মূল্যস্ফীতি বাড়লেও আগামী বাজেটে বাড়ছে না সামাজিক নিরাপত্তার আওতা। তবে ব্যয়ের হিসাবে পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ বাড়লেও এর বেশিরভাগই খরচ হবে পেনশন খাতে।
সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলে পেনশন খাতকে যুক্ত করা বরাদ্দের অংক বাড়ানো ছাড়া আর কিছুই নয় বলে জানিয়েছেন অর্থনীতির বিশ্লেষকরা।
তবে, আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১১ লাখ উপকার ভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, দেশে সামাজিক নিরাপত্তা-বেষ্টনী খাতের আওতায় ১২৩টি কর্মসূচি বা বিষয় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে ২৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলোর মধ্যে ৮টি কর্মসূচি হচ্ছে নগদ ভাতা, আর ১১টি খাদ্য সহায়তা।
প্রতি বছর বাজেট বক্তব্যে সরকার যে কোটি খানেক মানুষকে ভাতা দেয়ার ঘোষণা দিয়ে থাকে তার বেশিরভাগই বয়স্ক, বিধবা, দুস্থ চা শ্রমিক, তৃতীয় লিঙ্গ, বেদে কিংবা প্রতিবন্ধী।
আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ থাকছে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের ৫ শতাংশ বেশি। যার বেশিরভাগ অর্থ ব্যয় হবে পেনশন খাতে।
এ বছর এক হাজার ১১০ কোটি টাকা বাড়িয়ে এ খাতে বরাদ্দ থাকছে ২৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। এছাড়া নতুন অর্থবছরে ৫৭ লাখ মানুষকে বয়স্ক ভাতা দেয়া হবে ৩ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা ২৪ লাখ বিধবা ভাতায় বরাদ্দ ১ হাজার ৪৯৫ কোটি টাকা।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আওতা বাড়ছে শুধু বয়স্ক ও বিধবাদের ক্ষেত্রে। এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরও ১০০ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে যুক্ত হবে ১১ লাখ নতুন উপকার ভোগী।
সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে এর সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৮ লাখ। তবে ভাতার পরিমাণ বাড়বে না। এ কর্মসূচির আওতায় গত তিন অর্থবছর ধরে উপকার ভোগীরা প্রতিমাসে ৫০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন, যা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: সরকারের সামনে বড় বাধা জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণ
বিশ্লেষকরা বলছেন, খাত ভিত্তিক বরাদ্দ না বাড়ানো গেলেও ওএমএস, ভিজিডি ভিজিএফ প্রকল্পে চালসহ খাদ্য সরবরাহ বাড়ানোর কথা। পেনশন খাতকে সামাজিক নিরাপত্তা আওতার বাইরে রাখা জরুরি বলেও জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ।
টাকার অংকে বাড়লেও জিডিপির হিসাবে সামাজিক নিরাপত্তা-খাতে বরাদ্দ চলতি বছরের চেয়ে খানিকটা কমে দাঁড়াবে ২.৭০ শতাংশে।
একাত্তর/আরএ