ঢাকা ০১ ডিসেম্বর ২০২২, ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৯

বাগেরহাটে এক দুর্গাপূজা মণ্ডপে ১৫১ প্রতিমা

বিষ্ণুপ্রসাদ চক্রবর্তী, বাগেরহাট
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৮:৪৮:২৭ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২ ১৯:০১:২৫
বাগেরহাটে এক দুর্গাপূজা মণ্ডপে ১৫১ প্রতিমা

রাত পোহালেই শুরু হতে যাচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড়ো ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। সারাদেশে অনুষ্ঠিত হতে চলা বাড়ির পূজা ও বারোয়ারী মণ্ডপগুলো ইতিমধ্যে তাদের প্রস্তুতি প্রায় শেষে করে ফেলেছে। এর ব্যতিক্রম হয়নি বাগেরহাটেও। জেলায় চলছে জোর প্রস্তুতি। তবে খানিকটা ভিন্ন আঙ্গিক নিয়ে এবার পূজা উদযাপন করতে যাচ্ছে সদর উপজেলার চুলকাঠি বণিকপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপ।

এই মণ্ডপে এবার ১৫১টি দেব-দেবীর প্রতিমা সাজিয়ে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিমার মাধ্যমে সেখানে পুরাণ, রামায়ণ ও মহাভারতের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। শুক্রবার থেকেই দর্শনার্থীরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আসতে শুরু করেছেন। 


জানা গেছে, চুলকাঠি বণিকপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে ২০০১ সাল থেকে পূজার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রথম দিকে ছোট পরিসরে হলেও ২০০৫ সালে এই পূজা মণ্ডপে ১০১টি প্রতিমা সাজিয়ে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়। এর পর প্রতিবছর এই পূজা মণ্ডপে প্রতিমার সংখ্যা বাড়তে থাকে। তবে গেলো দুই বছর করোনার কারণে সীমিত পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়েছিল। 

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকালে চুলকাঠি বণিকপাড়া পূজা মণ্ডপে গিয়ে দেখা গেছে, মূল মণ্ডপের সঙ্গে প্যান্ডেল করে দু’টি সারিতে আলাদা ভাবে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা সাজিয়ে রাখা হয়েছে। মহামায়া দেবী দুর্গার সঙ্গী হিসেবে সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলিযুগের বিভিন্ন দেব-দেবী আর্বিভূত হয়েছেন পূজা মণ্ডপ জুড়ে।


পূজা প্যান্ডেল ঘুরে দেখা গেছে, হাতিতে চড়ে দুর্গার মর্ত্যলোকে আগমন এবং নৌকায় চড়ে গমন, দেবীর অকাল বোধন, অসুর রক্তবীজ বধ, সতীর দেহত্যাগ, দেবী কঙ্কালে কালি, মৎস্য অবতার, হর পার্বতীর বিয়ে, রাধাকৃষ্ণের ঝুলন, ব্রহ্মচারিনী, অহল্যা পাষাণী, নৃশংস অবতার, দেবী সিদ্ধাধার্থী, বিষ্ণুপ্রিয়ার মালাবদল, অগ্নিপরীক্ষা এবং শ্রীকৃষ্ণের নৌকাবিলাসসহ প্রতিমার মাধ্যম ফুটিয়ে তুলা হয়েছে। পূজা প্যান্ডেলের ভেতর এবং বাইরে সিসি ক্যামেরায় নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

এছাড়া বাগেরহাট শহরের শত বছরের প্রাচীনতম শ্রীশ্রী হরিসভা মন্দিরে গিয়ে দেখা গেছে, সাজসজ্জায় সেখানে নানা বৈচিত্র আনা হয়েছে। থিমের উপর ভিত্তি করে মন্দিরে সাজসজ্জা করা হয়েছে। অনটাইম প্লেট, বাটি এবং বাঁশের তৈরি কুলাসহ নানা উপকরণ সাজসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে। 

চুলকাঠি বণিকপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা আয়োজক কমিটির সভাপতি দীপঙ্কর কুমার সাধু জানান, সনাতন ধর্মের ইতিহাস, ধর্ম সম্পর্কে মানুষকে জানানো, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের প্রতি ভ্রাতিত্ববোধ তৈরি করা এবং শান্তির বাণী ছড়াতে এই আয়োজন। সব ধর্মের মানুষ এই পূজা মণ্ডপে এসে আনন্দ উপভোগ করছেন।


প্রতিমার কারিগর গণেশ সরকার জানান, তারা চার জন আড়াই মাস ধরে ১৫১টি বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরি করেছে। মহাভারত ও রামায়ণের কাহিনী অবলম্বনে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা রঙ আর অলঙ্কার দিয়ে প্রতিমা নানাভাবে সাজানো হয়েছে। 

দর্শনার্থীরা বলেন, একটি বছর ধরে তারা দুর্গাপূজার জন্য অপেক্ষা করেন। দুর্গাপূজা এখন বাঙালির সংস্কৃতির অংশ। সব ধর্মের মানুষ এই উৎসবে মেতে ওঠে। মন্দিরে বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা দেখে তারা সনাতন ধর্ম সম্পর্কে আরও জানতে পেরেছে। 

বাগেরহাট জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অমিত রায় জানান, এবছর শারদীয় দুর্গোৎসবে তাদের মধ্যে এক ধরণের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে প্রতিটি মন্দিরে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আজিজুর রহমান জানান, উৎসবমুখর এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য সব ধরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পূজামণ্ডপ মনিটরিং করা হচ্ছে। কেউ যাতে কোনো ধরনের গুজব ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাতে না পারে এজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

আরও পড়ুন: মুরগির খোপ থেকে ১১ ফুট লম্বা অজগর উদ্ধার


বাগেরহাটের পুলিশ সুপার কেএম আরিফুল হক জানান, শারদীয় দুর্গোৎসবে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আনসার সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে। গঠন করা হয়েছে মন্দিরে সম্প্রীতি কমিটি। 

উল্লেখ্য, বাগেরহাট জেলায় এবছর ৬৩২টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। 


একাত্তর/এসি

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads
ছাদ খোলা অভিবাদন!

ছাদ খোলা অভিবাদন!

২ মাস ৯ দিন আগে