সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে ডিমের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, এজেন্ট, ডিলার ও ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করবে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সোমবার বেলা ১১টায় অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ডিমের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা দরে। অর্থাৎ খুচরায় একটি ডিমের দাম পড়ছে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা।
এদিকে, পাইকারিতে বাদামি ডিমের শ’ বিক্রি হচ্ছে ১২৭০ টাকায়। অথচ গত মাস পর্যন্তও খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিমের দাম ছিল ১৪০-১৪৫ টাকা।
ডিম ব্যবসায়ী ও উৎপাদকরা বলছেন, সরবরাহে বিঘ্ন, উৎপাদন কম হওয়া এবং উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে।
এই অবস্থায় ডিমের দামের লাগাম টেনে ধরতে সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করতে চায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ডিমের দাম কমিয়ে আনতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানও চালিয়ে আসছে সংস্থাটি।
বর্ষায় খামারের ক্ষতি হয় বলে প্রতি বছর এই সময় ডিমের দাম কিছুটা বাড়ে। গত বছরের এই সময়ে প্রতি ডজন ডিমের দাম উঠেছিল ১৫৫ টাকা। তবে বর্ষা শেষে তা আবার কমে গিয়েছিলো।
সেবারও ডিমের আড়তদার, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ী, উৎপাদনকারী ফার্ম ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান, এজেন্ট, ডিলার ও ব্যবসায়ী সমিতির সঙ্গে মতবিনিময় সভা ডেকেছিলো জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
অন্যদিকে, রোববার সকালে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, ডিমের দাম না কমলে প্রয়োজনে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ডিমের দাম কত হওয়া উচিত তা প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের নির্ধারণ করতে হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সারা দেশেই ডিমের বাড়তি দাম, চলছে অভিযান
তবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম মনে করছেন, বাজারবিন্যাস করতে পারলে ডিম আমদানির প্রয়োজন পড়বে না।
আর ডিমের দাম নির্ধারণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এটা দাম নির্ধারণ করার বিষয় না। এর আগে ২০১০ সালে ছোটো বাচ্চা মুরগি ও অন্যান্য বিষয়ের দাম নির্ধারণের কথা উঠেছিল। সেক্ষেত্রে আদালত প্রশ্ন তুলেছিলেন, মন্ত্রণালয় এভাবে দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে না।
একাত্তর/এসজে