ডিমের বাজারে অস্থিরতার সুযোগে প্রতি পিস ডিমে তিন টাকা ১৫ পয়সা লাভ করেছে দেশের অন্যতম বড় কৃষি শিল্প প্রতিষ্ঠান- কাজী ফার্মস গ্রুপ।
প্রতিষ্ঠানটি দাবি করেছে, ডিলারদের মধ্যে নিলামে সর্বোচ্চ দরদাতার কাছেই তারা ডিম বিক্রি করে। ফলে অস্বাভাবিক হলেও, সেটি নিয়মের মধ্যেই হয়েছে।
এই অস্বাভাবিক মুনাফার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বুধবার (২৪ আগস্ট) কাজী ফার্মসকে তলব করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
গেলো ১৩ আগস্ট প্রতি পিস ডিম ১২ টাকায় বিক্রি করে কাজী ফার্মস লিমিটেড। এতে ডিম প্রতি তাদের লাভ হয় ৩ টাকা ১৫ পয়সা।
তবে ডিমের এই রেকর্ড দাম উঠতে শুরু করে মূলত ৪ আগস্ট থেকে। কারণ ৩ আগষ্ট পর্যন্ত তারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করেছে গড়ে ৮ টাকা ৮৫ পয়সা দরে।
আরও পড়ুন: ডিমকাণ্ডে অতি মুনাফার ব্যাখা দিতে কাজী ফার্মসকে তলব
মাত্র একদিন পরেই ৪ আগস্ট থেকে সেই ডিম তারা ৯ টাকা ৬২ পয়সায় বিক্রি করে। আর ৮ আগস্ট গিয়ে সেই দাম ওঠে ১০ টাকা। ৯ আগস্ট ১০টাকা ২০ পয়সা।
পরের দিন ১০ আগস্টে ১০ টাকা ৬৫ পয়সা। আর ১১ আগস্টে ১১ টাকা ৫ পয়সা দরে বিক্রি করে কাজী ফার্মস। এই ঘটনায় সারাদেশে তৈরি হয় তীব্র প্রতিক্রিয়ার।
কাজী ফার্মস বলছে, প্রতিদিন সকাল ৯টায় অনলাইন নিলামের মাধ্যমে তারা ডিমের দর ঠিক করে। তাদের ১২০ জন ডিলারের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ দরদাতারাই মূলত ডিম কিনতে পারেন।
ফলে, ডিম কেনার জন্য কোম্পানির রেটের চেয়েও বেশি রেট দেয় ডিলাররা। আর এটাই তাদের দর নির্ধারনের নিয়ম বলে জানালেন কাজী ফার্মসের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক সোহেল রানা।
ভোক্তা অধিকার বলছে, উৎপাদন ব্যয় না বাড়লেও রেটে কারসাজির মাধ্যমে অস্বাভাবিক মুনাফা করেছে এই প্রতিষ্ঠান। ভোক্তা অধিকার কার্যালয়ে হাজির হয়ে তাদেরকে এর ব্যাখ্যা দিতে হবে।
উৎপাদক, পাইকারী বা খুচরা বিক্রেতা; বাজারে কারসাজি করলে কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না হলে হুশিয়ারী দিয়েছে ভোক্তা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ, একদিন আগেই ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় একদিনে প্রতি পিস ডিমের দাম তিন টাকা বাড়ায় বিষ্ময় প্রকাশ করে।
এফবিসিসিআই মনে করে, হঠাৎ ডিমের দাম বাড়িয়ে অতি মুনাফা হাতিয়ে নিয়েছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি।
একাত্তর/এআর