আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে অনীহা: পরিকল্পনামন্ত্রী

বিদেশ থেকে টাকা আনতে ঢালাওভাবে প্রণোদনা আর সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপারে প্রান্তিক মানুষের অনিহার কারণে টাকা পাচার আর হুন্ডি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান। 

তার মতে, প্রবাসী আয় দেশে আনতে বিদেশে যেসব দেশীয় যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তাদেরও আচরণগত সমস্যা আছে তাই বৈধপথে টাকা পাঠাতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন প্রবাসীরা। 

বুধবার (৯ নভেম্বর) অর্থনীতি রিপোর্টারদের সংগঠন ইআরএফ আয়োজিত বৈধপথে প্রবাসী আয় শীর্ষক আলোচনায় বক্তারা জানালেন,  আর্থিক খাতে অনিয়ম ও অর্থ পাচারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। পাচারকারী ও অনিয়মের স‌ঙ্গে জ‌ড়িতরা সমাজে অনেক ক্ষমতাবান। এসব কা‌রণে তাদের বিরুদ্ধে তদন্তে নামলে বেকায়দার পড়েন তদন্তকারী সংস্থার কর্মকর্তারা।

বক্তারা বলেন, অনিয়ম-দুনীতি আড়াল করতে তাদের বিভিন্ন ধরনের প্রলোভন দেখা‌নো হয়। তাদের ঘুষ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে রাজি না হলে এক ধরনের হুমকিতে থা‌কেন এসব কর্মকর্তারা, নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে প‌ড়েন তা‌দের প‌রিবারের সদস্যরাও। যার কার‌ণে চাইলেও সততার সঙ্গে কাজ করা যায় না। এদিকে অর্থপাচার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে অর্থায়ন প্রতিরোধে কাজ করে থাকে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। ত‌বে তা‌দের ‌নিজস্ব কো‌নো ক্ষমতা নেই বললেই চলে।  

বক্তারা জানান, প্রবাসী আয় বাড়াতে একক ডলারের দাম নির্ধারণ, খোলা বাজারের সাথে বৈধপথে দামের বিস্তর ব্যবধানসহ নানা কারণে হুন্ডিতে আসছে টাকা।

এ সময় অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থ পাচার ও কালো টাকা না কমলে বৈধ পথে রেমিট্যান্সও বাড়বে না। 

তি‌নি ব‌লেন, বাংলাদেশে আইন আছে কিন্তু এর প্রয়োগ নেই। ব্যাংকে ডলারের দাম এক রকম আবার খোলা বাজারে আরেক রকম। এই পার্থক্য কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ফরেন এক্সচেঞ্জ অথরাইজড ডিলারস অ্যাসোসিয়েশন (বাফেদা) ও অ্যাসোসিয়েশন অফ ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি) কাজ করছে। 

বাজারের চাহিদা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের আরও দ্রুত কার্যকরী উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এ অবস্থায় ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসী আয় বাড়াতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামো উন্নয়ন, বিদেশে বাংলাদেশে একক বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানসহ হুন্ডির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবার তাগিদ দেন বক্তারা। তবে পরামর্শ যায় হোক না কেন, ঢালাওভাবে প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা সুবিধা আর সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সেবা নিতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় পড়ে বৈধপথে অর্থ পাঠাতে অনিহায় হুন্ডি ও অর্থ পাচার বাড়ছে বলে মনে করেন পরিককল্পনা মন্ত্রী। 

তার আক্ষেপ, প্রবাসী আয় আনতে বিদেশে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করছে তারাও প্রবাসী বান্ধব নয়, ফলে আয় হারাচ্ছে দেশ । এটিতে চ্যালেঞ্জ বলেও ভাবছেন তিনি। 

বৈধপথে ডলার আনতে তাই বাংলাদেশ ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রণালয়কে কেবল কাগুজে সিদ্ধান্ত নয় বরং দৃশ্যমান উদ্যোগ নেবার আহ্বান জানালেন পরিকল্পনা মন্ত্রী। 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি শারমীন রিনভী ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম রাশিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিকল্পনামন্ত্রী আব্দুল মান্নান। 

এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন—অর্থনীতিবিদ ও পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর, পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান ড. এম মাশরুর রিয়াজ ও ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মনিরুল মওলা প্রমুখ।



একাত্তর/এআর