বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান অবস্থা নিয়ে গভর্নরের ধারণা কেমন, আমরা কীভাবে এগোচ্ছি তা জানতে চেয়েছে ফেডের প্রতিনিধি দল।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেম (দ্যা ফেড) এর ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সঙ্গে বৈঠক করেছেন, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ সদস্য ছিল বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মেজবাউল হক।
বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার (১ মার্চ) বিকেলে আসা ফেড এর এ প্রতিনিধি দলে রিলেশনশিপ ও হিসাব সংরক্ষণ বিভাগের কর্মকর্তারাও ছিলেন বলে জানিয়েছেন মেজবাউল হক।
ফেডের প্রতিনিধি দলের বাংলাদেশ ব্যাংকে আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ‘তারা (নিউইয়র্ক ফেড) আমাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এটি একটি ব্যাংক কল। ফেডের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি হিসাব সংরক্ষণ করা আছে। যেখানে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে আমাদের লেনদেন করা হয়। তারা আমাদের কাছে জানতে চেয়েছেন লেনদেনে কোনো সমস্যা হচ্ছে কি-না, কি করলে সেবা আরো ভালো করা যায়, তা নিয়ে কথা হয়েছে।’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ মুখপাত্র আরও জানান, ‘আমরা যে ট্রানজেকশন (লেনদেন) করছি, এ বিষয়ে তাদের যে আন্ডারস্টান্ডিং (বোঝাপড়া) রয়েছে-তা আমাদের কাছে বলেছেন তারা।’
গভর্নরের সঙ্গে হওয়া আলোচনার বিষয়ে মেজবাউল হক বলেছেন, ‘বৈশ্বিক অর্থনীতির চলমান অবস্থা নিয়ে গভর্নরের ধারণা কেমন, আমরা কীভাবে এগোচ্ছি তা জানতে চেয়েছেন তারা। মূলত এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে।’’
বাংলাদেশের কাছে থাকা বৈদেশিক মুদ্রার সিংহভাগই রয়েছে ফেড এর হিসাবে। নগদ ও বিনিয়োগ আকারে এ অর্থ রাখা হয়েছে। এ হিসাব থাকা অর্থ থেকেই ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সুইফট সিস্টেমে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে (ফেড) রাখা বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করা হয়েছিল হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফটের সার্ভারে ম্যালওয়্যার পাঠিয়ে হ্যাকিং করেছিল হ্যাকার দলটি।
ওই অর্থ ফিলিপাইনের স্থানীয় মুদ্রা পেসোর আকারে চলে যায় তিনটি ক্যাসিনোতে। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপিন্স সরকার বাংলাদেশ সরকারকে বুঝিয়ে দিলেও বাকি ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার আর পাওয়া যায়নি।
রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া ৮ কোটি ১০ লাখের মধ্যে ৬ কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধারে ২০২০ সালে মামলা করেছিল বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেই মামলা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি।
সেই ঘটনায় সুইফট সিস্টেমের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসলেও ফেডের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিনিধি দল আসেনি।
২০১৬ সালে রিজার্ভ চুরির ওই ঘটনা বাংলাদেশের মানুষে জানতে পারে এক মাস পর, ফিলিপিন্সের সংবাদ মাধ্যমের একটি খবরের মাধ্যমে। তখন বিশ্বজুড়ে ঘটনাটি আলোড়ন তুলেছিল এই ঘটনা।
ওই ঘটনার জেরে তখনকার গভর্নর আতিউর রহমানকে পদত্যাগ করতে হয়। দুই ডেপুটি গভর্নরকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কিন্তু রিজার্ভ সংরক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এখনো কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজধানীর মতিঝিল থানায় বিষয়টি একটি মামলা দায়ের করা হয় যার চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা দেয়নি পুলিশ।
একাত্তর/এআর