যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটল হিলে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা ‘দ্য বাংলাদেশ প্রজেক্ট’ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেস, থিঙ্কট্যাঙ্ক, সুশীল সমাজ ও ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কংগ্রেসম্যান গ্রেগরি মিকসের কার্যালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কংগ্রেসওম্যান নেলি পু এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
কংগ্রেসওম্যান নেলি পু জানান, কংগ্রেশনাল বাংলাদেশ ককাস বাংলাদেশের নির্বাচনকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে কাজ করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পথে এগিয়ে যাবে।
রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম তার বক্তব্যে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। বলেন, দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।
তিনি দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করেন এবং আসন্ন গণভোট ও নির্বাচনের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। ১২৭ মিলিয়ন নিবন্ধিত ভোটারের অংশগ্রহণকে তিনি ঐতিহাসিক বলে অভিহিত করেন।
আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের সময়েও যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক শক্তিশালী রয়েছে। নির্বাচনে যে দলই ক্ষমতায় আসুক, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। অন্যদিকে ‘দ্য বাংলাদেশ প্রজেক্ট’ -এর প্রতিষ্ঠাতা শামারুখ মোহিউদ্দিন মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখার আহ্বান জানান এবং উন্নয়ন সহায়তা বন্ধের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি তোলেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন রাইট টু ফ্রিডমের নির্বাহী পরিচালক জন ড্যানিলোভিজ, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ ইসলামুল হক। অনলাইনে বক্তব্য তুলে ধরেন মুক্তিফোরামের প্রতিষ্ঠাতা অনুপম দেবাশীষ রায়।
আলোচনা পর্বটি সঞ্চালনা করেন দ্য বাংলাদেশ প্রজেক্টের উপদেষ্টা সাইফ ইকবাল শাহ মোহাম্মদ।
নির্বাচন নিয়ে ভিডিও বার্তা দিলেন রাষ্ট্রদূত মুশফিক