সবজির বাজারে স্বস্তি নেই, ব্রয়লার দামও কমেনি

ঈদের সময় হুট করে বেড়েছে ব্রয়লার মুরগী দাম। যা এখনো কমেনি। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন বাজারে আসা ক্রেতারা। স্বস্তি নেই সবজির বাজারেও।

রোজা শেষ হওয়ার পর নতুন করে ডজনপ্রতি ডিমের দাম ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার রাজধানীর মালিবাগ, কারওয়ান বাজার, মহাখালী ও মধুবাগ কাঁচাবাজার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, ঈদের পরে প্রথম সাপ্তাহিক ছুটির দিন সকালে বাজার করতে এসেছেন অনেক ক্রেতা। বিক্রেতাদের সঙ্গে দামাদামি করে কিনছেন শাক-সবজি, মাছ-মাংসসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।

দামাদামিতে খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না ক্রেতারা। দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া দামের কারণে চাহিদার তুলনায় কম বাজার করে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৪০-২৫০ টাকা। এছাড়া সোনালী মুরগী ৩৬০-৩৮০ টাকা এবং লেয়ার ৩৫০ টাকা।

ফার্মের বাদামি রঙের ডিমের ডজন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকা এবং সাদা রঙের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১৫ থেকে ১২০ টাকায়।

টিসিবির হিসাবে বাজারে চাল, ডাল, আটা-ময়দা ও সয়াবিনের দামে কোনো পরিবর্তন নেই। তবে গত এক সপ্তাহে আলু, পেঁয়াজ, রসুন ও আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে।

টিসিবি বলছে, বাজারে দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়েছে।

গত এক মাসে দেশি রসুন ১৮ শতাংশ ও আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ। আমদানি করা আদার দাম বেড়েছে ১৮ শতাংশ।

টিসিবি বলছে, বাজারে প্রতি কেজি রুই মাছের দাম পড়ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা। গরুর মাংসের কেজি ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার টাকা থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়।

গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়- মালিবাগ ও মধুবাগ বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকা, কাঁচা আম ৭০-৮০ টাকা, মারফা ৯০ টাকা, ক্যাপসিক্যাম ২৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০-৭০ টাকা, গাজর ৮০-৯০ টাকা, কাকরোল ১০০-১১০ টাকা, কচুরমুখী ১৫০-১৬০ টাকা, সজনে ডাটা (আঁটি) ৫০-৬০ টাকা, মিষ্টি আলু ৫০-৬০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, উস্তা ৬০-৭০ টাকা, করোলা ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৯০-১০০ টাকা।

এছাড়া বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকায়, ধুন্দুল ৭০-৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, ঝিঙ্গা ৭০-৮০ টাকা, পটল ৬০-৭০ টাকা, পেঁপে ৬০ টাকা, আলু ৩২ টাকা, লতি ৮০ টাকা, চাল কুমড়া (পিস) ৫০-৬০ টাকা, শসা ৭০-৮০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৩০ টাকা, ফুলকপি (পিস) ৫০ টাকা, বাঁধাকপি (পিস) ৫০ টাকা, লাউ (পিস) ৬০, কাঁচা কলা (হালি) ৬০ টাকা, কলম্বো লেবু (হালি) ১০০ টাকা, কাগজি লেবু (হালি) ৪০ টাকা ও এলাচি লেবু (হালি) ১০০ টাকা।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। প্রতি কেজি বোয়াল মাছ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়, পাবদা ৫০০ টাকা, টেংরা ৭০০ টাকা, পুঁটি ৮০০ টাকা, ফলি মাছ ৭০০ টাকা, বাতাসী ৬০০-৮০০ টাকা, কোরাল ৭০০ টাকা, বাইলা ৮০০ টাকা, বাটা ৫০০ টাকা।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশকে ১২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক

দেশি কই ১২০০ টাকায় বিক্রি হলেও মাগুর বিক্রি হচ্ছে ৫০০ টাকায়, শিং ৪০০ টাকা, রুই ৩০০-৩৫০ টাকা, কাতল ৩৫০-৪০০ টাকা, রূপচাঁদা ১৪০০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৭০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১০০০ টাকা, পোয়া ৮০০ টাকা, তপসী ৭০০ টাকা, মলা ৬০০ টাকা, চাপিলা ৮০০ টাকা, ইলিশ ১৬০০-২০০০ টাকা এবং কাচকি বিক্রি হচ্ছে ৬০০ টাকায়।

একাত্তর/আরএ