ঢাকা ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

অধিকৃত চার অঞ্চলে ৯৫ শতাংশ ভোটার রাশিয়ার পক্ষে

একাত্তর অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৩:৫৫:৪৫ আপডেট: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৫:৩১:২৮
অধিকৃত চার অঞ্চলে ৯৫ শতাংশ ভোটার রাশিয়ার পক্ষে

ইউক্রেন ভূখণ্ডের চারটি অঞ্চলে বিতর্কিত গণভোট সম্পন্ন হয়েছে। গণভোটে রাশিয়ার অংশ হওয়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ, এমনটাই জানিয়েছেন এসব অঞ্চলে মস্কোর নিয়োগ দেওয়া কর্মকর্তারা। 

বুধবার কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, জাপোরিঝিয়া এবং খেরসন অঞ্চলে এই গণভোটের আয়োজন করা হয়। ভোটে প্রায় ৯৫ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

এই চার অঞ্চল ইউক্রেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ১৫ শতাংশ। এসব এলাকার প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এ গণভোটে অংশগ্রহণ করে নিজেদের মতামত রাখার সুযোগ পেয়েছেন। 

রয়টার্স বলছে, চারদিন ধরে চলা গণভোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনি কর্মকর্তারা সেনাসদস্যদের প্রহরায় মানুষের বাড়িতে বাড়িতে ব্যালট বাক্স নিয়ে যান। শুধুমাত্র মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রগুলো খোলা হয়। 


লুহানস্কের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানকার ৯৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

অন্যদিকে জাপোরিঝিয়ায় এক রুশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সেখানে ৯৩ দশমিক ১ শতাংশ মানুষ রাশিয়াযর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। 

খেরসনে ৮৭ শতাংশেরও বেশি মানুষ রাশিয়ার সাথে যুক্ত হতে একমত প্রকাশ করেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার ভোটিং কমিটির প্রধান। 

তবে এসবচেয়ে এগিয়ে আছে দোনেৎস্ক অঞ্চল।  স্বঘোষিত দোনেৎস্ক পিপলস রিপাবলিকের প্রধান ডেনিস পুশিলিন বলেছেন, অঞ্চলটির ৯৯ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ রাশিয়ায় যোগ দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: পাকিস্তান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে পাল্টা উপদেশ চীনের

রুশ কর্মকর্তারা বলছেন, গণভোট সম্পন্ন হওয়া চারটি অঞ্চলের সবগুলোতেই ব্যালট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে সেখানে কোনো আন্তর্জাতিক নির্বাচন পরিদর্শক ছিলেন না। 

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী শুক্রবার রুশ পার্লামেন্টে দেওয়া ভাষণে এই চারটি অঞ্চলকে রাশিয়ায় একীভূত করার ঘোষণা দিতে পারেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

ইউক্রেন আগেই এ ভোটকে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং রাশিয়াকে দখলদার আখ্যা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী দিমিত্রো কুলেভা এ ভোটকে অস্বীকার করে রাশিয়ার ওপর আরও নিষেধাজ্ঞা জারি করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপত্যকাকে একই ধরনের গণভোটের পর রাশিয়ার ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিলেন পুতিন।

এরইমধ্যে এ গণভোটের সঙ্গে জড়িত রুশ কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। 

আর যুক্তরাষ্ট্র বলছে, রাশিয়া যদি এসব অঞ্চল দখল করে তাহলে মস্কোর উপর আরও নিষেধাজ্ঞা দেয়া হবে। 

তবে এসব হুমকিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না পুতিন। তিনি দাবি করেছেন, ইউক্রেনে জাতিগতভাবে নিপীড়নের শিকার রুশ ভাষাভাষীরা এর মাধ্যমে মুক্তি পাবে। 


একাত্তর/আরবিএস  

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads