গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চাইলেন বিদেশি বন্ধুরা

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায় বাংলাদেশ। বেলজিয়ামে ব্রাসেলস প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি জানানো হয়। চার মহাদেশীয় প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজেক বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মিশন টু ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকস্তানি সেনাবাহিনী রাতের আঁধারে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর আক্রমণ করে, নির্বিচারে সাধারণ মানুষ হত্যা করতে থাকে। ২৫ মার্চ রাতে যে গণহত্যার শুরু, পাকিস্তানী সেনাবাহিনী তাদের দেশীয় দোসর জামাতে ইসলাম, আল বদর, আল শামস ও শান্তি কমিটির সদস্যদের সহযোগিতায় তা চলতে থাকে দীর্ঘ নয় মাস। 

স্বাধীনতা অর্জনের ৫২ বছর পেরোলেও এখনো স্বীকৃতি মেলেনি ইতিহাসের কুখ্যাত এই গণহত্যার। এখনো ক্ষমা চায়নি পাকিস্তানও। এমতাবস্থায় গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তারই অংশ হিসেবে ব্রাসেলস প্রেসক্লাবের এই আলোচনায় অংশ নেন চার মহাদেশের প্রতিনিধি, বুদ্ধিজীবী, ভূক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যরা।  

আলোচনায় অংশ নেন জেনোসাইড ওয়াচের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক গ্রেগরি এইচ. স্ট্যান্টন। অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে গণহত্যার পর স্বজনদের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিটুকুও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, গণহত্যাকে সবসময় অস্বীকার করা হয়। বাংলাদেশেও ১৯৭১ সালের গণহত্যাকে অস্বীকার করা হয়েছে। আর এই অস্বীকার করার অর্থ হলো গণহত্যা অব্যাহত রাখার একটি প্রক্রিয়া। কারণ অস্বীকার করার মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মানসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে ধ্বংস করে দেয়ার প্রচেষ্টা চলে। এমনকি স্বজনদের হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিটুকুও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়। 

সাউথ এশিয়া ডেমোক্র্যাটিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক পাওলো কাসাকা জানান, হলোকাস্টের পর বাংলাদেশের গণহত্যাই বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণহত্যা। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক জান্তারা এখনো ক্ষমা প্রার্থনা করেনি।


পাওলো কাসাকা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তখনকার সামরিকবাহিনী জামায়াতে ইসলামীর যোগসাজশে বাঙালি নিধন শুরু করে। হত্যা করে বুদ্ধিজীবি এবং ধর্মনিরপেক্ষ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে। পাকিস্তানি সেনারা ধর্মীঙ কট্টর শক্তির সহায়তায় ৩০ লাখ মানুষ মারা যায়, এক কোটি মানুষ দেশ ছাড়া, নিপীড়িত হয় তিন লাখ নারী, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের হলোকাস্টের পর সবচেয়ে বড় গণহত্যার ঘটনা।

গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির স্বপক্ষে জোরালো দাবি জানিয়ে লেমকিন ইন্সটিটিউটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি মিসেস আইরিন ভিক্টোরিও মাসিমিনো জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের জন্য গণহত্যার স্বীকৃতি প্রয়োজন।

আইরিন মাসিমিনো বলেন, আমি গণহত্যার শিকার সব বাংলাদেশিসহ সারাবিশ্বের গণহত্যার শিকার মানুষের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচারের জন্যই ১৯৭১ সালে গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রয়োজন। আমি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দেশীয় দোসরদের দ্বারা সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাচ্ছি এবং বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রকে গণহত্যার স্বীকৃতি দেবার আহবান জানাচ্ছি।

অনুষ্ঠানে বেলজিয়ামে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব হাসান সালেহ আশা করেন ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট দ্রুতই গণত্যা বিষয়ক প্রস্তাবনা তুলে ধরবে।


একাত্তর/এসি