লাল আর সবুজের রঙে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের সেই সন্ধ্যাটি হয়ে উঠেছিল অপূর্ব। বাংলাদেশের পতাকার রঙে সেজে আসা নারী, পুরুষ আর শিশুর অংশগ্রহণে গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়ন হয়ে উঠেছিল উৎসবমুখর। অনুপ দাস ড্যান্স একাডেমি (আড্ডা) এর উদ্যোগে আয়োজিত বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাংস্কৃতিককর্মী, সাংবাদিক থেকে শুরু করে কমিউনিটির বিশিষ্টজনেরা।
নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক অঙ্গণে নৃত্যশিল্পী অনুপ দাস ছিলেন অগ্রগন্য একজন ব্যাক্তিত্ব। বিশেষ করে প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে অনুপ দাস যে ভূমিকা রেখেছেন, তা আজও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে সবাই স্মরণ করে। তারই নামে গড়ে ওঠা অনুপ দাস ড্যান্স একাডেমি নিউইয়র্কে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চায় কাজ করে যাচ্ছে। ২০২০ সালে অনুপ দাস নিজেই এই স্কুলটি গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু কিডনি জটিলতায় তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যান। তবে থেমে থাকেনি স্কুলটির কার্যক্রম। তারই বোন আলপনা গুহ এই স্কুলটির কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন সামনের দিকে। যার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অসংখ্য সুধীজন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (২২ ডিসেম্বর, ২০২২) নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেস মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ছিল বিজয় দিবসের কেক কাটা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো, মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনী, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য ও মনোজ্ঞ সঙ্গীতানুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানটি শুরু হয় বাংলাদেশ ও আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। এরপর বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে কেক কাটেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায়। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুক্তিযাদ্ধা সংসদ নিউইয়র্ক স্টেট শাখা’র কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মনজুর আহমদ, ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা এম এ নাসির। এ সময় তাদেরকে উত্তরীয় পড়িয়ে সম্মানিত করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন অনুপ দাস ড্যান্স একাডেমির প্রধান আলপনা গুহ। সুরাইয়া আলম লাকি এবং পল্লব সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কাউন্সিলর আয়েশা হক, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহিম বাদশা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক সাগর লোহানী এবং সাংবাদিক শামীম আল আমিন। এ সময় সাগর লোহানীর পরিচালনায় নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আমি বিজয় এনেছি’ প্রদর্শিত হয়। দ্বিতীয় পর্বে ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও চন্দন চৌধুরী। আবৃত্তি করেন শিল্পী পারভীন সুলতানা, ক্লারা রোজারিও এবং শুক্লা রায়। এ ছাড়া অনুপ দাস ড্যান্স একাডেমির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে হওয়া বর্ণাঢ্য নৃত্যানুষ্ঠান সবাইকে আলোড়িত করে; হৃদয় ছুঁয়ে যায়। নৃত্য পরিবেশন করেন নির্মা গোল্ডার, ঈশানী চৌধুরী, মৃদুলা আলম, কৃষ্ণা দেব, অর্পিতা পাল, ঈশা রায়, তিশা রায়, চৈতন্য দেব, পারমিতা সাহা, অমৃতা সাহা, তৃপর্ণা, রুচি, সংহিতা, সৃষ্টি, আদৃকা। নৃত্য পরিচালনা করেন মিথান দেব, ড. সারিকা প্রসাদ এবং আভা রায় ভাটনাগার।বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই সেখানে জড়ো হন অসংখ্যা প্রবাসী। হৃদয়ে বাংলাদেশকে ধারণ করে আসা সবার অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানস্থলই যেনো পরিণত হয়েছিল একটুকরো বাংলাদেশে।