ঢাকা ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩, ২১ মাঘ ১৪২৯

শিশুকে হত্যার পর মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে হত্যাকারী গ্ৰেপ্তার

নিজস্ব প্রতিনিধি, নওগাঁ
প্রকাশ: ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ২১:৪১:০১ আপডেট: ০১ ডিসেম্বর ২০২২ ২২:০৪:১১
শিশুকে হত্যার পর মুক্তিপণ আদায় করতে গিয়ে হত্যাকারী গ্ৰেপ্তার

নওগাঁর আত্রাইয়ে হত্যার ২১ দিন পর ওই শিশুকে অপহরণের দায়ে গ্রেপ্তারকৃত তরুণের জবানবন্দি অনুযায়ী হত্যার শিকার এক শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ভোর পাঁচটার দিকে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের শ্রীধরগুড়নই গ্রামের আত্রাই নদের পারাপার ঘাটের কাছে মাটিচাপা দেয়া ওই শিশুর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

জানা গেছে, হত্যার শিকার শিশু ইব্রাহিম হোসেন (৬) আত্রাই উপজেলার শ্রীধরগুড়নই গ্রামের হযরত আলীর ছেলে। আর গ্রেপ্তারকৃত বুলবুল সোনার (৩১) একই গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। তিনি একজন মুদি দোকানদার এবং স্থানীয় শ্রীধরগুরনই দাখিল মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বিকেলে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার (এসপি) মুহাম্মদ রাশিদুল হক এসব কথা জানান ।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত ১০ নভেম্বর শিশুটি নিখোঁজ হলে তাকে খুঁজে না পেয়ে তার বাবা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। এরপর পুলিশ শিশুটির সন্ধানে কাজ শুরু করে। এর একপর্যায়ে এক রাতে জানালা দিয়ে শিশুটির বাবার শয়নকক্ষে ফেলে যাওয়া একটি চিঠিতে বলা হয় নতুন একটি সিম ও মোবাইল ক্রয় করে শিশুর বাবা যেন বাবুর দোকানের সামনে তুলার মধ্যে রেখে আসেন এবং ছয় লাখ টাকা মুক্তিপণ প্রস্তুত রাখেন। এরপর ২৬ নভেম্বর রাত ১০ টার পর একটি অজ্ঞাত মোবাইল নম্বর থেকে শিশুটির বাবার মোবাইল ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। 

তিনি আরও জানান, এ ঘটনার পর পুলিশ শিশু ইব্রাহিমের বাবার বক্তব্য, স্থানীয় সোর্স এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে বুলবুল এসব কাণ্ডগুলো ঘটাচ্ছেন। এমন তথ্য নিশ্চিত হয়ে শিশু ইব্রাহিমের বাবা হযরত আলী বাদী হয়ে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে বুলবুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করলে সেই মামলায় বুলবুল সোনারকে পরের দিন মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) বিকেলে থানা পুলিশ গ্ৰেপ্তার করে।

এসপি আরও জানান, গ্ৰেপ্তারের পর বুলবুল পুলিশকে জানায় খন্ডকালীন শিক্ষকতায় তেমন বেতন না পাওয়ায় সংসার পরিচালনা করতে গিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ঋণের জালে জড়িয়ে যান তিনি। সেসব টাকার জন্য তাকে বারবার চাপ দেয়া হচ্ছিল। তাই এই ঋণ থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যই  শিশুর বাবার কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি। কিন্তু পুলিশের কাছে এ বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য না হলে তাকে বিজ্ঞ আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চাইলে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

এসপি রাশিদুল হক জানান, রিমান্ডে থাকা অবস্থায় জিজ্ঞাসাবাদে বুলবুল স্বীকার করেন শিশুটি গত ১০ নভেম্বর দুপুরে তার দোকানে গিয়ে পাঁচ-ছয়টি বেলুন ফাটায়। এতে তিনি শিশু ইব্রাহিমকে দোকান থেকে চলে যেতে বললে শিশুটি চলে না গিয়ে আরও বেলুন চাইলে বুলবুল রাগ করে শিশুটিকে গলা টিপে হত্যা করে চা স্টলের পিছনে ছাইয়ের স্তূপের মধ্যে বস্তাবন্দি করে পুঁতে রাখেন। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর বালতিতে করে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ পাশের আত্রাই নদীর ভিতরে পুঁতে রেখে একটি বড় কংক্রিটের ক্লাব দিয়ে চাপা দিয়ে রাখেন। 

আরও পড়ুন: কেন্দ্রের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে কুপিয়ে জখম

পরে বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) ভোরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এলাকার লোকজনের উপস্থিতিতে বুলবুলের দেখানো স্থান থেকে শিশুটির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আসামিকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির জন্য বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করবে বলেও জানান পুলিশ সুপার।


একাত্তর/জো

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads