ওয়াশিংটনে মুশফিকুল ফজলকে ‘জুলাই অ্যাওয়ার্ড অব কারেজ’ প্রদান

আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীরা ওয়াশিংটনে ঐতিহাসিক জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদযাপন করেছেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে মর্যাদাপূর্ণ ‘জুলাই অ্যাওয়ার্ড অব কারেজ’ সম্মানে ভূষিত করা হয়।

ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় আয়োজিত ‘জুলাই ৩৬ সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের সম্মিলিত জোটের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্র ক্যাডার কূটনীতিক ও আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো জন এফ ড্যানিলোভিচ এই সম্মাননা তুলে দেন। সেন্ট্রাল ফর সোসাইটি অ্যান্ড কালচার (সিএসসি), জুলাই হাউস ওয়াশিংটন, দ্য বেঙ্গল কাউন্সিল, সেভ বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ আমেরিকান নেটওয়ার্ক ফর ডেমোক্রেসিসহ (ব্যান্ড) বেশ কয়েকটি প্রবাসী সংগঠন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীর পক্ষে তাঁর সহধর্মিণী তামান্না তাহসিন এই সম্মাননা গ্রহণ করেন।

মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে ঢাকা ও নেদারল্যান্ডস থেকে অতিথিরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ২০২৪ সালের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য ও ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেন।

July Award 02
এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম এবং সাবেক বিশেষ সহকারী ফাইয়াজ আহমেদ তাইয়েব আলোচনায় অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে আহমেদ সাবিতের সঞ্চালনায় ‘ফ্রম গ্রিফ টু স্ট্র্যাটেজি: হিলিং, অ্যাক্টিভিজম অ্যান্ড পলিসি এনগেজমেন্ট’ শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্যানেল আলোচনায় বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞরা মূল্যবান মতামত তুলে ধরেন।

দ্য বেঙ্গল কাউন্সিলের মুনিবা ফখরুল নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্য আইনসভার একটি কেস স্টাডি তুলে ধরে প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং অপপ্রচার বা ভুল তথ্য মোকাবিলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

আল জাজিরার কলামিস্ট শফকাত রাব্বী ওয়াশিংটনের নীতি-নির্ধারকদের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ এবং কীভাবে নতুন কূটনৈতিক মেলবন্ধন তৈরি করা যায়, তা ব্যাখ্যা করেন। ড. নুসরাত রহমান যৌথ মনস্তাত্ত্বিক ক্ষত নিরাময় ও সম্মিলিত চেষ্টার মাধ্যমে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের দিকটি উপস্থাপন করেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জুলাই বিপ্লবের সঠিক ইতিহাস ও ন্যারেটিভ বা গল্প বিশ্বদরবারে বিশ্বস্ততার সঙ্গে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্নিত করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এই উদযাপন ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি বিপ্লবের স্মৃতিকে অম্লান রাখার পাশাপাশি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করেছে।