যেখানে ১০০ টাকার ঋণে ১৮ টাকাই খেলাপি!

দেশের নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিতরণ করা প্রতি ১০০ টাকা ঋণের প্রায় ১৮ টাকাই এখন খেলাপি। যার বেশিরভাগই আবার ইন্টারন্যাশনাল লিজিংসহ ছয় প্রতিষ্ঠানের। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে ঋণ দেয়ায় বিপাকে প্রতিষ্ঠানগুলো। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের আর্থিক খাতে।

২০১৮ সালের শুরুতে, এক লাখে দুই লাখ হবে এমন আশ্বাসে পিপলস লিজিংয়ে ২০ লাখ টাকার পাঁচ বছর মেয়াদি আমানত রেখেছিলেন মোর্শেদা ইসলাম। 

পাঁচ বছর পর এখন লাভ তো দুরে থাক, আসল ফিরে পেতেই দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। শুধু একজন মোর্শেদা নয়, এমন মানুষের সংখ্যা এখন অনেক।

গেল বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঋণ দেয়া ৩৪টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য ১২ হাজারই খেলাপি। এর মধ্যে  ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের খেলাপি সবচেয়ে বেশি। 

পিকে হালদারের প্রতিষ্ঠানসহ একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে চার হাজার ৪২ কোটি টাকা ঋণ দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এখন অনাদায়ী তিন হাজার কোটি টাকারও বেশি। 

প্রশান্ত কুমারের খপ্পরে পড়া এই প্রতিষ্ঠানের ৯০ শতাংশই এখন অনাদায় যোগ্য খেলাপি ঋণ। লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৫টি মামলা হলেও তারা পলাতক। 

অবসায়নের দিকে যাওয়া আরো দুই প্রতিষ্ঠান ফারইস্ট আর ফাস ফাইন্যান্সও ধুঁকছে খেলাপি ঋণের ভারে। 

আরও পড়ুন: মাটি খুঁড়লেই মিলছে ৬৫০ বছরের পুরনো নির্দেশন

সম্প্রতি রুগ্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানটির দায়িত্ব পাওয়া অর্থনীতিবিদ নুরুল আমিন বলেন, লুটপাট হওয়া নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর ভূমিকাই বেশি ছিলো। 

বিশ্লেষকদের মতে, আগামীতে ব্যাংক বর্হিভূত এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানের লুটপাট বন্ধে নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা। 


একাত্তর/আরবিএস