কলকাতার মেলায় ঢাকাই জামদানি ও তাঁতের শাড়ির কাটতি

করোনার কারণে দুই বছর বন্ধ থাকার পর আবারও কলকাতায় শুরু হয়েছে হস্তশিল্প ও পর্যটন মেলা। অষ্টম বছরের মতো এই মেলায় এবারের প্রতিপাদ্য ‘বাংলাদেশ’। মেলায় ভারত ও বাংলাদেশের ৪০ জন ব্যবসায়ী অংশ নিয়েছেন। মেলায় ঢাকার জামদানি থেকে রাজস্থানের রেজাই, কলকাতার বুটিকসহ নানা পোশাকের পসরা বসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা এই মেলা খেলা থাকবে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯ট পর্যন্ত।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে কলকাতার মহাবোধি সোসাইটি হলে শুরু হওয়া এই মেলার আয়োজক দুই বাংলার সমাজকর্মী ও সাংবাদিকদের সংগঠন গ্রাসরুট এবং এসএসজিডিএফ।

মেলার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, মেলা শুরু হতেই কলকাতার গ্রাহকদের ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। মেলায় উচ্ছ্বসিত দুই বাংলার ব্যবসায়ীরা। 

তারা জানান, ঢাকাই  জামদানি, টাঙ্গাইলের সূতি শাড়ি তো বটেই পাশাপাশি কলকাতার মানুষের চাহিদার শীর্ষে রয়েছে বাংলাদেশের গামছা ও লুঙ্গি। সঙ্গে হাতে তৈরি নকশি কাঁথার বেডশিট, গেঞ্জি ও মশারির চাহিদা রয়েছে ব্যাপক। 

বাংলাদেশের ইরা বুটিকসের কর্নধার ইলিনা রাহী ইরা বলেন, দুর্গাপূজা আসন্ন, তাই ক্রেতাদের বাড়তি সাড়া পাচ্ছি। 

বাংলাদেশের আরেক নারী ব্যবসায়ী রোকসানা রিপু বলেন, মেলায় কলকাতার মানুষের মধ্যে ঢাকাই জামদানি, টাঙ্গাইলের শাড়ি, হাতে বোনা টুপির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। যদি আরও কিছুদিন আগে থেকে এই মেলা শুরু করা যেতো তাহলে আরও ভালো বাজার পাওয়া যেতো। 


মেলায় ঘুরতে আসার কলকাতার দিশারী পাল বলেন, বাংলাদেশের কাপড়ের দাম কিছুটা বেশি হলেও গুণগতমান অনেক ভালো। বাবার জন্য বাংলাদেশের গামছা এবং লুঙ্গি কিনতে মেলায় এসেছি। 

দিশারী পালের মতোই কলকাতার আইটি কর্মী সুশোভন হাজরা এসেছিলেন মায়ের জন্য পুজোর উপহার ঢাকাই জামদানি নিতে। 

তিনি বলেন, কলকাতায় ঢাকাই জামদানি নামে অনেক শাড়ি বিক্রি হয়। তবে তার বেশিরভাগই নকল। মাকে পুজোর সময় আসল ঢাকাই জামদানি দিতে পেরে তিনি আনন্দিত।  

মেলা আয়োজক ও ব্যবসায়ী নাদিরা হোসেন রূপা বলেন, প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে ৩০ জনের বেশি ব্যবসায়ী মেলায় অংশগ্রহণ করলেও চলতি বছর মেলায় এসেছেন মাত্র ১৬জন ব্যবসায়ী। মহামারীর ধকল কাটিয়ে মেলায় ভালো সাড়া মিলবে এই নিয়ে অনেকেই সন্ধিহান ছিলেন। তাছাড়া চলতি বছর মেলার স্থান পরিবর্তন হওয়ায় মেলা কতটা ব্যবসা সফল হবে সেই নিয়েও প্রশ্ন ছিল। তবে সমস্ত বাধা কাটিয়ে প্রতিবছর মেলায় অন্য বছরগুলোর তুলনা তো বেশি সাড়া পেয়েছি আমরা। মেলা কিছুটা আগে শুরু করলে ভালো হতো, আমরা চেষ্টা করবো পরের বছর কিছুটা আগে শুরু করার।

কলকাতার মেলা কমিটির অন্যতম আয়োজক সুমিত রায়চৌধুরী বলেন, অষ্টম বছরে আমরা হস্তশিল্পের পাশাপাশি দুই বাংলার অফবিট পর্যটন ক্ষেত্র গুলোকে প্রজেক্ট করতে আলাদা কাউন্টার করেছি। সেখানেও ভালো সাড়া পেয়েছি। তবে অনিবার্য কারণে মেলার আগের জায়গা পরিবর্তন করতে হয়েছে। ফলে চলতি বছর মেলা শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়েছে। এই বছর আমাদের মেলার থিম ‘বাংলাদেশ’। 

আরও পড়ুন: চবিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক ছাত্রলীগের

তিনি বলেন, আমরা শুধু এই মেলাকে কেনাবেচার মাধ্যম হিসেবে দেখি না। এর মাধ্যমে ভারতের কলকাতা, রাজস্থানের ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সম্পর্ক গড়ে উঠছে। এটি দুই দেশের ব্যাবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বড়ো পাওয়া। 


একাত্তর/এসি