ঢাকা ৩১ মে ২০২৩, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩০

প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে আবাসিক সুবিধার দাবি

তানিয়া রহমান, সিলেট থেকে ফিরে
প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৩ ১৯:০২:০৮
প্রকৃতিকন্যা জাফলংয়ে আবাসিক সুবিধার দাবি

সিলেটকে সবাই যেমন চায়ের দেশ হিসেবে চেনে, তেমনি চেনে 'জলকন্যা জাফলং' এর দেশ হিসেবেও। পিয়াইন নদীর তীরে পাথরের স্তূপ জাফলংকে করেছে অতুলনীয়। দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন এই নয়নাভিরাম সুন্দরের কাছে। দর্শনার্থীরা জানান, আবাসন সুবিধা থাকলে পর্যটক আরও বাড়তো। পাশাপাশি নতুন সম্ভাবনাও তৈরি হতো। 

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা জাফলং যেন প্রকৃতির রূপের পসরা সাজিয়ে রয়েছে। পাথরের উপর দিয়ে বয়ে চলা পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানির ধারা, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, উঁচু উঁচু পাহাড়ে সাদা মেঘের খেলা জাফলংকে করে তুলছে অনন্য। 

প্রকৃতি কন্যা হিসাবে সারাদেশে এক নামে পরিচিত সিলেটের জাফলং। খাসিয়া জৈন্তা পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত জাফলং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি। সিলেট নগরী থেকে ৬২ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বদিকে জাফলংয়ের অবস্থান। এটি একেক ঋতুতে একেক রূপের সেজে ওঠে। ভ্রমণের জন্য সারা বছরই আকর্ষণ জাফলং নিয়ে আকর্ষণ থাকে পর্যটকদের। 


জাফলংয়ে শীত ও বর্ষা মওসুমের সৌন্দর্যের রূপ ভিন্ন। বর্ষায় জাফলংয়ের রূপ লাবণ্য যেন ভিন্ন মাত্রায় ফুটে উঠে। ধূলি ধূসরিত পরিবেশ হয়ে উঠে স্বচ্ছ। স্নিগ্ধ পরিবেশে শ্বাস-নি:শ্বাসে থাকে ফুরফুরে ভাব। খাসিয়া পাহাড়ের সবুজাভ চূড়ায় তুলার মত মেঘরাজির বিচরণ এবং যখন-তখন অঝোর ধারায় বৃষ্টি পাহাড়ি পথ হয়ে উঠে বিপদ সংকুল-সে যেন এক ভিন্ন শিহরণ। সেই সঙ্গে কয়েক হাজার ফুট উপর থেকে নেমে আসা সফেদ ঝর্ণাধারার দৃশ্য যে কারোরই নয়ন জুড়ায়।

সীমান্তের ওপারে ভারতীয় পাহাড় টিলা, ডাউকি পাহাড় থেকে অবিরাম প্রবহমান জলপ্রপাত, ঝুলন্ত ডাউকি ব্রিজ, পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ হিমেল পানি, উঁচু পাহাড়ে গহীন অরণ্য ও শুনশান নীরবতার কারণে এলাকাটি পর্যটকদের পছন্দের তালিকার প্রথম দিকে থাকলেও হোটেল-মোটেলসহ পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা না থাকায় কমে যায় পর্যটক।


শুধু দেশি নয় বিদেশি পর্যটকরা যেন সিলেটের এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন তার জন্য এখনই থেকে ব্যবস্থা নেয়ার তাগিদ দেন ভ্রমণপিপাসুরা। 

আরও পড়ুন: রাজশাহীতে এবার দুই হাজার কোটি টাকার আম বাণিজ্য

ইতিহাস বলছে, হাজার বছর ধরে জাফলং ছিল খাসিয়া জৈন্তা-রাজার অধীন নির্জন বনভূমি। ১৯৫৪ সালে জমিদারী প্রথা বিলুপ্তির পর খাসিয়া জৈন্তা রাজ্যের অবসান ঘটে। তারপরও বেশ কয়েক বছর জাফলংয়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল পতিত পড়ে ছিল।

ব্যবসায়ীরা পাথরের খোঁজে নৌপথে জাফলং আসতে শুরু করে। পাথর ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকায় গড়ে উঠে নতুন জনবসতি। আশির দশকে সিলেটের সঙ্গে জাফলংয়ের সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে জাফলংয়ের নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের কথা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে।


একাত্তর/এসজে

মন্তব্য

এই নিবন্ধটি জন্য কোন মন্তব্য নেই.

আপনার মন্তব্য লিখুন

Nagad Ads