ওমানে বাংলাদেশের ভিসা স্থগিত সাময়িক

১ নভেম্বর ২০২৩, ডেইলি স্টারের প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে একটা খবর সারা দেশে চাউর হয় যে, ওমান বাংলাদেশিদের নতুন করে ভিসা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে। এই নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিষয়টিকে বেশিরভাগই অন্য বিষয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। 

মার্কিন ভিসা নীতির কারণে সবার মনেই প্রথম যে চিন্তা এসেছে, সেটা হলো ওমানও সম্ভবত বাংলাদেশকে ভিসা স্যাংশন দিয়েছে। আর এটাকে আর দশটা নিউজের মতো বাংলাদেশের ব্যর্থতা মনে করে সবাই গ্রহণ করে আর আলোচনা সমালোচনায় মেতে ওঠে।

ভিসা সাময়িকভাবে কেন স্থগিত করলো ওমান? 

এতোদিন ওমানে শ্রমিকরা ভিজিট ভিসা নিয়েই যেতো পারতো এবং ওমানে গিয়ে আবেদন করে সেই ভিজিট ভিসার বিপরীতে রেসিডেন্স পারমিট বা ওয়ার্ক পারমিট নেয়ার ব্যবস্থা ছিল। ভিসা পরিবর্তনের এই পদ্ধতিকে ওমান আলাদা করতে চাচ্ছে।

তারা ভিজিট ভিসা আর ওয়ার্ক ভিসা এবং রেসিডেন্ট ভিসার আলাদা আলাদা শ্রেণি বিভাগ করতে যাচ্ছে। এই নতুন শ্রেণি বিভাগ তৈরি আর ভিসার ধরণ পরিবর্তন কর্মকাণ্ডকে ঢেলে সাজাতে ওমান আপাতত ভিসা বন্ধ রেখেছে। এবং সেটা শুধু বাংলাদেশ নয়, সব দেশের জন্যই বন্ধ রেখেছে। 

ওমান দূতাবাসের বিবৃতি 

বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেয়া স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত রয়্যাল ওমান পুলিশের ঘোষণাটি মূলত ওমানের শ্রমবাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য আনার প্রয়াস যা ওমানের বর্তমান শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিক ও নিয়োগকর্তা উভয়ের অধিকার নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে। 

ভিসা স্থগিতের এই সিদ্ধান্তটি অন্যান্য দেশে নাগরিকদের জন্যও প্রযোজ্য। এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ। বিজ্ঞপ্তিতে ওমানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশের শ্রমিকদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে বাংলাদেশ- ওমান ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ককে মূল্যায়ন করার ঐকান্তিক চেষ্টা থাকবে বলে উল্লেখ করা হয়। 

ওমানের শ্রম বাজার

বর্তমানে বাংলাদেশ ওমানের সবচেয়ে বড় জনশক্তি সরবরাহকারী। ওমানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা সাত লাখ ৩ হাজার ৮৪০ জন। পাঁচ লাখ ৩০ হাজার শ্রমিক সরবরাহের মাধ্যমে দ্বিতীয় স্থানে আছে ভারত। গত এক বছরে প্রায় দেড় লাখ বাংলাদেশি  শ্রমিক ওমানে গেছে।

অক্টোবরের ১১ থেকে ১৪ তারিখ ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কূটনীতিকরা বাংলাদেশ ভ্রমণে  আসেন। সে সময়ে বেআইনি শ্রমিক পাঠানো ও মানব পাচার রোধে একটি চুক্তি সই করেন।