ঢাকা ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

করতোয়া নদী থেকে ভেসে উঠছে একের পর এক লাশ

নিজস্ব প্রতিনিধি, পঞ্চগড়
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:১১:৩৩ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২০:২৯:৩৭
করতোয়া নদী থেকে ভেসে উঠছে একের পর এক লাশ

পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় করতোয়া নদীতে নৌকা ডুবির ঘটনায় ভেসে উঠছে একের পর এক লাশ। মৃতের তালিকা ক্রমেই বড় হচ্ছে। সেই সঙ্গে নিখোঁজদের খোঁজে চলছে অভিযান। যদিও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের পারফর্মেন্স নিয়ে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নৌকাডুবির ঘটনায়, রোববার দিবাগত গভীর রাতে একজন এবং সোমবার ভোর থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আট জনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে দিনের বিভিন্ন সময়ে উদ্ধার হয় আরো ১৬ জনের মরদেহ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নৌকাডুবিতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে।

গভীর রাতে ব্রজেন্দ্র নাথের (৫৫) লাশ উদ্ধার করা হয়। সোমবার ভোরে উদ্ধার করা লাশগুলো হলো কবিতা রানী (৫০), সুচিত্রা রানী (২২), দীপ বাবু (১০), ঝর্ণা বালা (৫০), বেজ্যেবালা (৫০) ও দীপশিখা রানী (১০), জগদীশ চন্দ্র (৬০) ও সুব্রত (২) নামে এক শিশুর।

এর আগে উদ্ধার করা হয়- লক্ষী রানী (২৫), অমল চন্দ্র (৩৫), শ্যামলী রানী (১৪), দীপঙ্কর (৩), পিয়ন্ত (২.৫), রুপালী ওরফে খুকি রানী (৩৫), প্রমিলা রানী (৫৫), ধনবালা (৬০), সুনিতা রানী (৬০), ফাল্গুনী (৪৫), প্রমিলা দেবী (৭০), জ্যোতিশ চন্দ্র (৫৫), শোভা রানী (২৭), তারা রানী (২৫), সনেকা রানী (৬০), সফলতা রানী (৪০), হাশেম আলী (৭০), বিলাস চন্দ্র (৪৫), শ্যামলী রানী ওরফে শিমুলি (৩৫), উষশী (৮), তনুশ্রী (৫), শ্রেয়শী, প্রিয়ন্তী (৮), ব্রজেন্দ্রনাথ (৫৫), সনেকা রানীর (৬০) লাশ। এখনও তিনজনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, রোববার বিকেলে মহালয়া উপলক্ষে পাঁচপীর, বোদা, মাড়েয়া, ব্যাঙহারি এসব এলাকার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নৌকায় করে বদেশ্বরী মন্দিরে যাচ্ছিলেন। এ সময় নৌকায় অতিরিক্ত যাত্রী ছিল। এ কারণে মাঝ নদীতে পৌঁছানোর পর যাত্রীর চাপে নৌকা ডুবে যায়।

আরও পড়ুন: পঞ্চগড়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭, নিখোঁজ ৪৩

এ সময় কিছু মানুষ সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও বেশিরভাগ যাত্রীই এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তবে একই দিনে ২৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌকাডুবির সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা উদ্ধার কাজ শুরু করেন। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।

পঞ্চগড় ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক সৈয়দ মাহাবুবু আলম জানিয়েছেন, পঞ্চগড়, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও রাজশাহী থেকে তিনটি ডুবুরি দল সোমবার সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে ভাটি অংশের ২৫-৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত চালানো হবে অভিযান।


জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দীপঙ্কর রায় বলেছেন, ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী ওঠার কারণে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার সকালে বোদা উপজেলার মাড়েয়া বামনহাট ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেন তিনি।

দীপঙ্কর রায় বলেন, রোববার তদন্ত কাজ শুরু করেছি। প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে অতিরিক্ত যাত্রী নেওয়ার কারণে নৌকাটি ডুবে গেছে। অন্য কারণও থাকতে পারে। এখনো তদন্তকাজ চলছে। সোমবারের মধ্যেই তদন্ত শেষ করে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৫ দিন আগে