ঢাকা ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২০ মাঘ ১৪২৯

এমপি ভাগ চাওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া কম্বল ফেরত দিল চেয়ারম্যানরা

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ১৮:৫২:৫৯
এমপি ভাগ চাওয়ায় বরাদ্দ পাওয়া কম্বল ফেরত দিল চেয়ারম্যানরা

শীতার্ত মানুষের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ পাওয়া কম্বল উপজেলা পরিষদে ফেরত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যানরা। 

চেয়ারম্যানদের অভিযোগ, স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তাদের দিয়ে ফোন করে বরাদ্দ থেকে নির্দিষ্ট অংশ তাকে দেবার জন্য জানায়। আর এতেই ক্ষুব্ধ চেয়ারম্যানরা বরাদ্দের সকল কম্বলই উপজেলা পরিষদে ফেরত দিয়ে দেয়।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় এ ঘটনা ঘটে। 

তবে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন জানান, ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধান করা হবে।

শাহজাদপুর উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদের সভাপতি গালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন জানান, গত কয়েকদিন আগে প্রতিটি ইউনিয়নের শীতার্ত মানুষের জন্য ৩৫০টি করে কম্বল বরাদ্দ দেয় পিআইও অফিস। তারা সেগুলো বুঝে নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়েও যান। কিন্তু গত মঙ্গলবার পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন ফোন করে সকলকে জানান বরাদ্দ থেকে ২শ কম্বল স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দিতে হবে। তিনি নিজে এগুলো বিতরণ করবেন।

তিনি আরও জানান, পরে সকল ইউপি চেয়ারম্যান বসে সিদ্ধান্ত নেন ইউনিয়ন এলাকায় ১৫০টি কম্বল বিতরণ করে কোন লাভই হবেনা। যেহেতু সংসদ সদস্যও শীতার্ত মানুষের মাঝেই কম্বল বিতরণ করবেন। সেক্ষেত্রে পুরো কম্বল তার জন্য বরাদ্দ দিলেই অন্তত তার পছন্দের মানুষগুলো শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে পারবে। এজন্য গাড়াদহ ইউনিয়ন বাদে তারা বাকি সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দেবার সিদ্ধান্ত নেন। 

তিনি জানান, এজন্য বৃহস্পতিবার ছয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তাদের বরাদ্দকৃত কম্বল আবারও উপজেলা পরিষদে ফেরত দিয়েছেন। বাকীরা বিকেলে অথবা রোববারে ফেরত দিয়ে দেবে।

শাহজাদপুর পিআইও অফিসের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন জানান, ইউএনওর নির্দেশে তিনি সকল চেয়ারম্যানকে ফোন করে বরাদ্দকৃত কম্বল থেকে ২০০ কম্বল স্থানীয় সংসদ সদস্যদের জন্য রাখার বিষয়ে জানান। এটি তিনি নিজে বিতরণ করবেন। আর বিষয়টি মানতে নারাজ ইউপি চেয়ারম্যানরা। আর এজন্যেই বৃহস্পতিবার সকালে ছয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা কম্বল ফেরত দিয়ে গেছেন। সেগুলো উপজেলা গুদামে রাখা হয়েছে। 

আরও পড়ুন: কলেজছাত্রকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে তিন কনস্টেবল বরখাস্ত

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া আফরিন জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্যও জনপ্রতিনিধি। তিনিও বরাদ্দের যেকোনো জিনিস বিতরণ করতেই পারেন। তিনি কম্বলগুলো নিজ হাতে বিতরণ করতে চেয়েছেন। সেজন্যেই  ইউপি চেয়ারম্যানদের বলা হয়েছে। আর এতে হয়তো চেয়ারম্যানরা ভুল বুঝেছেন। ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়তো কম্বলগুলো ফেরত দিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিয়ে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে কথা বলে সমাধান করবেন বলে জানান।


একাত্তর/জো

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads