবে শনাক্ত করতে মাত্র ৫০ মিনিট সময় পাবে মহাকাশযানটি। 

এরপর নেভিগেশন সফটওয়ার ব্যবহার করে ডাইমরফোসে সরাসরি আঘাত হানতে হবে তাকে। 

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীর পদত্যাগ

ডার্টের সাথে জুড়ে দেয়া হয়েছে ১৪ কেজি ওজনের একটি 'কিউবস্যাট', যার কাজ হলো সংঘর্ষের পর ভিডিও ধারণ করা। ৫০ কিলোমিটার দূর থেকে ছবি তুলে কিউবস্যাটটি সেগুলো পৃথিবীতে পাঠাবে। 

ডাইমরফোসের মতো একটি গ্রহাণু যদি পৃথিবীতে আঘাত হানে, যদিও এর সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, এটি প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা দুইশ' মিটার গভীর গর্তের সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে আশেপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ হবে ব্যাপক। 

একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ১২ দিন আগে