মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিন বাংলাদেশির বাজিমাত!

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান- দুই প্রধান শিবিরের হয়েই নিজেদের অভাবনীয় জয়ের ধারা অব্যাহত রেখেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিকেরা। জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে আবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয় হাসিল করে ইতিহাস গড়লেন শেখ রহমান।

একই সঙ্গে কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার আইনসভায় রিপাবলিকান প্রার্থী আবুল খান নিজ নিজ আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন।

জর্জিয়ার স্টেট সিনেটের ৫ নম্বর আসনে শেখ রহমানের বিপক্ষে মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তাঁর জয়ের পথ আগেই সুগম হয়ে গিয়েছিল। তবুও প্রাথমিক গণনায় তাঁর ঝুলিতে দেখানো হয়েছে ৩৫ হাজার ১০১ ভোট। এর আগে দলের প্রাইমারি নির্বাচনে রবিন ম্যাককয়কে পরাজিত করে মনোনয়ন নিশ্চিত করেছিলেন তিনি।

কিশোরগঞ্জের ছেলে রহমান শুধূ জর্জিয়ার প্রথম মুসলিম ও এশীয় বংশোদ্ভূত সিনেটরই নন, ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হওয়ার পর এবারও নিজের রাজনৈতিক একচ্ছত্র প্রভাব ধরে রেখেছেন। এর আগে ২০২৪ সালের নির্বাচনেও তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীকে দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।

অন্যদিকে, নিউ হ্যাম্পশায়ারের রকিংহাম ৩০ আসনে প্রতিনিধি পদে চমৎকার সাফল্য ধরে রেখেছেন পিরোজপুরের সন্তান আবুল খান। রিপাবলিকান দলের অভিজ্ঞ এই রাজনীতিক প্রাথমিক গণনায় ১ হাজার ৮৭৩ ভোট পেয়ে প্রতিপক্ষদের পেছনে ফেলে দেন এবং পরবর্তীতে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ওই আসনে তাঁর সাথে অন্য পদের জন্য রিপাবলিকান প্রার্থী জেসন জ্যানভ্রিনও নির্বাচিত হন। ২০১২ সাল থেকে নিউ হ্যাম্পশায়ারের আইনসভায় টানা প্রতিনিধিত্ব করে আসা আবুল খানের এই জয় তাঁর ছয় মেয়াদের দীর্ঘ ধারাবাহিকতারই আরও এক সোনালী অধ্যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য কানেকটিকাট থেকেও এসেছে খুশির খবর। কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটের ৪ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী এমডি মাসুদুর রহমান তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান জেন জেনিংসকে ধরাশায়ী করে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘সিটি ইনসাইডার’-এর প্রাথমিক সূত্রে তাঁর জয়ের খবরটি স্পষ্ট করা হয়েছে। চাঁদপুরের হাজীগঞ্জের কৃতী সন্তান মাসুদুর রহমান ২০২২ সালে প্রথমবার এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনে ৩৩ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ডেমোক্র্যাটদের জয়ের হাসি উপহার দিয়েছিলেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে এই তিনজন ছাড়াও নাবিলা ইসলাম পার্কস এবং নূরুন নবীসহ মোট পাঁচজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ২০২৬ সালের নির্বাচনে শেষ দুজনের প্রার্থিতা না থাকায় এবারের সাফল্যের মুকুটে প্রধান তারকা হিসেবে উজ্জ্বল ভূমিকা রাখলেন শেখ রহমান, মাসুদুর রহমান এবং আবুল খান।