বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মেলবোর্ন শাখার নেতারা সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল সরকারের সংসদ সদস্য পিটার খলিল এমপির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
এসময় বাংলাদেশ সম্পর্কে বিরোধী রাজনৈতিক দল ও স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির সাম্প্রতি কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
এতে উপস্থিত ছিলেন মেলবোর্ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. মাহবুবুল আলম এবং সাধারণ সম্পাদক মোল্লা মো. রশিদুল হক।
তারা অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করে একটি চিঠি পিটারের কাছে হস্তান্তর করেছেন।
চলতি বছরের আট ফেব্রুয়ারি অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যের গ্রিন্স পার্টির একজন সিনেটর জ্যানেট রাইস বাংলাদেশ এবং বিশ্বের অন্য অংশের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে উত্থাপন করেন। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্থানীয় আওয়ামী লীগ।
মেলবোর্ন আওয়ামী লীগ জানায়, বাংলাদেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো স্বাধীনতা বিরোধীদের সঙ্গে মিলে মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে। তারা নিপীড়নের মিথ্যা অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগ সরকারের অগ্রগতিকে ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে।
এসময় পিটার খলিল বলেন, তিনি বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং প্রাসঙ্গিক নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
এসময় বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ মানবতার দৃষ্টান্ত হয়েছে বলে তিনি প্রশংসা করেন খলিল। তিনি জানান, অস্ট্রেলিয়া রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে আর্থিকভাবে সহায়তা করে আসছে।
পিটার খলিল বলেন, তিনি জানেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সরকার দেশের অবকাঠামোতে কিছু মৌলিক পরিবর্তন করেছে এবং বাংলাদেশ এখন এশিয়ার একটি উদীয়মান অর্থনীতি। শেখ হাসিনা তার শাসনামলে উন্নয়নের প্রতিটি খাতে অসামান্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি অস্ট্রেলিয়ান সরকারের জন্য কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপের মতো পর্যায়ে নেই। বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে এবং আর এজন্য এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের জন্য অত্যন্ত আগ্রহের বিষয়।
এসময় পিটার বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য, সাংস্কৃতিক বিনিময়, শিক্ষার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
মেলবোর্ন আওয়ামী লীগ, অস্ট্রেলিয়া একই বিষয়ে আলোচনা করার জন্য গত ১৭ জুন ভিক্টোরিয়া রাজ্যের এমপি মিসেস ক্যাথলিন ম্যাথিউস-ওয়ার্ডের (অস্ট্রেলিয়ান লেবার পার্টি) সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজকে পাঠানোর জন্য একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।
পিটার গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংসদীয় যৌথ কমিটির চেয়ারম্যান এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিসেস পেনি ওং এমপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।
একাত্তর/এসি