নিউইয়র্কে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত রেস্তোরাঁ কর্মী রাজুর জানাজা সম্পন্ন

সোনালী স্বপ্ন বুকে নিয়ে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন মো. ইউসুফ রাজু (৪৪)। তবে তার সেই স্বপ্ন মিশে গেছে নিউইয়র্কের রাজপথে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে জীবিত ফিরতে না পারলেও আগামী রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে দেশে পৌঁছাবে রাজুর লাশ।

স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিনে বাংলাদেশ সেন্টার জামে মসজিদে ইউসুফ রাজুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত শোকার্ত মুসল্লিদের ঢল নামে। শেষবারের মতো তার মুখ দেখে স্বজন ও প্রবাসীরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। জানাজা শেষে প্রবাসীদের সামাজিক সংগঠন ‘ড্রাম’-এর (দেশিজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং) সদস্যরা নিহতের কফিনে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

জানাজার আগে বক্তব্য দেন বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু এবং নিউইয়র্ক সিটির মুসলিম ধর্মীয় লিয়াজোঁ অফিসার মেহেদী হাসান। এ সময় প্রবাসী নোয়াখালী সোসাইটি, বাংলাদেশ সোসাইটি ও সন্দ্বীপ সোসাইটিসহ বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। পরে জাহিদ মিন্টু লাশ দেশে পাঠানো সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

নিহত ইউসুফ রাজু নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের কংশনগর গ্রামের পাইকের বাড়ির মোহাম্মদ উল্যার মেজো ছেলে। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, টানা সাত বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর সেখানে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন রাজু। এরপর ঋণ নিয়ে ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। আইন অনুযায়ী সেখানে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং পরে বৈধ কাজের কাগজপত্রও পান। যুক্তরাষ্ট্র পৌঁছানোর আগে গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে গিয়েছিলেন তিনি; তার প্রবাসের দিনগুলোতেই জন্ম নেয় ছোট মেয়ে। বর্তমানে দেশে তার ১২ বছর বয়সী কন্যা জান্নাতুল নাইমা ও আড়াই বছর বয়সী জান্নাতুল রাইসা নামের দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর প্রথমে ডেলিভারিম্যান হিসেবে কাজ করলেও পরবর্তীতে নিজের এলাকার এক পরিচিত প্রবাসীর মালিকানাধীন রেস্তোরাঁয় চাকরি নেন রাজু। গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে ব্রুকলিনের ইস্ট নিউইয়র্কের ৮৪২ রকওয়ে এভিনিউতে অবস্থিত রেস্তোরাঁটিতে কাজ করার সময় দুর্বৃত্তের গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তিনি। ওই হামলায় তার সহকর্মী মো. রাসেল গুরুতর আহত হন।

পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী রোববার সকালে ইউসুফ রাজুর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।