নিউইয়র্কে বেলায়েত হোসেনের একক আবৃত্তি সন্ধ্যা

নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের খ্যাতিমান বাচিক শিল্পী বেলায়েত হোসেনের একক আবৃত্তি সন্ধ্যা। রোববার সন্ধ্যায় জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে উচ্চারণ কালচারাল একাডেমির উদ্যোগে এ আবৃত্তি সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় শিল্পী প্রায় দেড় ঘণ্টা রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে নজরুলের কবিতাসহ অন্য কবিদের কবিতা পাঠ করেন।

সরেজমিন, সাপ্তাহিক এ ছুটির দিনে মিলনায়তন ছিল পরিপূর্ণ। নিউইয়র্কের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের মিলনমেলা পরিণত হয় আয়োজনটি। 

শুরুতে শুভেচ্ছা বার্তা দেন বিশিষ্ট চিত্র শিল্পী মাতবুল আলী। আর তার বাণী পড়ে শোনান সূতপা মণ্ডল। উচ্চারণ কালচারাল একাডেমির যাত্রাও শুরু হয় এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। 

প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার ও বাচিক শিল্পী গোপন সাহার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শিল্পী বেলায়েত হোসেনকে পরিচয় করিয়ে দেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী ও আবৃত্তি শিল্পী লুৎফুন নাহার লতা। 

জানা যায়, বেলায়েত হোসেনের জন্ম ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশের পুরোনো ঢাকার গেণ্ডারিয়ায়। ছেলেবেলা থেকেই শিল্প সাহিত্যের পরিমণ্ডলে তার বেড়ে ওঠা। একাডেমিক পাঠের পাশাপাশি ছিলো পরিবারে নানারকম শিল্প সাহিত্য বিষয়ক পত্রপত্রিকার পঠন পাঠন। পড়াশোনার পাশাপাশি আবৃত্তি, নাটক, চিত্রকলা, রবীন্দ্র সঙ্গীত এবং লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত তিনি।

দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংস্কৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বেলায়েত। বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই যুক্ত আছেন তিনি। বর্তমানে পরিষদের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য তিনি। 

বেলায়েত উদীচী’র কেন্দ্রীয় সংসদের সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য এবং আবৃত্তি বিভাগ-এর প্রশিক্ষক বলেও জানা গেছে।


বেলায়েত হোসেন বহু আবৃত্তি বিষয়ক পাণ্ডুলিপি রচনা, গ্রন্থনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রেস রিপোর্ট, প্রথম দিনের সূর্য, নগর তিলোত্তমার কথকথা, সাম্প্রদায়িক সমাচার, রক্তাক্ত যশোর, জোট বাঁধো তৈরী হও, বজ্রে তোমার বাজে বাঁশী, ‘এই মৃত্যু’, ‘জীবন ও সংকল্প”, ‘যদি আর বাঁশী না বাজে’, ‘সূর্যদেব, ঘুমকি ভালো’ ইত্যাদি ।

তার প্রথম একক আবৃত্তি অনুষ্ঠান ‘জীবনে প্রদীপ জ্বালো’ ২০০৮ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় একক অনুষ্ঠান হয় সুনামগঞ্জে, তৃতীয় একক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ঢাকায় অবস্থিত আমেরিকার ইএমকে সেন্টার। দেশের বাইরে ভারত, ফ্রান্স, কানাডায় একক ও যৌথ অনুষ্ঠানে তার আবৃত্তি সুধিজনে দারুণভাব সমাদৃত হয়। 

তার প্রকাশিত একক আবৃত্তি এ্যালবাম- ‘আগুনের কাছে ফুলের অঙ্গীকার’, ‘ঠিকানা’ , ‘এক আকাশের তারা’, ‘আমারই চেতনার রঙে’, দ্বৈত-এ্যালবামঃ ‘দ্বৈত রথ’, ‘বৈশাখের চিঠি’, দেশের বিশিষ্ট শিল্পীদের সঙ্গে যৌথ এ্যালবাম-পূর্বাপর, মেঘ রৌদ্রের খেলা, তোমার পতাকা যারে দাও সুধিজনে বহুল প্রশংসিত।

এবার নিউইয়র্কে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিতে ছিল পিনপতন নীরবতা। অসাধারণ এক একটি কবিতা কেবল আবৃত্তিই করেননি তিনি, সঙ্গে জানিয়েছেন কবিতাটির প্রাসঙ্গিকতা। হৃদয় দিয়ে যা উপভোগ করেছেন দর্শক শ্রোতারা। 

অনুষ্ঠানের শেষ শিল্পীর প্রতি শুভ কামনা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট নিউইয়র্কের আহবায়ক মিথুন আহমেদ। 

পরে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য রাখেন আরও কয়েকজন। অনুষ্ঠানে শিল্পীর হাত ফুল তুলে দিয়ে তার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা হয়।


একাত্তর/এসি