ঢাকা ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২৫ মাঘ ১৪২৯

ফারদিন হত্যা নিয়ে এখনো অন্ধকারে গোয়েন্দা পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, একাত্তর
প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০২২ ১৫:১১:১৭
ফারদিন হত্যা নিয়ে এখনো অন্ধকারে গোয়েন্দা পুলিশ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র কাজী ফারদিন নূর পরশ হত্যাকাণ্ড নিয়ে গোয়েন্দা পুলিশ এখনও অন্ধকারে রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির প্রধান ও ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ। এখনও ঘটনার কোনো ক্লু পায়নি ডিবি।

শনিবার (১২ নভেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা জানান। ডিবি প্রধান বলেন, ফারদিন হত্যায় তার বান্ধবী বুশরা জড়িত কিনা তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মাদক সংশ্লিষ্টতার ফারদিন খুন হয়েছে কিনা তাও স্পষ্ট নয়। 

হারুন অর রশীদ বলেন, গোয়েন্দা পুলিশের ধারণা ফারদিন হয়তো ঢাকা শহরের কোথাও খুন হয়েছে। হত্যা রহস্য উদঘাটনে তদন্তকারি সংস্থা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। তদন্তের সঙ্গে জড়িত একাধিক সংস্থা ডেমরা চনপাড়া বস্তিতে অভিযান চালিয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ফারদিনের মোবাইলের ডাটা এনালাইসিস ও বিভিন্ন জায়গায় সে যার সঙ্গে কথা বলেছে সবকিছু মিলিয়ে আমার কাছে মনে হচ্ছে ঢাকা শহরের কোনো এক জায়গায় খুন হতে পারেন। মোবাইলের লোকেশনে আমরা নারায়ণগঞ্জও পেয়েছি। সব কিছু মিলিয়ে তদন্তে এখনও হত্যার বিষয়ে কোনো ক্লু পাইনি।

হারুন অর রশীদ বলেন, ফারদিনের বাবা প্রথমে একটি জিডি করেন, পরে তিনি মামলা করেন। এক নম্বর আসামি বুশরাকে গ্রেপ্তার করেছি। পাশাপাশি মামলার এফআইআরে তার নাম আসায় আমরা মনে করছি না যে সে-ই দায়ী। সে রিমান্ডে এসেছে, তার সঙ্গে আমরা কথা বলছি। 

তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরে ফারদিন যেখানে যেখানে গেছেন আমরা বিভিন্ন টেকনিক্যাল মাধ্যম ব্যবহার করে খুঁজে বের করেছি। তবে কোনো নিশ্চিত তথ্য বের করতে পারিনি বলে কিছু বলছি না। তবে কাজ চলছে এবং আমরা মনে করি, ডিবির টিম রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে।

মাদকের বিষয়ে খুন হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে ডিবি প্রধান বলেন, আমরা এই কথা এখনই বলছি না যে সে মাদকের কারণে খুন হয়েছে। অথবা এক নম্বর আসামি যাকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি সেই খুন করেছে, এটাও আমার বলছি না। বিভিন্ন বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করছি।

ডিবি নির্দিষ্ট কাউকে খুঁজছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্তের স্বার্থে আমরা চনপাড়া, ডেমরা, খিলগাঁও গিয়েছিলাম। সব জায়গায় আমাদের টিম কাজ করছে, আমরা এখনো কোনো কংক্রিট তথ্য পাইনি। ডিবির পক্ষ থেকে কখনো বলা হয়নি, ফারদিন চনপাড়া গিয়ে মাদকের কারণে মারা গেছে।

আলাদা এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কর্মকর্তা হাফিজ আক্তার বলেন, প্রাথমিকভাবে কিছু ঘটনা আমরা জানতে পারছি। কিন্তু এখনই কিছু বলা যাবে না। যাঁরা তদন্ত করছে, তাঁরা আসল ঘটনা বের করতে সক্ষম হবেন। আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে এটা নিয়ে কাজ করছি।

বুশরার বিষয়ে হাফিজ আক্তার বলেন, তদন্তের একটা বিষয় হলো- কে দোষী তাকে শনাক্ত করা, যে নির্দোষ তাঁকে বের করে দেওয়া। কেউ দোষী থাকলে অবশ্যই তাঁকে আইনের আওতায় আনতে হবে। এই কাজগুলো শুরু হয়েছে মাত্র। তদন্ত শেষে বলতে পারব।

তিন দিন নিখোঁজ থাকার পর ৭ নভেম্বর বিকেলে নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ফারদিনের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহ ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তাকে হত্যা করা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাতে ফারদিনের বাবা নূর উদ্দিন রানা তার বান্ধবী আমাতুল্লাহ বুশরাক ও আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা করেন। মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, বুশরার ইন্ধনে পরশকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। 

এরপর বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রামপুরা এলাকার একটি বাসা থেকে বুশরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই তাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। 

একাত্তর/এআর

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads