লাভ শেয়ার বিডির সহযোগিতায় হাসি ফুটছে মানুষের মুখে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসীদের সংগঠন লাভ শেয়ার বিডি ইউএস বাংলাদেশের দরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এছাড়া বিভিন্ন সময় আর্থিক সংকটে পড়া বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষদের নানা ধরনের সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। ‌

ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষদের স্বাবলম্বী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে প্রায় দশটি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেছে সংগঠনটি। পাঁচজন দরিদ্র কিন্তু কর্ম করতে সক্ষম এমন ব্যক্তিকে 'লাভ শেয়ার বিডি চা ঘর' নামক প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসা ধরিয়ে দিয়ে পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে ঝালকাঠি, সাভার, ফেনীসফ বিভিন্ন জেলায় সহযোগিতা পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্ম করে জীবিকা উপার্জনের উপায় খুঁজে পেয়েছেন অর্থ কষ্টে ভুগতে থাকা সেসব মানুষজন।

অন্যদিকে এই প্রকল্পের আওতায় সবজির দোকান, কসমেটিক্স আইটেমের দোকান করে দেয়া হয়েছে। গত দুই মাস আগে হাতে নেয়া এই প্রকল্প (স্বাবলম্বীকরণ প্রকল্প) ইতিমধ্যেই সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রবাসীদের দেশের মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনের এই ভূমিকা প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‌


আর্থিক সংকটা পণ্য পেশাজীবীদের সহযোগিতা
: ঢাকায় কর্মরত আর্থিকভাবে দুর্বল সাংবাদিকদের বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসায় সহযোগিতা করা হচ্ছে। ‌ইতিমধ্যে দুজন সাংবাদিকের পরিবারের চিকিৎসার খরচ দিয়ে সহযোগিতা করেছে সংস্থাটি।

বরিশালের বাকেরগঞ্জে সড়ক নির্মাণ: সংস্থাটির পক্ষ থেকে বরিশালের অজপাড়াগায়ে একটি সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন যেই পথের কারণে গ্রামের মানুষ নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারত না তা ইতিমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। ‌ এর পুরো অর্থায়ন করেছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এই সংগঠন। উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় এমপি আবুল হোসেন।

শিক্ষা সহায়তা: মানুষকে স্বাবলম্বী করা ও অবকাঠামো নির্মাণে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি সংস্থাটির পক্ষ থেকে কিছু শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ব্যয় বহন করা হচ্ছে। যাদের অনেকের পড়াশোনা সমাপ্তির দিকে।

চিকিৎসা সহায়তা: কিডনি রোগে আক্রান্ত এক রোগীকে আর্থিক সহযোগিতার মাধ্যমে চিকিৎসা নিশ্চিত করেছে লাভ শেয়ার বিডি। তার চিকিৎসা এখনো চলমান। ‌ দ্রুত সুস্থ হবেন বলে আশাবাদী তার পরিবার।

লাভ শেয়ার বিডির পরিচালক জাকির চৌধুরী জানান, ২০০০ সাল থেকেই এই সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে। তবে শেখ হাসিনা সরকার সংস্থাটির নিবন্ধন দেয়নি। ফলে বৃহৎ পরিসরে কাজ করার সুযোগ ছিল না।

'এখন আমরা স্বপ্ন দেখছি বাংলাদেশের মানুষকে স্বাবলম্বী করা, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করে দেশের দারিদ্র্য বিমোচন করতে চাই। ইতিমধ্যে আমরা নিবন্ধন পেয়েছি এবং বড় পরিসরে কাজে নেমেছি। বাংলাদেশ থেকে আমাদের নেবার কিছু নেই, শুধু সেবা করার ধারাবাহিকতার সুযোগটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ' যোগ করেন জাকির চৌধুরী।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশীরা দেশের মানুষের জন্য ভাবেন। ‌ কারণ এটাই তাদের শেকড়। বাংলাদেশের মানুষের আর্থিক দুরবস্থা এবং দারিদ্র্য বিমোচনে আমরা সর্বোচ্চ দিয়ে কাজ করে যেতে চাই।