চাল-তেল কিংবা মশলাপাতি সব জিনিসের লাগামহীন দামে পুড়ছে বাজার। বেশিরভাগ নিম্ন আয়ের মানুষ এই চড়া বাজারের সাথে তাল মিলাতেই পারছেন না।
এ অবস্থায়, জীবনযাত্রার খরচ নিয়ন্ত্রণই সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ, জানালেন পরিকল্পনামন্ত্রী। তার মতে, বাজেটে মূল্যস্ফীতি থাকবে সাড়ে পাঁচ শতাংশের ঘরে।
চারজন মানুষের জন্য সোয়া এক কেজি চাল, তাও দুবেলা; আয় কম, এ জন্য মাছ মাংসের বালাই নেই। তাই সাথে করলা, আলু খাদ্য তালিকায় রেখেছেন এক গৃহিণী।
কিন্তু এই খাবারও কি ঘাম ঝরানো পরিশ্রম থেকে উপার্জন দিয়ে প্রতিদিন খাওয়া যাচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে দরিদ্র মানুষের জবাব একটাই, পেট আর চলছে না।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাবে, করোনার প্রভাবে গেল দু’বছরে দেশে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে তিন কোটি ২৪ লাখে।
যাদের বেশিরভাগেরই মজুরি ফেরেনি আগের জায়গায়, কর্মসংস্থানেও নেই অনেকেই। অনেকে আবার ফিরে গেছেন গ্রামে। আবারও ফিরে এসে ফিরতে পারেননি কাজের জায়গায়।
এমন অবস্থায় বাড়তি দামে প্রতিটি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে রীতিমতো বেকায়দায় পড়েছেন তারা।
পরিস্থিতি এমনই যে সরকারি হিসাবেই প্রতিটি পণ্য কিনতে গিয়ে খরচ হচ্ছে ১০০ টাকার বিপরীতে বাড়তি সাড়ে ছয় টাকা।
তবে এই মূল্যস্ফীতি রাখতে চায় না সরকার। তাই আসছে বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে পাঁচ দশমিক ছয় শতাংশে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলছেন, সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে পণ্য আমদানিতে কর, শুল্ক ছাড়সহ একাধিক উদ্যোগ থাকছে এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে।
আরও পড়ুন: সাংবাদিক প্রদীপ হত্যায় চারদিনেও গ্রেপ্তার হয়নি ঘাতক
বিশ্লেষকরা মনে করেন, এতেও কাজ হবে না। কেননা, দরিদ্র মানুষদের হাতে নগদ টাকার সরবরাহ বাড়ানো একই সাথে তাদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিতই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
তারা বলছেন, সামাজিক সুরক্ষা খাতের প্রকৃত অর্থে বলয় বৃদ্ধি, সুলভ মূল্য সরকারি পণ্য সেবা ক্রয় করার সক্ষমতা যাতে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষগুলো পায় সে বিষয়েও নজরদারি এখন জরুরি।
একাত্তর/আরএ
