ঢাকা ২৬ নভেম্বর ২০২২, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চুরির মামলা, তিন পুলিশ ক্লোজড

নিজস্ব প্রতিনিধি, কু‌মিল্লা
প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৫১:২১ আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ ২১:৫১:৩৭
সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় চুরির মামলা, তিন পুলিশ ক্লোজড

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানাধীন চাপিতলা গ্রামে এক গর্ভবতী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও ধর্ষণের ঘটনায় গাফিলতির কারণে ৩ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ সেপ্টেম্বর)  বিষয়টি নিশ্চিত করেন বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল হোসেন।

ক্লোজড হওয়া পুলিশ সদস্যরা হলেন- মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই ওমর ফারুক, এএসআই আতাউর রহমান এবং কনস্টেবল মামুন।

স্থানীয় রায়হান চৌধুরী জানায়, মুরাদনগ‌রের চাপিতলা গ্রামে গত ১৫ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ও রাতে মা ও ছোট সন্তানকে মারধর করে হাত-পা বেধে মুখে স্ক্রচট্যাপ লাগিয়ে তার গর্ভবতী মেয়েকে পাশের রুমে নিয়ে ধর্ষণ করে ৮ থেকে ১০ জনের একটি দল।

ওই সময় বিবস্ত্র অবস্থায় ভিডিও ধারণ করা হয়। এছাড়া মেয়েটির গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য পেটে লাথি মেরে আহত করে।

ঘটনার পরদিন গত ১৬ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করতে গেলেও প্রকৃত সত্য ঘটনাকে আড়াল করে সাধারণ চুরির অভিযোগ নিয়ে সময় ক্ষেপণের মাধ্যমে ঘটনার প্রধান আসামিকে পালিয়ে যেতে সহায়তার অভিযোগে রোববার বিকেলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই পুলিশ সদস্যদেরকে বাঙ্গরা বাজার থানা থেকে ক্লোজড করা হয়।

এ বিষয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল হোসেন বলেন, এক গর্ভবতী গৃহবধূকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ ও ধর্ষণের ঘটনায় গাফিলতির কারণে জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ৩ পুলিশ সদস্যকে ক্লোজড করা হয়েছে।

পু‌লিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই গৃহবধূকে তার ননদের স্বামী জাকির হোসেন ও এবং আরো ৮ থেকে ৯ জন বিবস্ত্র করে ভিডিওধারণ ও ধর্ষণ করে।

ঐদিন ৯৯৯ -এ কল দিলেও ভুক্তভোগী পরিবার পুলিশের সহায়তা পাননি।

পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর সুমি আক্তারের বাবা কবির হোসেন বাদি হয়ে অভিযুক্ত জাকির হোসেন ও তার সহযোগীদের নামে অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সুমি আক্তারের পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালায়।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুক অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণের আশ্বাসে অভিযোগকারী পক্ষের নিকট হতে ১ হাজার ৫০০ টাকা আদায় করে এবং আরো টাকার দাবি করেন।

ভুক্তভোগী পরিবারটি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ওমর ফারুক মামলা নিতে গড়িমসি করেন।

আরও পড়ুন: রহিমা বেগম ও মরিয়ামের বিরুদ্ধে মামলাবাজির অভিযোগ

পরে ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করা হলে প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় এসআই ওমর ফারুক ও তার দুই সহযোগী এএসআই আতাউর রহমান ও কম্পিউটার অপারেটর মিজানুর রহমানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।


একাত্তর/আরএ

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৫ দিন আগে